০৮ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্বে গত বছর আট লাখ শিশু মারা গেছে নিউমোনিয়ায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্বে গত বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী আট লাখেরও বেশি শিশু নিউমোনিয়ায় মারা গেছে। প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে মৃত্যু হয় একটি শিশুর। দুই বছরের কম বয়সী যত শিশু মারা গেছে তাদের বেশিরভাগই জীবনের প্রথম মাসেই মৃত্যুবরণ করেছে। ছড়িয়ে পড়া এই মহামারী সম্পর্কে সতর্ক করে স্বাস্থ্য ও শিশু বিষয়ক ছয়টি শীর্ষস্থানীয় সংস্থা বৈশ্বিক পদক্ষেপের জন্য আজ আবেদন শুরু করছে। এই গ্রুপটি আগামী জানুয়ারিতে স্পেনে শৈশবকালীন নিউমোনিয়ার বৈশ্বিক ফোরাম-এ বিশ্ব নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের কমবয়সী ১২ হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ায়। অর্থাৎ প্রতিঘণ্টায় একজনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের ১৩ শতাংশেরই নিউমোনিয়ায় মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার পাঠানো সেফ দ্য চিলড্রেনের গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী কেভিন ওয়াটকিনস বলেন, এটি একটি বিসৃত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য মহামারী, যা মোকাবেলায় বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। টিকা, সাশ্রয়ী এ্যান্টিবায়োটিক ও নিয়মিত অক্সিজেন চিকিৎসার অভাবে হাজার হাজার শিশু মারা যাচ্ছে। নিউমোনিয়া সঙ্কট হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অবহেলা ও অসমর্থনীয় বৈষম্যের লক্ষণ বলে জানান কেভিন ওয়াটকিনস।

প্রতিবেদনে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, নিরাময়যোগ্য এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিরোধযোগ্য রোগ নিউমোনিয়াতে বিশ্বে প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২শ’ শিশু মারা যায়। এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য জোরালো বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি এবং বাড়তি বিনিয়োগ জরুরী। যেখানে শিশুরা আছে সেখানে কেবলমাত্র সাশ্রয়ী সুরক্ষা ও প্রতিরোধমূলক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই আমরা সত্যিকারভাবে লাখ জীবন বাঁচাতে সক্ষম হব। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের কারণে নিউমোনিয়া হয় এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুস পুঁজ ও তরলে ভরে ওঠায় তাদের শ্বাস নেয়ার জন্য রীতিমতো লড়াই করতে হয়। ২০১৮ সালে অন্য যে কোন রোগের তুলনায় এই রোগে অনেক বেশি সংখ্যক পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। ওই বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪ লাখ ৩৭ হাজার শিশু ডায়রিয়ার এবং ২ লাখ ৭২ হাজার শিশু ম্যালেরিয়ায় মারা যায়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউমোনিয়ায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি শিশুর মৃত্যুর জন্য পাঁচ দেশ দায়ী। দেশগুলো হলোÑ নাইজিরিয়া (১ লাখ ৬২ হাজার), ভারত (১ লাখ ২৭ হাজার), পাকিস্তান (৫৮ হাজার), গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (৪০ হাজার) ও ইথিওপিয়া (৩২ হাজার)। এইচআইভির মতো অন্যান্য সংক্রমণ বা অপুষ্টির কারণে যেসব শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যেসব শিশু উচ্চমাত্রার বায়ু দূষণ ও অনিরাপদ পানির এলাকায় বসবাস করে তারা অনেক ঝুঁকিতে রয়েছে। এই রোগটি টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং সঠিকভাবে নির্ণয় করা গেলে স্বল্প ব্যয়ের এ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সহজেই চিকিৎসা করা যায়। কিন্তু কোটি শিশুকে এখনও টিকা দেয়া হচ্ছে না এবং প্রতি তিনটি শিশুর একটির মধ্যে লক্ষণগুলো উপস্থিত থাকলেও তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পায় না। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে অক্সিজেন-চিকিৎসারও প্রয়োজন হতে পারে, যা দরিদ্রতম দেশগুলোতে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও খুব কম ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়।