১২ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার পরিবর্তে মেসিদের সেই ম্যাচ ইসরাইলে

  • আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল, আজ রাতে উরুগুয়ের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা, ইসরাইলে না খেলতে মেসি-সুয়ারেজদের প্রতি ফুটবলপ্রেমীদের আহ্বান

জাহিদুল আলম জয় ॥ আজকের দিনটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য হতে পারত ঐতিহাসিক। কেননা এইদিনে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের আরেকবার খেলার কথা ছিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। গত ৮ অক্টোবর এমন তথ্যই জানা গিয়েছিল। তখন প্রায় নিশ্চিতই ছিল ১৮ নবেম্বর বঙ্গবন্ধুতে মেসিরা খেলবেন প্যারাগুয়েরে বিরুদ্ধে।

ওই সময় আর্জেন্টিনাকে বাংলাদেশে আনার বিষয়ে তদারকি করছিল একটি প্রতিষ্ঠান। যারা এজেন্টের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। সেই আলোচনার প্রেক্ষিতেই দিনক্ষণও চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে খরচসহ নানা জটিলতায় ম্যাচটি আয়োজন থেকে পিছিয়ে আসেন আয়োজকরা। কিন্তু আর্জেন্টিনার ম্যাচটি বাতিল হয়নি। আগের সূচীতেই তারা আজ রাতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামতে যাচ্ছে। তবে প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে নয়। এবার মেসি-এ্যাগুয়েরোরা লড়বেন নিজ মহাদেশ দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিবেশী উরুগুয়ের বিরুদ্ধে। ম্যাচটির ভেন্যু নিয়ে অবশ্য বিতর্ক চলছে। কেননা মেসি-সুয়ারেজদের এই দ্বৈরথটি হবে বিশ্বে শান্তি নষ্ট করার জন্য চিহ্নিত ইসরাইলের মাঠে। তেল আবিবের ব্লমফিল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টা ১৫ মিনিটে।

বিশ্বকাপের আগেও ইসরাইলের মাটিতে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছিল। সারাবিশ্বের শান্তিকামী মানুষের তুমুল প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ইসরাইলের মাটিতে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করেছিল। কিন্তু ইসরাইল নিজেদের দেশকে শান্তিকামী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারই অংশ হিসেবে তেল আবিবে আবারও মেসিদের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করছে তারা।

এবার পার্থক্যটা হচ্ছে মেসিদের প্রতিপক্ষ ইসরাইল নয়, উরুগুয়ে। এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি-এ্যাগুয়েরো থেকে শুরু করে খেলবেন সব তারকা ফুটবলার। উরুগুয়ের হয়েও খেলবেন লুইস সুয়ারেজদের মতো তারকা। বিশ্বের দৃষ্টি নিজেদের দেশে নিবদ্ধ করার জন্য ইসরাইল সবধরনের চেষ্টাই করে যাচ্ছে। কিন্তু এই ম্যাচ পড়ে গেছে কড়া সমালোচনার মুখে। বিশেষ করে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষরা চাচ্ছেন না মেসি-সুয়ারেজদের মতো ফুটবলাররা ইসরাইলের মতো একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে গিয়ে খেলুক! এ কারণে চারদিক থেকেই তারা মেসিদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন, যেন তারা তেল আবিবে গিয়ে না খেলেন। ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রতিনিয়ত যে পরিমাণে নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে ইসরাইল তাতে করে শান্তিকামী মানুষরা প্রতিবাদমুখর হবে এটাই স্বাভাবিক। দিন কয়েক আগে বার্সিলোনার হোম ভেন্যু ন্যু-ক্যাম্পের বাইরে প্রতিবাদকারীরা ব্যানার-প্লাকার্ড নিয়ে সেøাগান দিয়ে মেসি-সুয়ারেজের প্রতি আহ্বান জানান। সেখানে তারা লিখেন, ‘না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে এখনও যথেষ্ট সময় হাতে আছে তোমাদের। প্লিজ, তোমরা সেখানে যেও না।’ প্রতিবাদকারীরা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘আপনি কি জাতিগত বিদ্বেষে ভরপুর দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে যাওয়ার চিন্তাও করতে পারবেন? দয়া করে আপনারা তাদের (ইসরাইল) যুদ্ধাপরাধ, হত্যা-নির্যাতন, ধর্ষণকে ঢেকে দেয়ার জন্য আয়োজিত ফুটবল ম্যাচ খেলতে যাবেন না। এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে গাজার একেবারে কাছে। যেখানে প্রতিনিয়ত ফুটবলারের পায়ে শট করা হয়। আপনারা কি এমন একটি অন্যায়ের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নেবেন?’ তবে এবার ইসরাইলে মেসিদের খেলা প্রায় নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, আর্জেন্টিনা-উরুগুয়ে ম্যাচ আয়োজনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসরাইল। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত সব বাধা পেরিয়ে মেসিরা ইসরাইলের মাটিতে খেলেন কিনা।

ম্যাচটিতে মাঠে নামার আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে আর্জেন্টিনা। সৌদি আরবের রিয়াদের কিং সাউদ ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে গত শুক্রবার এই ম্যাচে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরেই গোল করে দলকে জেতান ফিফা বর্ষসেরা তারকা মেসি। এই জয়ে বেজায় খুশি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ম্যাচের শুরুতে আমরা সংগ্রাম করছিলাম। আমরা কিছু ভুল করেছিলাম। এতে করে ব্রাজিল কিছু সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক উন্নতি করি। মেসি আরও বলেন, জয়ের ধারায় থাকলে শান্তিতে কাজ করা যায়। ভবিষ্যতের জন্য এটি খুবই ইতিবাচক দিক।