১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেঁয়াজের কেজি ২শ’ পার অসাধু ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটছে

পেঁয়াজের কেজি ২শ’ পার অসাধু ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটছে
  • মনিটরিং জোরদার

এম শাহজাহান ॥ গত দু’দিনে প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়। মিসর থেকে আমদানিকৃত বড় আকারের কালো পেঁয়াজ ১৮০-১৯০ টাকায় কিনছেন ভোক্তারা। দফায় দফায় দাম বাড়ায় পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। এভাবে দাম বাড়ার পেছনে অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের হাত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ১৪ মনিটরিং টিম সর্বদা কাজ করছে নিত্যপণ্যের বাজারে। অকারণে মজুদকৃত পেঁয়াজের দাম বেশি নেয়া হলে শাস্তি পেতে হবে ব্যবসায়ীদের।

এদিকে বাসের যাত্রী থেকে শুরু করে মতিঝিলের কর্পোরেট অফিসগুলোর টেবিলেও চলছে পেঁয়াজ নিয়ে আলোচনা। ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ এখন এই পেঁয়াজ। কবে নাগাদ পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল হবে এ কথার স্পষ্ট উত্তর নেই কোথাও। কারণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যেও মসলা জাতীয় এই পণ্যের দাম ১০০ রুপী ছাড়িয়ে গেছে। কলকাতা, ত্রিপুরা ও দিল্লীসহ কোথাও পেঁয়াজের সুখবর নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, মিসর ও তুরস্ক থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজের বড় চালানটি দেশে আসলেই দাম পড়ে যাবে। কারণ ওই সময় ৬০ হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ আসবে দেশে। আমদানিকৃত এই পেঁয়াজ আগামী দু’একদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছবে।

জানা গেছে, পেঁয়াজের সঙ্কট দূর করতে মিয়ানমার, মিসর, তুরস্ক, থাইল্যান্ড এবং চীন থেকে আমদানির উদ্যোগ নেয় সরকার। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে নিয়মিত পেঁয়াজ আসছে। সম্প্রতি মিসর ও তুরস্ক থেকে আরও ৫ হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ দেশে আনা হয়। তবে মিসর থেকে আমদানিকৃত ৬০ হাজার টনের বড় চালান এখনও দেশে এসে পৌঁছায়নি। পেঁয়াজের এই সঙ্কট সামনে রেখেই অসাধু ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বেশকিছু পাইকারি ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের এই অভিযোগে জরিমানা করা হয়। এখন দাম বাড়ানো হচ্ছে- ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কথা বলে। বুলবুলের আঘাতে সাময়িক যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হলেও এখন পরিস্থিতি ভাল। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। ভোক্তাদের পকেট ফাঁকা হচ্ছে। পুরান ঢাকার কাপ্তান বাজারের খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আল-আমিন জনকণ্ঠকে বলেন, পাইকারি খ্যাত শ্যামবাজারে পেঁয়াজের অভাব নেই। টাকা দিলে বস্তায় বস্তায় মিলছে পেঁয়াজ। তিনি বলেন, খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ১০-১৫ টাকা বেশি নেয়া হয়। কিন্তু পাইকারি বাজারে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট ফাঁকা করা হচ্ছে। তবে এটা মানতে চান না পাইকারি ব্যবসায়ীরা। শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আবদুল মাজেদ বলেন, বাজারে পেঁয়াজের মজুদ শেষ হয়ে আসছে। এ কারণে দাম বাড়ছে। আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই দাম কমবে।

প্রসঙ্গত, গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে দেশে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পেঁয়াজের বড় উৎস ভারত গত ২৯ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করে রফতানি বন্ধ ঘোষণা করলে দেশে দাম বাড়তে থাকে। দেড় মাসের ব্যবধানে জাত ও মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজে প্রায় ৩ থেকে ৪ গুণ দাম বেড়ে গেছে। এখন প্রতিকেজি পেঁয়াজ ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশে বছরে ২৪ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে উৎপাদন হয় ১৮-১৯ লাখ টন। ঘাটতি পেঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করে পূরণ করা হয়। কিন্তু গত বছর ভারি বৃষ্টিপাত ও অসময়ে বৃষ্টিপাতে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়েছে। এ বছর ঘাটতির পরিমাণ আরও বেশি। এছাড়া ভারতেও এ বছর পেঁয়াজের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

পেঁয়াজের ব্যবহার কমছে ॥ দাম বাড়ার কারণে পরিবার প্রতি পেঁয়াজের ব্যবহার কমে গেছে। স্বল্প আয়ের মানুষ বিশেষ করে রিক্সাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুররা শাক-সবজির মতো তরকারি পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করছে। মাছ ও মাংস রান্না হলে সামান্য পেঁয়াজ দেয়া হচ্ছে। পেঁয়াজ নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত গৃহিণীরা। কারণ তারা রান্না করার সময় পর্যাপ্ত পেঁয়াজ পাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে মুগদাপাড়ার গৃহিণী সালমা আক্তার বলেন, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজার খরচ বেড়ে গেছে। এ কারণে তরকারি রান্নায় পেঁয়াজ কম ব্যবহার করা হচ্ছে। আপাতত মাছ ও মাংস ছাড়া কোন তরকারিতে আর পেঁয়াজ নয়।

নীলফামারীতেও ডাবল সেঞ্চুরি

স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারী থেকে জানান, জেলা শহরের বৃহস্পতিবার নীলফামারীর বিভিন্ন হাটবাজারে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে পেঁয়াজ। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা একটি সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজ মজুদ রেখে বাজারে সঙ্কট দেখাচ্ছে। সাইক্লোন বুলবুলের পর দামের এই উল্লম্ফন করে দেয় ব্যবসায়ীরা। কারণ মঙ্গলবার যে পেঁয়াজ ১২০ টাকা ছিল তা বুধবারে হয় ১৬০ টাকা কেজিতে। আর বৃহস্পতিবারে এসে ২০০ টাকা কেজিতে চলে যায়। এ যেন ক্রিকেটের ছক্কা মারার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে পেঁয়াজের ব্যবসায়ীরা।

নীলফামারীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি পেঁয়াজ। বড় বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী কালাম শেখ বলেন, ‘আজকে আমরা দেশী পেঁয়াজ বিক্রি করছি ২০০ টাকা আর বার্মারটা বিক্রি করছি ১৯০ টাকায়।’ অপর পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, আমদানি কমে যাওযায় দাম বাড়ছে। তিনি পেঁয়াজের কেজি ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে এমন আশঙ্কা পোষণ করে বলেন যারা মজুদ করছে তারাই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা কিনে এনে কেজিতে পরিবহন খরচসহ কেজিতে ১০ টাকা বেশি নিয়ে থাকি। পেঁয়াজের দাম বাড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাই দ্রুত ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালানোর দাবি জানান তারা।