০৮ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সবার জন্য পেনশন

বর্তমান জনবান্ধব সরকার দেশের সব বয়স্ক নাগরিকের জন্য পেনশন সুবিধা চালুর ব্যাপারে আন্তরিক ও সদিচ্ছুক। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আমল থেকেই এ ধরনের চিন্তাভাবনা শুরু হয়। বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন স্ক্রিম চালুর কাঠামোর খোঁজে’ শীর্ষক এক সংলাপে। সেখানে পরিকল্পনামন্ত্রী পুনরায় সবার জন্য পেনশন সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বর্তমানে ৬৫ বছরের উর্ধে জনগোষ্ঠীর ৬০% কোন না কোনভাবে সরকারী পেনশন সুবিধা পান। সে অবস্থায় বাকি ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকেও সর্বজনীন পেনশন সুবিধার আওতায় আনা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করে সরকার। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে অবশ্যই। এর জন্য একটি সর্বজনীন পেনশন তহবিল গঠন করা যেতে পারে, যেখানে নাগরিকরা তাদের সাধ্যমতো টাকা রাখবেন ভবিষ্যতের জন্য। এর পাশাপাশি প্রয়োজন আইনÑ সেটি বাস্তবায়নের জন্য

দেশের জনগণের সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচী হিসেবে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। এবার সরকার চালু করতে যাচ্ছে সবার জন্য পেনশন। এটি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকারও বৈকি। প্রস্তাবিত সর্বজনীন পেনশন নীতিমালার খসড়াও প্রণীত হয়েছে ইতোমধ্যে। দেশের প্রায় প্রত্যেক বয়োবৃদ্ধ নাগরিককে কিভাবে ও পদ্ধতিতে এই পেনশন স্কিমের আওতায় আনা যায় সেই উপায়ও থাকছে নীতিমালায়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে যথাশীঘ্র এটি তোলা হবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য। উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পেনশন পান। তবে বেসরকারী কর্মজীবীরা এর আওতায় পড়েন না। বৃহত্তর জনগোষ্ঠী তো নয়ই। অথচ ইতোমধ্যে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে প্রায় ৭২ বছর। ফলে দেশে প্রবীণ তথা নির্ভরশীল জনসংখ্যা বাড়ছে। অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা তথা বাবা-মাই সন্তানের ওপর নির্ভরশীল, যাদের আয় উপার্জন কম। সে অবস্থায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু হলে প্রভূত সহায়ক হবে বয়োবৃদ্ধদের। পাশাপাশি সবার জন্য স্বাস্থ্যবীমাও চালু করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কেননা দেশে চিকিৎসা ব্যয়সহ ওষুধপত্রের দাম বাড়ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এই সুফল সরকার সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী নানাভাবে সম্প্রসারণ করেছে ও করছে। চালু করা হয়েছে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, দুস্থ ও প্রতিবন্ধী স্কিম, মা ও শিশু কল্যাণ কর্মসূচী, পেনশন স্কিম, উপবৃত্তি, কাবিখা ইত্যাদি। সে অবস্থায় সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচী চালু করা হলে দেশের আপামর জনগণ এর সুফল ভোগ করবে।