১১ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পদ্মা সেতুর ১৬তম স্প্যান বসছে আজ

  • দৃশ্যমান হবে আড়াই কিমি

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ আজ মঙ্গলবার বসতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর ১৬তম স্প্যান ৩ডি। স্প্যানটি ১৬ ও ১৭ নং পিলারের ওপর বসানো হবে। আর এটি বসে গেলে সেতুর ২৪শ’ মিটার বা প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে। এছাড়া এ মাসেই পদ্মা সেতুতে বসতে যাচ্ছে অন্তত আরও দুটি স্প্যান। এর পূর্বে ১৫টি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটির ২২৫০ মিটার বা দুই কিলোমিটারের অধিক দৃশ্যমান হয়েছে। এখন দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা সেতুও দীর্ঘায়িত দৃশ্যমান হবে।

এসব তথ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর একজন দায়িত্বশীল প্রকৌশলী জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ভাসমান ক্রেন তিনাই-ই-তে করে স্প্যানটি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে নিয়ে যাওয়া হবে। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ১৬ ও ১৭ নং পিলার দূরত্ব কম হওয়ায় এটি নিয়ে যেতে ভাসমান ক্রেনের তেমন সময় লাগবে না। আশা করা যাচ্ছে আবহাওয়াসহ সব কিছু অনুকূলে থাকলে দুপুরের মধ্যেই স্প্যানটি পিলারের ওপর বসানো সম্ভব হবে।

এর পরে কয়েকদিনের মধ্যেই ‘৪ডি’ নম্বর স্প্যানটি ২২ ও ২৩ নম্বর খুঁটিতে বসানো হবে। এটির প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। এ ছাড়া ২১ ও ২২ নং পিলারের ওপর আরও একটি স্প্যান এ মাসেই বসানো হবে।

দায়িত্বশীল ওই প্রকৌশলী আরও জানান, ২২ ও ২৩ নম্বর খুঁটির জন্য তৈরি করা ৪ডি স্প্যানটি ২৮ ও ২৯ নম্বর খুঁটির কাছে প্লাটফর্ম তৈরি করে নদীর তীরে রাখা আছে। কিন্তু নদীর চ্যানেলের নাব্যের কারণে স্প্যানটি সেখান থেকে তুলে এনে স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। পলি জমে থাকায় নাব্য সঙ্কটের কারণে ক্রেনবাহী জাহাজ খুঁটির কাছে পৌঁছতে পারছিল না তাই স্প্যান বসাতে বিলম্ব হচ্ছিল। তবে দিনরাত ড্রেজিং করে ওই এলাকায় নাব্য ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এদিকে ওয়ার্ক সপের ইয়ার্ডে ৬এ, ৬বি, ৫সি ও নম্বর স্প্যান বেশ কিছু দিন ধরে তৈরি আছে। উচ্চ ক্ষমতার ড্রেজারে রাত দিন ড্রেজিং করায় নাব্য সঙ্কট এখন কমে এসেছে। এদিকে ৪১ স্প্যানের মধ্যে মাওয়ায় এসছে ৩১ স্প্যান। এর মধ্যে ১৫ স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। আর পাঁচটি রেডি এবং তিনটি রং করা ছাড়া বাকি আটটি স্প্যান ফিটিংয়ের কাজ চলছে।

সেতুর দায়িত্বশীল প্রকৌশলী বলেন, সেতুর ৪২টি খুঁটির মধ্যে ৩৩ খুঁটি সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। বাকি নয়টি খুঁটির কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এখন শুধু পাইলের ওপর ক্যাপিং করার কাজ রয়েছে। এটি এখন কোন কাজই নয়। বসে যাওয়া স্প্যানে স্ল্যাব স্থাপনের কাজও চলছে সমান তালে। সেতুর নিচের অংশে রেলওয়ে স্ল্যাব বসে গেছে ৩৬২টি। রেলওয়ে ২৯৫৯টি প্রিকাস্ট স্ল্যাব প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ২৯২৪টি শেষ হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বহুমুখি সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এই সেতুর কাঠামো। ইতোমধ্যে ১৫টি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে সেতুটির ২২৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। এ মাসে তিনটি স্প্যান বসে গেলে সেতুর প্রায় অর্ধেক দৃশ্যমান হবে।

নির্বাচিত সংবাদ