০৬ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গুরু নানক-ভারত ও পাকিস্তানকে এক স্থানে মেলালেন যিনি

  • ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীতে খুলে দেয়া হলো কর্তারপুর করিডর

শিখ ধর্মমতের প্রতিষ্ঠাতা গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী এখন ভারত ও পাকিস্তানে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে। কর্তারপুর করিডর খুলে দেয়ার পর শিখরা এখন পাকিস্তানে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থস্থানে যেতে পারছেন। ভিসা ছাড়াই তারা ভারত থেকে যেতে পারছেন পাকিস্তানে। দুই বৈরী প্রতিবেশীর মধ্যে সংঘাতের কারণে শিখদের জন্য পাকিস্তান যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবারের অবস্থা ভিন্ন রকম। বিবিসি।

শিখরা ভারত থেকে পাকিস্তানের গুরুদুয়ার দরবার সাহিব কর্তারপুরে যেন ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন সে বিষয়ে গত মাসে দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। গুরুদুয়ার দরবারটিতে গুরু নানক জীবনের ১৮টি বছর কাটিয়েছেন। সীমান্ত থেকে এটি ৪ কিলোমিটার (২.৫ মাইল) ভেতরে অবস্থিত। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিখ তীর্থযাত্রীরা ভারতের অমৃতসরের স্বর্ণমনিরে যেতে পারলেও ভিসা জটিলতর কারণে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কর্তারপুর যেতে পারতেন না। চুক্তি অনুযায়ী গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকীর কয়েকদিন আগে করিডরটি খুলে দেয়া হয়। শনিবার সকালে সীমান্তের নিজ নিজ পাশে কর্তারপুর করিডর উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। করিডর ব্যবহার করে কর্তাপুরে যাওয়া প্রথম ভারতীয় ৫৫০ তীর্থযাত্রীর মধ্যে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিং, কংগ্রেস বিধায়ক নভোজিৎ সিং সিধু, বিজেপি সাংসদ সানি দেওলসহ ১৫০ জন ভারতীয় পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য, কানাডা থেকেও তীর্থযাত্রীরা সেখানে আসছেন। প্রতিদিন ওই করিডর ধরে পাঁচ হাজার পুণ্যার্থী আসা-যাওয়া করতে পারবেন আর ১০ হাজার দর্শনার্থী মন্দিরটি পরিদর্শন করতে পারবেন। কর্তারপুর করিডর ব্যবহারে ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের ভিসা না লাগলেও সঙ্গে পাসপোর্ট রাখতে হবে এবং গুরুদুয়ারা দরবার সাহিব যাওয়ার অনুমতিপত্র লাগবে। তবে তারা মন্দিরটির চত্বর ছেড়ে পাকিস্তানের অন্য কোথাও যেতে পারবেন না এবং রাত্রিযাপন করতে পারবেন না। কর্তারপুর শিখদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গুরু নানক সেখানে বিশ্বাসের ভিত্তিস্থাপন করেন। ইতিহাসবিদ জে এস গ্রেওয়ালের মতে গুরু নানক সেখানে গিয়েছিলেন ১৫২০ থেকে ১৫২২ সালের মধ্যে, এরপর তিনি সারা বিশ্বে পরিভ্রমণ করতে শুরু করেন। তার জন্ম ১৪৬৯ সালে। রাজ রাই বংশধর রাই বুলার ভাট্টি এ শহরের নতুন নাম করণ করেন গুরু নানকের নামে। সে শহর এখন নানকানা সাহিব। এখন এ শহর আবার নানকানা সাহিব জেলার সদর। নানক বিশ্বাস করতেন মানবজীবনের চরম উদ্দেশ্য হলো হয় বোধি প্রাপ্তি অথবা ঈশ্বরের সঙ্গে মিলন। কর্তারপুরেই তিনি তার শিষ্যদের শিখিয়েছিলেন অনুশীলনের মাধ্যমে কীভাবে মুক্তি অর্জন করতে হয়। গ্রেওয়াল বলেছেন, ২শ’ বছর ধরে এসব জায়গাকে ধর্মশাল বলেই ডাকা হত। ১৮ শতাব্দীতে এগুলো গুরু দুয়ারা নামে পরিচিত হয়।

নির্বাচিত সংবাদ