০৮ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুজিববর্ষে সর্বত্র বিদ্যুত

বিদ্যুত মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশমান যুগে বিদ্যুতের ব্যবহার যে মাত্রায় সম্প্রসারিত সে আলোকেও এর প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর উন্নয়ন দশকের ধারাবাহিক কর্মযোগে বিদ্যুতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখেছেন। ফলে বিদ্যুতের অসহনীয় ঘাটতি থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

২০০২ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এ সময়টুকুতে বিদ্যুত সঙ্কট যে মাত্রায় জনজীবনকে দুঃসহ করে তুলেছিল সেই স্মৃতি এখনও মানুষকে তাড়া করে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের মেগা প্রকল্পের মধ্যে বিদ্যুতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আগামী বছরে শুরু হওয়া মুজিববর্ষেই তা ঘরে ঘরে পৌঁছানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাত বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র এবং দশ জেলার ২৩ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধনকালে জাতির এই আশাবাদ মিলেছে। দেশকে আলোকিত করতে বিদ্যুতের চাহিদা যেমন ব্যাপক একইভাবে তার সরবরাহও সর্বজনীন করাই বর্তমান সরকারের উন্নয়ন প্রবাহের অন্যতম লক্ষ্য। তবে এই বিদ্যুতের অপচয় রোধে সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। বিদ্যুত ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মনোভাবকে অত্যন্ত সচেতনতায় লালন করাও বিশেষ দায়বদ্ধতা। বিদ্যুত উৎপাদনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় তার চেয়ে অনেক কম খরচে তা সাধারণ মানুষকে সরবরাহ করতে সরকার প্রতিনিয়তই সচেষ্ট। দেশের সম্পদ রক্ষায় তা জনগণের স্বার্থেই ব্যবহার করা হবে। এছাড়া বিদ্যুত ব্যবহারে মিতব্যয়ী হলে শুধু যে বিদ্যুত সাশ্রয় হবে তা কিন্তু নয়; ব্যক্তি পর্যায়ে ও সংস্থায় বিদ্যুতের মাসিক খরচও অনেক কম আসবে, যা ভোক্তা শ্রেণীকে আর্থিকভাবেও সহায়তা করবে। ১৯২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। আর এই গৌরবময় বছরটিতেই সাধারণ মানুষকে বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে সরকার সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি মূল্যবান সম্পদ সাধারণ জনগোষ্ঠীর। সুতরাং দেশের মানুষকেই নিজস্ব সম্পদ রক্ষায় সতর্ক থাকতে হবে। একা সরকারের পক্ষে সব কিছু করা সম্ভব নয়।

এছাড়া শতভাগ বিদ্যুতের চাহিদায় দেশ স্বয়ম্ভর হলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এর রফতানির সুযোগ তৈরি হবে। এ নিয়ে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সচিব পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতেও বিদ্যুত রফতানির চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। তার আগে নিজের দেশকেই বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে। তবে এ ব্যাপারে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে যৌথ কারিগরি পর্যবেক্ষণও আবশ্যক। নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশ জলবিদ্যুত প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। এ ব্যাপারেও দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলাপ-আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে দেশ এখন নিজের সীমানাকে অতিক্রম করে বিশ্ব পরিসরেও বিদ্যুত সরবরাহ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। পাহাড়, পর্বত ও খর¯্রােতা নদীবিধৌত নেপাল পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুত উৎপাদনে বিশেষ কর্মপ্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশকেও তার সহযোগী শক্তি বিবেচনায় বৃহৎ পরিকল্পনায় অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দিলে বর্তমান সরকার তা সাগ্রহে গ্রহণও করেছে। এমন সম্ভাবনাময় বিদ্যুত উৎপাদন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সংযুক্ত হওয়া শুধু বিদ্যুতের ক্ষেত্রেই নয়, পুরো অর্থনৈতিক বলয়েও এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে। কারণ কয়লা ও ডিজেল পরিহার করে নবায়নসাপেক্ষ, পরিবেশ সংহত জ্বালানি উৎপাদনে বাংলাদেশের আন্তরিক উৎসাহে নেপাল ও ভুটানের অনুকূল পরিস্থিতিই এই মুহূর্তে গ্রহণীয় এবং পছন্দনীয়।

সুতরাং বাংলাদেশ বিদ্যুতে বিশেষ সক্ষমতা অর্জন করে তা প্রতিটি নাগরিকের নাগালে পৌঁছে দিতে সমর্থ হবে পরম প্রত্যাশিত মুজিববর্ষেই। এজন্য কালপর্ব যথেষ্ট না হলেও উন্নত বাংলাদেশ এভাবেই তার সমূহ সম্ভাবনাকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবেÑ এমন চাওয়া সাধারণ মানুষেরও।