১২ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্ত্রী-সন্তানের কাছে পৌছার আগেই লাশ হলো হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ইউসুফ

স্ত্রী-সন্তানের কাছে পৌছার আগেই  লাশ হলো হবিগঞ্জ জেলা  ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ইউসুফ

নিজস্ব সংবাদদাত, হবিগঞ্জ ॥ ফুটফুটে শিশু সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়ী হবিগঞ্জের আনোয়ারপুরে ফেরা হলো না হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আলী মোঃ ইউসুফের। এখন তার বাড়ীতে শুধুই শোকের মাতম আর নেতাকর্মী ও শোকার্ত মানুষের ঢল। সেই সাথে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা সকলেই। মঙ্গলবার ভোর রাত ৩ টার দিকে ট্রেন দুর্ঘটনায় এই তরুন রাজনীতিকের মৃত্যু ঘটে।

নিহত ইউসুফ হবিগঞ্জ শহরতলীর আনোয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ হাসান আলীর ছেলে। প্রতিবেশী মোঃ জয়নাল মিয়া জানান, কয়েক বছর আগে ইউসুফ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলাধীন কাকাইলছেও গ্রামের চিশতিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। স্ত্রী চট্রগ্রামে স্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। বিয়ের পর তাদের কূল জুড়ে আসে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান। নাম ইশা বেগম (৩)। অন্যদিকে ইউসুফ হবিগঞ্জ সরকারী বৃন্দাবন কলেজ থেকে বিগত ২০১৫ সালে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এমএ পাশ করে লিটল ফ্লাওয়ার কিন্ডার গার্টেন নামে একটি স্কুল পরিচালনা করে আসছিল। এই স্কুলেরই তিনি আবার অধ্যক্ষও বটে।

ইউসুফ প্রতিনিয়ত স্ত্রী-সন্তানের সাথে দেখা করতে চট্রগ্রামে যেতো। এরই অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ থেকে চট্রগ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গতকাল উদয়ন একপ্রেস ট্রেনে উঠেন ইউসুফ।

কথা ছিল এবার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে হবিগঞ্জে কয়েকদিনের জন্য ফিরবে ইউসুফ। কিন্তু বিধি বাম। কে জানতো স্ত্রী-সন্তানের কাছে তার আর যাওয়া হবে না। মঙ্গলবার ভোর রাত ৩ টার দিকে বি-বাড়ীয়া জেলাধীন কসবা নামক স্থানে উদয়ন-তূর্ণি-নিশিতা এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংর্ঘষে অন্যান্যদের সাথে সেও নিহত হন। জানা যায়, মা-বাবা না থাকার কারনে বড় সন্তান হিসেবে ইউসুফই পরিবারের হাল ধরেছিলেন। তার আরেক ভাই আমজাদ পড়ছে বিএ। এমতাবস্থায় ইউসুফ পরপারে চলে যাওয়ায় সংশ্লিস্ট পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা।