০৮ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিযোগ জানাতে হেল্পলাইন ৩৩৩ চালু করলো ঢাকার উত্তর সিটি

অভিযোগ জানাতে হেল্পলাইন ৩৩৩ চালু  করলো ঢাকার উত্তর সিটি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নাগরিক সেবা প্রদান সংক্রান্ত যে কোন তথ্য পেতে ও সিটি কর্পোরেশন সংক্রান্ত যে কোন প্রকার অভিযোগ জানাতে হেল্পলাইন নম্বর ৩৩৩ চালু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি)। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবাটির যৌথভাবে উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সংস্থাটির মেয়র আতিকুল ইসলাম।

এর মাধ্যমে মোবাইল ফোনেই ডিএনসিসির যে কোন নাগরিক সংস্থাটির আওতাধীন বিভিন্ন ধরনের সেবা ও সেবার তথ্য নাগরিকেরা পাবেন। একইসাথে ডিএনসিসি এলাকার নাগরিক অথচ বিদেশে বসেই যাতে এ সেবা পেতে পারেন সেজন্য ০৯৬৬৬৭৮৯৩৩৩ নাম্বারে ফোন করে সেবা গ্রহণ ও অভিযোগ করতে পারবেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মান্নান প্রমুখ বক্তব্যপ্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তথ্য সেবা সবসময় এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রধামন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ৩৩৩ এর উদ্বোধন করেন। এই সেবার সাথে আজ থেকে যুক্ত হল ডিএনসিসি। মেয়র আতিকুল ইসলামের বারবার এর জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। তার স্পৃহাতেই সিটি কর্পোরেশনের সেবাগুলো ডিজিটাল হল। ইতিমধ্যে আমরা আমাদের এক সেবা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি প্রায় ১৬৪টি সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দিচ্ছি। তিনি বলেন, ডিএনসিসির কোন নাগরিক যদি নিরক্ষরও হয় তিনিও সেবা পাবেন ৩৩৩ এ। তিনি ফোন দিয়ে সেবা চাইলে সিটি করপোরেশন থেকে লোক তার কাছে গিয়ে তাকে সেবা দেবেন, ফরম পূরণ করে দেবেন। এই শহরের দেড় কোটি মানুষকে ডিজিটাল মাধ্যমে বিশ্বের আধুনিক সেবা দিতে চাই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের চালু হওয়া অন্যান্য হেল্পলাইন গুলোর সাথে ৩৩৩ কে যুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। যার মাধ্যমে অন্যান্য সংস্থাগুলোর সেবাও এক জায়গা থেকেই নাগরিকদের দেয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে একটি প্রলয়ংকারী ঝড়ের কবলে পরে বাংলাদেশের প্রায় দেড় লক্ষ লোক মারা যায়। সে সময় আধুনিক কোন সেবা প্রদান করতে পারেনি তৎকালীন সরকার। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঘুর্নিঝঢ় বুলবুলের ঘাতে শুধুমাত্র আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। শুধুমাত্র ডিজিটাল সেন্টারগুলেঅতে তথ্য চেয়ে ২৮ হাজার লোক ফেন কওে ঘুর্নিঝড় সংক্রান্ত খবর নিয়েছেন।

যার অন্যতম কারণ ডিজিটাল সেবা চালু করার। যার প্রধান উদ্যোক্তা প্রধানম,ন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। যিনি বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম কারিগর তথা মূল আর্কিটেক্ট। জনাব পলক বলেন, সরকার সবকিছুতেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে কম সময়ে সর্বোচ্চ সেবা দিতেই ৩৩৩ এর সাথে ডিএনসিসিকে যুক্ত করেছে। এর ফলে খুব সহজেইু নাগরিকগণ যে কোন প্রকার অভিযোগ ও সেবা পেতে পারবেন। ফলে এর মাধ্যমে দেশের প্রথম কোন সিটি কর্পোরেশন কতৃপক্ষ ৩৩৩ এর সাথে যুক্ত হলেঅ। যার পথ ধওে অন্য সকল সিটি কর্পোরেশনই সেবার দিকে হাত বাড়াবে। এজন্য তিনি উত্তর সিটির মেয়রকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

জুনায়েদ আহমেদ বলেন, আমরা নাগরিক জীবন সহজ করতে ডিজিটালাইজড করছি। এরই অংশ হিসেবে একবারের বেশী তথ্য নয় পদ্ধতি চালু করছি। এর ফলে যে কোন নাগরিক সরকারের যে কোন একটি স্থানে তার তথ্য প্রদান করলে এরপর থেকে আর কোন স্থানেই যে কোন প্রকার সেবা প্রাপ্তিতে কোন প্রকার তথ্য দিতে হবে না। অর্থাৎ নট মোর দেন ওয়ানস পদ্ধতি। এটি চালু হলে নাগরিকদেরকে বারবার তথ্য প্রদান বা ফরম পূরণ করতে হবে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ উত্তর সিটিতে প্রায় দেড় কোটি নাগরিক বসবাস করেন। এমনকি বিশ্বের ১৫২ টি দেশেও দেড় কোটিরকম নাগরিক বসবাস করে। ফলে ডিএনসিসি যে কোন দেশের চেয়েও বেশী নাগরিককে সেবা দিতে পারবে ৩৩৩ এর মাধ্যমে। যা একটি চ্যালেঞ্জ বটে। এজেন্য এ টু আই প্রকল্প সর্বোচ্চ সহায়তা করবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশা করি আগামী ২০২১ সালেল মধ্যেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ২৮০০ প্রকার নাগরিক সেবা প্রদান করতে পারবো। এর মধ্যে ৬০০ প্রকার সেবা চালু করা হয়েছে। বাতি সেবা প্রদানের প্রস্তুতি চলছে। আমরা একই ছাতার নীচে সেবার মান বাড়িয়ে ও ফি কমিয়ে আনতে কাজ করছি। এ জন্য তিনি সকল শ্রেণীর নাগরিকদের সহায়তা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন,এখন থেকে যে কোন নাগরিক এ নাম্বারে কল দিয়ে সকল প্রকার নাগরিক সমস্যার সমাধানকল্পে অভিযোগ জানাতে পারবে। একইসাথে বিভিন্ন ধরনের সেবা এখন থেকে পাওয়া যাবে। তিনি সিটি কর্পোরেশনের সকল স্তাফ ও সকল কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ আপনাদের জন্য চ্যালেঞ্জের দিন। আগে কোন সময় নাগরিকেরা আমাদের ফোন করতেন না। এখন থেকে ফোন করতে পারবে, প্রশ্ন করতে পারবেন, সেবা ও হয়রানি নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবে। জনগনের কাছে জবাবদিহিতার চ্যালেঞ্জ এটা। নাগরিকদের সেবা আমাদের দিতে হবে। আমরাও এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত।

আতিকুল ইসলাম বলেন, এক সময় শুধুমাত্র ৫ টি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে জন্মসনদ দেয়া হতো। নাগরিক সেবা বাড়াতে ও কাউন্সিলরদেও বারবার আবেদনের প্রেক্ষিতে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে ৫৭ টি ওয়ার্ড থেকেই কাউন্সিলরদের মাধ্যমে জন্ম সনদ প্রদান করার। এরপর পরিকল্পনা আছে জন্ম সনদ, ট্রেড লাইসেন্সের মত দলিল ঘরে বসেই ডেলিভারি নিতে পারবেন নাগরিকেরা। এখন খাবার যেমন ঘরে বসেই অর্ডার করে পাওয়া যায়, তেমনি সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ধরনের সেবা ঘরে বসেই নাগরিকেরা পাবেন এমন উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি তাই নাগরিকদের সেবা করতেই আমি দায়বদ্ধ। সঠিক সময়ে সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য মেয়রন সকল শ্রেনীর নাগরিকদের সহায়তা কামনা করেন।