১২ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ হাজী আবদুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজ এমপিওভুক্ত করা প্রসঙ্গে

  • মতি লাল দেব রায়

বাংলাদেশের চায়ের দ্বিতীয় রাজধানীখ্যাত বহু ভাষাভাষী ও বহু জাতিসত্তার মানুষের পদচারণায় মুখরিত কমলগঞ্জ উপজেলা একটি অবহেলিত ও উন্নয়নশীল মান জনপদ। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুরে এই উপজেলায় আছে পর্যটন আকৃষ্ট বহু স্থান তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্র বাহিনী কর্তৃক তৈরি করা বিরাট রানওয়ে সংবলিত একটি বিরাট বিমানবন্দর যা বর্তমানে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই উপজেলাতে ১৪টি চা বাগান যে চা বাগান থেকে বিগত দিনে সরকারী কোষাগারে বিপুল পরিমাণ বিদেশী মুদ্রা জমা হয়েছে, এই উপজেলার পাহাড়ী টিলা ভূমিতে প্রায় ৮টি খাসিয়া পুঞ্জি (গ্রাম) আছে, পান চাষ করা যাদের একমাত্র জীবিকা, কমলগঞ্জের খসিয়া জনগোষ্ঠীর দ্বারা উৎপাদিত এই পান মধ্য প্রাচ্যের দেশসহ সুদূর ইউরোপিয়ান দেশে ও রফতানি হয়। এই উপজেলায় উৎপাদিত প্রাকৃতিক সম্পদ বাঁশ দিয়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল শিল্প উন্নয়ন সংস্থার ছাতক পাল্প ও পেপার মিল ও চন্দ্রঘনা কাগজের মিল চলে। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একমাত্র উপজেলা। এখানে আছে পর্যটন আকৃষ্ট হাম হাম জল প্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেইক, মুনিপুরি কালচারাল একাডেমি, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, ক্যামেলিয়া হাসপাতাল নামক একটি ক্যান্সার হাসপাতাল, স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সিপাহী হামিদুরের স্মৃতিসৌধ, ছয় শ্রীর দীঘি, এই উপজেলার পাশেই রয়েছে আন্তর্জাতিকমানের পাঁচ তাঁরা হোটেল সুলতান। বাংলদেশের একমাত্র উপজেলা যেখানে রয়েছে মুনিপুরি খাসিয়া, গারো, হাজং, চা সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বাহারি জীবন ব্যবস্থা দেখার সুযোগ। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর এই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার আশাতীত উন্নতি হওয়ায় বহু জাতিক জনগোষ্ঠীর আবাসস্থলের কারণে স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে যার ফলশ্রুতিতে জনগণের এবং দেশের শিক্ষার হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিবর্গের উদ্যোগে গঠিত হয় হাজী আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজ। এই উপজেলা একমাত্র উপজেলা যেখানে বৈচিত্র্যে ভরপুর একটি বহুজাতিক জাতিসত্তার মানুষের বাসস্থল সেহেতু এখানে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সামাজিক ঐক্যতান যা বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলায় বিরল। তাই এই বৈচিত্র্যময় উপজেলার প্রতিটি পরিবারের ছেলেমেয়েদের উপস্থিতিতে সকল স্কুল কলেজ প্রতিদিন মুখরিত থাকে। উপজেলার খুব কম পরিবার পাবেন যে পরিবারের ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়ে যায় না। অনেক ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশে এবং বিদেশে কর্মরত। এই উপজেলা একমাত্র উপজেলা যেখানে নেই কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, সামাজিক সম্প্রীতির উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত এই উপজেলা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হাজী আবদুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজটি বিগত ১৯ বছর যাবত সরকারী কোন অনুদান ছাড়া স্থানীয় উৎসাহী শিক্ষা অনুরাগীর আর্থিক সহায়তায় চলছিল। দীর্ঘদিন যাবত কলেজের প্রভাষক, কর্মচারী ও এলাকার জনসাধারণ অপেক্ষা করে আসছিল যে এবার অন্তত এই কলেজটি সরকারী এমপিওভুক্ত হবে কিন্তু গত ২৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে কলেজের প্রভাষক, কর্মচারী ও ছাত্রীরা ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছেন। এই কলেজে বর্তমানে ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজের অধ্যক্ষ, ১৬ প্রভাষক ও ৫ কর্মচারী দীর্ঘ ১৯ বছর যাবত নামমাত্র সম্মানীতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষক কর্মচারীরা বিনা বেতনে কর্মরত থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে ধরে রেখেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আবদুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজ ফলাফলের ক্ষেত্রে ভাল ফল অর্জন করেছে এবং প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ লাভ করেছে। ২০০৩ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে ও ২০০৪ সালে কলেজটি জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কলেজ) হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করে এবং ২০০৪ সাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেন্যু-০২ হিসেবে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে।

রাজধানী থেকে প্রায় ২২৫ মাইল দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই মহিলা কলেজটি সদ্য এমপিওভুক্ত ২৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমপিওভুক্ত হওয়ার সকল যোগ্যতাসম্পন্ন হাজী আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজটিকে এমপিওভুক্ত করার জন্য শিক্ষা অনুরাগী শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর দীপু মনির জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই কলেজের এমপিও ভুক্তির ওপর নির্ভর করছে ৭০০ জন ছাত্রীর উচ্চতর শিক্ষার ভবিষ্যত ও ১৬ জন প্রভাষক ও ৬ জন কর্মচারীর বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, কমলগঞ্জ সোসাইটি ইউএসএ ইঙ্ক, নিউইয়ক

এই মাত্রা পাওয়া