১২ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চক্রান্ত ছিন্ন করে বাংলাদেশ

বিশ্ব এখন অবাক বিস্ময়ে চেয়ে থাকে বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকে। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সাহায্য ছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। দৃশ্যমান হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সম্ভাবনার বাংলাদেশে উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন সবকিছু সম্ভব। উন্নয়নে বাংলাদেশের মাইলফলক হবে পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে দৌলতদিয়ায় তৈরি হবে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু। উদ্বোধন হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। এত বড় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপানসহ বিশ্বের আর কোথাও নেই। ৩০০ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার কাজও শুরু হয়েছে। এসব অপ্রতিদ্বন্দ্বী উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পাঠিয়েছে। মানুষ কখনও ভাবেনি বাংলাদেশ মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে পারবে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহাকাশে আমরাও আমাদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছি এটা ভাবতেও ভাল লাগে। এটা বাংলাদেশের বিরাট অর্জন।

জাতীয় সংসদের সমাপনী ভাষণে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের শত্রু-মিত্রের বাস্তবতা সুন্দরভাবে উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সকল চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ভেদ করেই বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অচিরেই দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। আমরা দারিদ্র্য ১৬ ভাগে নামিয়ে আনতে পেরেছি, আরও কমাব। দেশে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না। চলমান দুর্নীতি-সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাস-মাদকের দুষ্টচক্র থেকে সমাজকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে। কে কোন দল করে আমরা দেখতে চাই না, অপরাধী অপরাধীই। কাউকে ছাড় দেইনি। এটা আমার নীতির ব্যাপার। সমাজকে দুষ্টচক্র থেকে রক্ষা করতেই হবে।

তবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এক শ্রেণীর মানুষ কষ্ট পায়। বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল ও তাদের দোসররা কিছুতেই মেনে নিতে পারে না যে, তাদের অন্তরে যে দেশটি, অর্থাৎ পাকিস্তানের অবস্থান, সেটির তুলনায় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ গোটা বিশ্বে এমন রোল মডেল হয়ে উঠবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদান করে পাকিস্তানের শাসনশোষণের জাল ছিন্ন করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের কারণে। এটি বাংলাদেশবিরোধীদের সহ্য হয়নি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সাময়িকভাবে তারা সফলও হয়েছিল দেশটিকে পেছনের দিকে টেনে রাখতে। নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, তখনই উন্নতি হয়েছে দেশের। বিগত এগারো বছরে পূর্বেকার সকল উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ছাপিয়ে বাংলাদেশ দারুণভাবে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। ফলে স্বাধীনতার শত্রুপক্ষ, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুকন্যার চরম বিরোধীরা কিভাবে ভাল থাকবে! তারা নানা ষড়যন্ত্র করেই চলেছে। এমন এমন ঘটনা ঘটছে যাতে সরকার বিব্রত হয়, অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো দৃঢ়চেতা ও সংকল্পবদ্ধ মহান দেশপ্রেমিক নেতার নেতৃত্বগুণে সকল বাধা ছিন্ন করে মাতৃভূমি সুনিশ্চিতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবেÑ এমনটিই জাতির প্রত্যাশা।

বঙ্গবন্ধুকন্যা সংসদের সমাপনী ভাষণে যথার্থই বলেছেন, সকল চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র ভেদ করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করব ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। বাংলাদেশ বিজয়ের পতাকা নিয়েই বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে।