১২ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা বৈশ্বিক সংলাপ

তিন দিনব্যাপী ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকি সম্মিলিতভাবে মোকাবেলার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিস) এবং ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯ পরিবেশবান্ধব শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে এই অঞ্চলের দেশগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। ‘প্রবৃদ্ধি উন্নয়ন ও ইন্দো-প্যাসিফিক’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই সংলাপে বিভিন্ন দেশের ১৫০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ আলোচক অংশগ্রহণ করেন।

ভারত মহাসাগর ঘিরে মোট ৪০টি দেশের অবস্থান, যেখানে বিশ্বের জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ মানুষ বসবাস করে। আরও কয়েকটি দেশ যেমন- নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত না হলেও এটি তাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দ্ব্যার্থহীন- সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়। এই অবস্থানে অবিচল থেকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করেছে। সে অবস্থায় তেল-গ্যাস মৎস্য সম্পদসহ নানাবিধ সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর ব্যবহার নিশ্চিত করণে পারস্পরিক সহযোগিতা কাম্য ও প্রত্যাশিত। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায়ও এই সহযোগিতাসহ তথ্যাদির আদান-প্রদান অপরিহার্য। এর জন্য সন্নিহিত দেশগুলোর শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতি বজায় রাখাও জরুরী। তবে এই মুহূর্তের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা। বাংলাদেশ নিতান্ত মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে তাদের প্রত্যাবাসন অত্যাবশ্যক।

ইতোপূর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যর সুষ্ঠু ও সমন্বিত সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তা না হলে এটি খুব শীঘ্রই বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য রীতিমতো হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন তিনি। কয়েক বছর অতিক্রান্ত হলেও রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা এবং এর শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়টি বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা আন্তর্জাতিক সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। ওআইসির সমর্থনে গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে আন্তর্জাতিক আদালতে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনসহ দু’দুবার প্রত্যাবাসনের তারিখ চূড়ান্ত হলেও একজন রোহিঙ্গাও যেতে রাজি হয়নি মিয়ানমারে। এর জন্য প্রধানত দায়ী মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রভাবিত সরকারের একগুঁয়ে মনোভাব। বাস্তবে মিয়ানমার সরকার রাখাইনে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে সে দেশের নাগরিকত্ব প্রদানসহ নিরাপত্তাদান সর্বোপরি পুনর্বাসনের অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি প্রায় কিছুই করেনি। উপরন্তু নতুন করে রোহিঙ্গা উচ্ছেদসহ সামরিক দমন-পীড়নের খবরও মিলেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নতুন করে চার দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন জাতিসংঘে, যা অবশ্যই আমলে নিতে হবে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। তা না হলে বিপন্ন ও বিঘ্নিত হতে পারে আঞ্চলিক নিরাপত্তা। ঢাকা বৈশ্বিক সংলাপে সেটিই সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বাত্মক চাপ সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি।