১২ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধামাইল নাচ ও জর্জিয়ার লোকসঙ্গীতে ঝলমল ফোক ফেস্ট

ধামাইল নাচ ও জর্জিয়ার লোকসঙ্গীতে ঝলমল ফোক ফেস্ট

মনোয়ার হোসেন ॥ নাচের তালে সূচনা হওয়া পরিবেশনা পর্বটি এগিয়ে যায় সহজিয়া সুরের পথে। এরপর শুধুই ভেসে বেড়ায় শেকড়সন্ধানী গানের সুর। প্রথম দিনে বাংলাদেশ, ভারত ও জর্জিয়ার লোকগানে জমে উঠে উৎসব। সেই সহজিয়া সুরে সুরে ঝলমল করে ওঠে শহর ঢাকা। সহজিয়া বাণী ও সুরে সুরে উঠে আসে জীবনের গভীর দর্শন থেকে শুরু আধ্যাত্মিকতা, প্রেম আর মাটির ঘ্রাণ। দেশ-বিদেশের মৃত্তিকাসংলগ্ন সেই মায়াবি সুরের টানে অগণন শ্রোতার উপস্থিতিতে সরব হয়ে ওঠে উৎসব আঙিনা। এভাবেই সূচনা দিলো ঝলমলে হয়ে উঠে ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে লোকজ গানে সাজানো এ সঙ্গীতাসর। বিশ্ব দরবারে বাংলা লোকসঙ্গীতের সুরসুধা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট। শনিবার পর্যন্ত চলবে এ উৎসব। প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১২ অবধি শ্রোতারা উপভোগ করবেন এই সঙ্গীতাসর। আন্তর্জাতিক এই লোকসঙ্গীত উৎসবে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশসহ ছয় দেশের দুই শতাধিক শিল্পী। বাংলাদেশের বাইরে উৎসবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো ভারত, পাকিস্তান, জর্জিয়া, রাশিয়া ও মালি। বিগত চার বছরের ধারাবাহিকতায় পঞ্চমবারের মতো উৎসবটির আয়োজন করছে সান ফাউন্ডেশন।

উৎসবের প্রথম পরিবেশনাটি ছিল সিলেট অঞ্চলের ধামাইল নাচ। ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা উপস্থাপন করেন সামিনা হুসাইন প্রেমা ও তার নৃত্যদল ভাবনা। গানের সুরের নাচের মুদ্রায় দলটি বৃত্তাকার বেষ্টনী গড়ে ছড়িয়ে যায় মঞ্চে। নারী ও পুরুষশিল্পীরা সম্মিলিত প্রয়াসে উপস্থাপন করেন তিনটি নাচ। নাচের মাঝে ভেসে বেড়ায় ‘বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচে না’সহ লোকজ সুর। ১৫ মিনিটের পরিবেশনায়নয়নজুড়ানো ধামাইল নাচের সঙ্গে ছিল ময়মনসিংহ অঞ্চলের লাঠিনৃত্য। সব শেষে যন্ত্রসঙ্গীতের সুরের নাচ করেন শিল্পীদল।

নাচের পর ¯িœগ্ধ সুরে শ্রোতার হৃদয় রাঙায় জর্জিয়ার লোকসঙ্গীত। ইউরোশিয়া অঞ্চলের দেশটির শেভেনেবুরেবি নামের দলটি শুরুতেই শ্রোতার সঙ্গে সংযোগ ঘটায় নিজেদের। দলের কণ্ঠশিল্পী বলে ওঠেন, কেমন আছো তোমরা? আমরা ভালোবাসি বাংলাদেশকে। কথা শেষে ভাষার দূরতœ ঘুচিয়ে দলটি পরিবেশন করে শ্রুতিমধুর জর্জিয়ান লোকসঙ্গীত। হাজারও শ্রোতা তন্ময় হয়ে শোনে বিচিত্র বাদ্যযন্ত্রসহযোগে গান সেই গান। মুগ্ধতার রেশ ধরে করতালিতে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটায় দলটির প্রতি।

এরপর ছিল উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং সান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে গান শোনার বাংলাদেশের শাহ আলম সরকার এবং প্রথম দিনের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ভারতের বিখ্যাত শিল্পী দালের মেহেন্দি।

এবারকার ৎঅন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী দালের মেহেন্দি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পাঞ্জাবি ভাঙড়া গান গেয়ে ভারতজুড়ে আলোড়ন তোলেন এই শিল্পী। ১৯৯৫ সালে তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘বোলো তা রা রা রা’ প্রায় ২০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। তিন দশকের ক্যারিয়ারে শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। বলিউডে প্লেব্যাক করেও অর্জন করেছেন সুনাম। দালের মেহেন্দির কণ্ঠে ভাঙড়া গান ভারতের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বাংলা বাউল গানের এক অনন্য শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার শাহ্ আলম সরকার। পারিবারিকভাবেই তিনি বাউল গানের সাথে যুক্ত। শাহ্ আলম সরকার মনে করেন গান নিয়ে জানার বা শেখার কোন শেষ নেই। তাই তিনি এখনও গান নিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংগীত জীবনে তাঁর ৬৫০টিরও বেশি অ্যালবাম বের হয়েছে। তাঁর লেখা ও সুর করা অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন গুণী শিল্পী মমতাজ বেগম। শাহ্ আলম সরকার দেশের নানা প্রান্তে বিভিন্ন আসরে পালাগান পরিবেশন করেন।

আজকের উৎসব : আজ শুক্রবার উৎসবের দ্বিতীয় দিন। এদিন শোনা যাবে দেশের শিল্পী মালেক কাওয়াল, ফকির শাহাবুদ্দিন, ম্যাজিক বাউলিয়ানার কামরুজ্জামান রাব্বি ও শফিকুল ইসলামের গান। এছাড়া শ্রোতারা শুনতে পাবেনপাকিস্তানের হিনা নাসরুল্লাহ এবং মালির হাবিব কইটে অ্যান্ড বামাদার গান।

যরা নিবন্ধন করতে পারেননি তারা ফোক ফেস্ট সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন মাছরাঙা টেলিভিশনে। এবারের উৎসবের টাইটেল স্পন্সর মেরিল, পাওয়ার্ড বাই ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, সাপোর্টেড বাই রাঁধুনী, ডিজিটাল পেমেন্ট পার্টনার ডিমানি, রেজিস্ট্রেশন পার্টনার সহজ, সিকিউরিটি পার্টনার এইজিস সিকিউরিটি ফোর্স, মেডিক্যাল পার্টনার স্কয়ার হসপিটালস লিমিটেড, হসপিটালিটি পার্টনার ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন, ব্রডকাস্ট পার্টনার মাছরাঙা টেলিভিশন।