১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্যাস বিস্ফোরণ

চট্টগ্রাম মহানগরীর পাথরঘাটা এলাকায় এক ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে সাতজন নিহত এবং কয়েকজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন। সকালের দিকে ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় বিস্ফোরণে ভবনসহ আশপাশের বাড়িঘরও কেঁপে ওঠে। পাঁচ তলার এই ভবনের নিচতলায় ঘটে এই বিস্ফোরণ। নিচ তলায় সন্ধ্যা রানী দেবনাথ সকাল বেলায় পূজার জন্য প্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণ হতে পারে। একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে গ্যাস লিকেজের কোন আলামত খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকেও গ্যাসজনিত কারণে বিস্ফোরণ হতে পাারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্ঘটনার শিকার ভবনটি পরিদর্শন করেন। অনাকাক্সিক্ষত এই দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক যে ক্ষয়ক্ষতি, তা শুধু প্রাণ সংহারই নয় ভবনসহ চারপাশের প্রাচীর বিধ্বস্ত হওয়ায় সমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভবনটি। চারপাশের চূর্ণ-বিচূর্ণ প্রাচীর, ভাঙ্গা ইটের টুকরা ও লোহার রড গ্রেনেডের স্পিøন্টারের মতো আশপাশের মানুষের শরীরে আঘাত করে হতাহতের ঘটনা ঘটায়। বন্দরনগরীর পাথরঘাটা এলাকার কর্মব্যস্ত সকালটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে স্তব্ধ হয়ে যায়। শুধু ভবনের ভেতরেই নয়, বাইরে, রাস্তায় পথচারীরা এমন মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে কেউ মারা যান, অন্যরা আহত অবস্থায় হাসপাতালে। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হরেক রকম অভিমত প্রকাশ পাচ্ছে। চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে বলে ভবন নির্মাণে কোন বিধিনিষেধ মানা হয়নি। আবার গ্যাস কর্তৃপক্ষও দাবি করছে তাদের দেয়া লাইনে কোন ধরনের গ্যাস নিঃসরণের দুরবস্থা তৈরি হয়নি। তেমন আলামত খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ভবনের ভেতর আগুন লাগা, বিস্ফোরণ কিংবা গ্যাস সিলিন্ডারের ভয়ানক বিপত্তি ইতোমধ্যে দেশে রাজধানী ও অন্যত্র বেশ কয়েকবার ঘটেছে। ভবনের কোথাও না কোথাও ত্রুটিবিচ্যুতি তো থাকেই। শুধু গ্যাস লাইন নয়, বিদ্যুত ও পানির লাইনের জন্যও যে ধরনের খোঁড়াখুঁড়ি পুরো পরিবেশকে বিপন্ন করে তোলে, তেমন দুর্বিপাক-দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে যায়। ভবন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কিংবা বিদ্যুত, পানি এবং গ্যাস বিতরণকারী সংস্থাগুলোও সব ধরনের নিয়ম-কানুন মেনে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে কিনা তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। বেশ কয়েকবার প্রত্যক্ষ করা এমন অবর্ণনীয় দুর্দশা যে আশপাশের হরেক রকম ব্যবস্থাপনার ত্রুটিবিচ্যুতিরই চরম নিদর্শন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেখা যাক সুষ্ঠু ও যথার্থ তদন্ত প্রতিবেদনে কি তথ্য-উপাত্ত বের হয়ে আসে। তবে ৩০ সেকেন্ডের এই বিস্ফোরণের ঘটনা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে প্রত্যক্ষ করা গেছে। সেখান থেকে অন্যান্য আলামতও সংগ্রহ করা যেতে পারে। সিটি মেয়রও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নগরের অপরিকল্পিত ভবনগুলো আসলে কোন নিয়ম-বিধির আওতায় তৈরি করা হয় না। দক্ষ জনবল ও সূক্ষ্ম নজরদারির ঘাটতিও এক্ষেত্রে উল্লেখ্য।

যাই হোক, এমন সব ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নগরের অধিবাসীরা জীবনযাপন করছে, সেটা যে আর কতদিন চলবে তা বলা কঠিন। বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা না ঘটলে কারও টনক নড়ে না। মর্মান্তিক শোচনীয় বিপত্তি ঘটার পরও এর তদন্ত কার্যক্রম শেষ অবধি গন্তব্যে পৌঁছায় সে ব্যাপারেও সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ আছে। সুতরাং অপরিকল্পিত, ঝুঁকিপূর্ণ, বিপজ্জনক ভবনগুলোকে জরুরী নজরদারিতে এনে ত্রুটিবিচ্যুতি চিহ্নিত করে যথাযথ করণীয় ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত আবশ্যক। তা না হলে আধুনিক, মানসম্মত, বাসযোগ্য ও নিরাপদ নগরী গড়ে ওঠে একেবারে সুদূর পরাহত থেকে যাবে।