১২ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরে ২৬৭তম রাস উৎসব শুরু

দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরে ২৬৭তম রাস উৎসব শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ দিনাজপুরের কাহারোলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর (কান্তজিউ) মন্দির প্রাঙ্গনে মাসব্যাপী রাস উৎসব শুরু হয়েছে। প্রতিবছর রাস পুর্ণিমার রাতে রাধা-কৃষ্ণের রাস উৎসব উপলক্ষে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গনে শুরু হয় মাসব্যাপী রাস মেলা। ২শ’ ৬৭ বছর ধরে এই উৎসব ও মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলে আসছে।

সোমবার দিবাগত রাত থেকে এই মেলা শুরু হয়। একইদিন রাত ১২ টায় মন্দিরের পার্শ্ববর্তী স্থানে রাস উৎসব উদযাপন করা হয়। প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের রাস পূর্নিমার দিনে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দিরে রাস উৎসব পালিত হয়। এদিন থেকে মন্দির প্রাঙ্গনে বসে মাসব্যাপী রাস মেলা। রাস উৎসব ও মেলায় বিভিন্ন জেলাসহ দেশ-বিদেশের ভক্ত-পূণ্যার্থী ও পর্যটকরা ভীড় জমান। ১৭৫২ সাল থেকে এখানে রাস উৎসব উদযাপন হয়ে আসছে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রাস উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। এ সময় দিনাজপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল, কাহারোল উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা নাসিম আহমেদ, রাজ দেবোত্তর এস্টেট’র সদস্য ও দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি চিত্ত ঘোষ, প্রেম নাথ রায়, কাহারোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম ফারুক, জেলা পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান বাবু ও মীরা মাহবুব প্রমুখ।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, এই রাস উৎসব অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি স্থান এই কান্তজিউ রাসমেলা। এখানে বেশ উন্নয়ন হয়েছে। এছাড়াও সকল প্রতœত্বাত্তিক স্থানগুলোর উন্নয়ন হচ্ছে। দিনাজপুরের রাজবাড়ী, সীতাকোট বিহারসহ যাবতীয় প্রতœতাত্বিক নিদর্শন ও স্থাপনাগুলোও পরিদর্শন করা হয়েছে সেসবেরও উন্নয়ন হচ্ছে।

কান্তজিউ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত পুলিন চাটার্জী বলেন, প্রতি বছর কার্তিক মাসের রাস পূর্ণিমায় এই রাস উৎসব হয়, যা ধর্মীয় ঐতিহ্য। ভগবানের আরাধনা ও পূণ্য লাভ করতে ভক্তরা এখানে আসেন। প্রায় ২শ’ ৬৭ বছর ধরে রাজ পরিবারের ঐতিহ্য হিসেবে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। যা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে।

কাহারোল থানার পরিদর্শক (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, মন্দির ও রাসমেলাকে ঘিরে যে কোন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে বিপুল পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর হতে রাজ বংশের পরিবার প্রচলিত চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্ঠমীর আগের দিনে পূর্ণভবা নদীপথে নৌবহরে করে কান্তনগর মন্দিরে থাকা কান্তজিউ বিগ্রহ দিনাজপুরের রাজবাড়ী মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৩ মাস থাকার পর আবার কার্তিক মাসের পূর্ণিমা যেটাকে রাস পূর্ণিমা বলে, তার একদিন আগে ভক্ত-পূণ্যার্থীদের অংশগ্রহনে পায়ে হেটে কান্তজিউ বিগ্রহ পুনরায় কান্তনগর মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। রাস উৎসব উপলক্ষ্যে মন্দির প্রাঙ্গন ও আশেপাশে এক মাস ব্যাপী রাস মেলা অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার দেশী ও বিদেশী ভক্ত-পূণ্যার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো মন্দির এলাকা। এখানে দেশের প্রায় সব জেলা ছাড়াও ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকেও শতশত নারী-পুরুষ ভক্ত-পূণ্যার্থী ও পর্যটকেরা মেলায় আসেন।

জনশ্রুতি আছে, তৎকালীন দিনাজপুরের মহারাজা প্রাণনাথ রায় ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরে ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দে তারই পালকপুত্র রামনাথ রায় মন্দিরের নির্মাণ কাজ শেষ করেন। কান্তজিউ মন্দির বা কান্তনগর মন্দির নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত। ১৮ শতকে নির্মিত এই মন্দিরটি ৩ তলা বিশিষ্ট ছিল এবং এর ৯টি চুড়া বা রতœ ছিল। ১৮৯৭ সালে ভুমিকম্পের ফলে চুড়াগুলো ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে মন্দিরটির সংস্কার করা হলেও চুড়াগুলো আর যথাসম্ভব স্থানে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া