১২ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মশক নিধনে স্যাটেলাইট

ছোট্ট কীট মশা কত যে ভয়ঙ্কর হতে পারে তা শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বকেও প্রচ-ভাবে আলোড়িত করছে। ক্ষুদ্র এই পতঙ্গটির প্রভাব-প্রতিপত্তি যে কত ব্যাপক আজ সকলের তা জানা। ভয়ঙ্কর সব প্রাণঘাতী রোগের জীবাণু বহন করা এক মারাত্মক সর্বনাশা জীব মশা। চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া ডেঙ্গুর উপদ্রব সারাদেশকে যে মাত্রায় ভোগান্তির কবলে ফেলে দেয়, সেখানে সম্পূর্ণ বিপন্মুক্ত হওয়া এখনও সম্ভব হয়নি। মশাটি শুধু যে বাংলাদেশকেই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত করেছে তা নয়, সারাবিশ্বে বিশেষ করে আমেরিকার মতো শিল্পোন্নত, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিস্তারের দেশটি আজ এই ক্ষুদ্র মশাকে নিশ্চিহ্ন করতে উন্নত গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমকে প্রতিনিয়তই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ছোটকালে শেখা একটি প্রবাদ বাক্য মশা মারতে কামান দাগা আজ অনেকটাই সত্যের মুখোমুখি। কারণ এই ক্ষুদ্রতম মশক নিধনে সাধারণ ওষুধ এখন প্রায় অকার্যকর অবস্থায়। যার জন্য খোদ আমেরিকাতেই শুরু হয়েছে মশা নির্মূলের যাবতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যা এই সামান্য কীটটির সবাংশে নির্বংশ কার্যক্রমকে শতভাগ এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে। ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এডিস মশাটিকে নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশও উৎকণ্ঠিত, উদ্বিগ্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস আগে এডিস মশাকে নিধন করতে গুগলে ড্রোন নামিয়েছিল। এখন গুরুভার কাঁধে নিল বৈজ্ঞানিক সংস্থা নাসা। নাসার সঙ্গে সমন্বিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সংস্থার ল্যাবরেটরির সম্পৃক্ততায় স্যাটেলাইট প্রক্রিয়া ড্রোনের চেয়েও অপেক্ষাকৃত শক্তিধর নতুন গবেষণামূলক কর্মবিধি। এয়ারট্রাপিংসহ আরও ছোট ছোট সংস্থার যোগসাজশে এই বৃহদাকার স্যাটেলাইট মশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক গবেষণাকর্মকে যুক্ত করতে সক্ষম হবে। ক্যামেরা, তথ্য যাচাই ও বিশ্লেষণ সাপেক্ষে এই নতুন পদ্ধতি এডিস মশা শনাক্ত, বংশ বিস্তার, প্রজনন স্থান নির্ধারণ সব কিছুর ব্যাপারে বাস্তবসম্মত উপাত্ত দিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুধু আমেরিকা কেন বাংলাদেশ, ভারতসহ সারা এশিয়া বর্তমানে মশাবাহিত রোগের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত। মশার এমন ব্যাপক বিস্তারের জন্য আবহাওয়া ও পতঙ্গ বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনকে সর্বাধিক বিবেচনায় এনে এর প্রতিকারের প্রতিও বিশেষ নজর দিতে গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশ্বে ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা বৃদ্ধি, যা মশার উপদ্রব এবং বংশ বিস্তারের নিয়ামক, তাকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক কলা-কৌশলে নিশ্চিহ্ন করতে নতুন গবেষণার প্রয়োজনবোধ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় বর্তমানে এই স্যাটেলাইট উদ্ভাবনের মূল প্রেরণা।

বাংলাদেশ ও কলকাতায় বর্তমানে এই প্রাণঘাতী রোগের প্রকোপ কমে এলেও সম্পূর্ণ মুক্ত হয়েছে এমন দাবি করা যায় না। কারণ বাংলাদেশে এখনও প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির তথ্য বিদ্যমান। স্যাটেলাইট প্রক্রিয়াটি আমাদের দেশে প্রয়োগ করা যায় কিনা তা নিয়েও সংশ্লিষ্টরা ভাবছেন। তবে নতুন এই বৈজ্ঞানিক ভাবনাটি যেমন ব্যযবহুল, একইভাবে সময়সাপেক্ষ। মানসম্মত বিজ্ঞানী ও গবেষকের সংখ্যাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব দিক থেকে বিবেচনায় আমাদের প্রচলিত কার্যকরী মশক নিধন ওষুধের ওপরই নির্ভর করতে হবে। সেই স্থানটিতে শতভাগ স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিতে হবে অবশ্যই।

এই মাত্রা পাওয়া