০৬ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিজেএমসির রফতানি এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বছর ব্যবধানে পাটকল কর্পোরেশন থেকে রফতানি নেমেছে তিন ভাগের একভাগে। ফলে সার্বিক আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে কর্পোরেশন। এ জন্য দায়ী করা হচ্ছে, রফতানি বাজারের এ্যান্টি ডাম্পিং ইস্যুকে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সময় এসেছে সংস্থাটিকে একেবারে গুটিয়ে ফেলার। সেই সঙ্গে তাদের অধীনে থাকা ২৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শও তাদের।

দীর্ঘদিন ধরে এক রকম খুঁড়িয়ে চলা বিজেএমসির ২২ কলে মূল উৎপাদনী পণ্য পাটের সুতা, চট এবং বস্তা। যার বড় একটা অংশ ব্যবহৃত হয় দেশের ভেতরে। এছাড়া, রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম নির্ভরতা ভারত। কিন্তু, এ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ হওয়ায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মারাত্মকভাবে রফতানি কমেছে সেখানে। আর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বাজারেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ পাটকল কর্পোরেশন। যার ফলে এক বছরের ব্যবধানে সার্বিক আয় সাড়ে ১১শ’ কোটি থেকে নেমে এসেছে ৫শ’ ৯২ কোটিতে।

২০০১-০২ থেকে সবশেষ অর্থবছর পর্যন্ত বরাবরই দেশীয় বাজার থেকে কয়েকগুণ বেশি ছিল রফতানি আয়। এই সময়ে ধারাবাহিকতায়ও বজায় ছিল কম বেশি। কিন্তু ১৮-১৯ এর চিত্র হতাশ করেছে একেবারেই। রফতানি করা গেছে মাত্র আড়াই শ’ কোটি টাকার পণ্য। যা আগের বছর ছিল ৮৩৫ কোটি। বিজেএমসি এর চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ নাছিম বলেন, গত এক দেড়মাসে আমাদের খুব ভাল ভাল কিছু বায়ার সিরিয়া, জর্ডান এমনকি সুডান থেকেও পেয়েছি। এগুলো যদি আমরা খুব ভালভাবে সেলয়াউট করতে পারি তাহলে বর্তমান অবস্থা আমরা খুব তাড়াতাড়ি পরিবর্তন করতে পারব।

এদিকে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিজেএমসি কোনভাবেই তার বর্তমান কাঠামোতে এই ব্যয়ভারকে উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কমিয়ে এনে লাভজনকভাবে বিক্রি করার মতো অবস্থায় নেই।

আয়ে ধস নামলেও সমানতালে ব্যয় কমাতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেএমসি। উল্টো পণ্য উৎপাদন করতে না পারার কারণে লোকসান বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। যদিও কিছুটা কমেছে সার্বিক শ্রম খরচ। আর এই সঙ্কট সামাল দিতে প্রতিবছর গড়ে ৫ থেকে ৬শ’ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে কর্পোরেশনকে। যা চাপ বাড়িয়েছে রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। যদিও কর্পোরেশনের অধীনে থাকা ২৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ দেখা যায়নি কখনোই। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভর্তুকি দিয়ে যদি আমরা এটাকে সামাল দেয়ার চেষ্টা করি তাহলে এটা আমাদের বাজেটের দিক থেকেও এটা ঠিক হয় না এবং অন্যদিক থেকে এটার অল্টারনেটিভ যেটা নাকি আমরা বিনিয়োগ করতে পারতাম সেটাও হচ্ছে না। হাজার হাজার একর জমি আছে যেগুলোকে আমরা ইকনোমিক জোনে পরিবর্তন করে আমরা প্রতিটা থেকে ২-১ বিলিয়ন ডলারের এক্সপোর্ট আনতে পারি। কিন্তু সেটা আমারা নিচ্ছি না। শুধুমাত্র কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থের যোগান দেয়ার জন্য।

নির্বাচিত সংবাদ