১২ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গার্মেন্টসে ফিরুক সুবাতাস

ব্যবসায় চ্যালেঞ্জ থাকবে, কিন্তু তা মোকাবেলা করার সাহস ও আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। দেশের বস্ত্র খাত বিষয়ে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত প্রতিবেদন পড়ে আশা হারানো দুর্ভাগ্যজনক। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস রফতানি সামান্য বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে শেয়ার সামান্য কমেছে। কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে যাতে এই কমতির ধারা দীর্ঘস্থায়ী না হতে পারে। আমাদের তৈরি পোশাক রফতানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে লিড টাইম (পণ্য সরবরাহের সময়সূচী) বেশি হওয়া। কেন এটা হচ্ছে? শ্রমিকের দক্ষতার ঘাটতির কারণে। তাই প্রথম দৃষ্টি দিতে হবে সেদিকেই।

যে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্যই চাই দক্ষ জনবল। শ্রমিকরা হলেন উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। তাই মানসম্পন্ন গতিশীল উৎপাদনের জন্য চাই মানসম্পন্ন এবং গতিশীল শ্রমশক্তি। আর সে জন্য দক্ষতার কোন বিকল্প হতে পারে না। দক্ষতা অর্জনের বিষয়। সে জন্য প্রশিক্ষণ ও অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। রফতানিমুখী শিল্পের জন্য এই দক্ষতা কত জরুরী সেটি সংশ্লিষ্ট মহল ভাল জানেন। আন্তর্জাতিক বাজার ধরে রাখার জন্য দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ পোশাক কারখানায় নারী-পুরুষ মিলে ৪০-৪৫ লাখ শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের অধিকাংশই অদক্ষ। এসিডির জরিপ বলছে, পোশাক শিল্পের সাতটি গ্রেডের চারটিতেই কাজ করছেন আধা ও অদক্ষ শ্রমিক। এ ছাড়া বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ শিল্পে শ্রমিকের চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ৫০ লাখ ২৭ হাজার ৪৬৩ জনে। ওই সময় আরও ২১ লাখ শ্রমিককে নতুন করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক পরিণত করার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। অদক্ষ শ্রমিকের ভিড়ে দেশের শীর্ষ এ রফতানি খাতের প্রবৃদ্ধি এখন কিছুটা সঙ্কটের মুখে আছে, এটি অস্বীকারের নয়। কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে বাড়ছে নানামুখী সঙ্কট। এ অবস্থায় পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরি দেয়ার পন্থাই হতে পারে অগ্রযাত্রার পূর্বশর্ত। তাই প্রশিক্ষণ দিয়ে পোশাক খাতে ১৫ লাখ দক্ষ শ্রমিকের চাকরি দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প একটি বিশ্ব শিল্পের অংশ। এর মধ্য দিয়ে যে উদ্বৃত্ত মূল্য তৈরি হয় তার বিতরণ হয় বিশ্বব্যাপী। বিশ্ববাজারের বিভিন্ন পক্ষ সম্পর্কে সংগৃহীত তথ্য থেকে একটা গড় হিসাব পাওয়া যায়। বাংলাদেশের যে তৈরি পোশাক কারখানা মালিক বিক্রি করছেন ১৫-২০ ডলারে তা ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হচ্ছে ১০০ ডলারে, গড়ে তার মধ্যে ২৫-৩০ ডলার নিচ্ছে সেই রাষ্ট্র, ৫০-৬০ ডলার নিচ্ছে বিদেশী কোম্পানিগুলো আর শ্রমিক পাচ্ছে অনেক কম। আমরা মনে করি এ অবস্থা আর চলতে দেয়া যায় না।

গার্মেন্টসে রফতানি কমার প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি বলছেন, ‘আমরা এখন কঠিন রোগে আক্রান্ত। মারা যাওয়া ছাড়া আমাদের আর গত্যন্তর নেই।’ যিনি নেতৃত্ব দেবেন তার কাছ থেকে দেশ চায় দৃঢ়তা, দায়িত্বশীলতা এবং সঙ্কট উত্তরণের গঠনমূলক প্রস্তাব, হতাশা নয়। বর্তমান সরকার শ্রমবান্ধব সরকার। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকছেন সরকারের কাছ থেকে। সরকারকে উভয় পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দিক বিবেচনা করেই অগ্রসর হতে হয়। সেক্ষেত্রে সরকারের কাছে জনকল্যাণচিন্তা সব সময়েই অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। সরকার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করেছে। এখন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে তাদের চাকরি প্রদানের পরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে। একই ভাবে অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের ব্যাপারেও সরকারের ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। তাই আশাহত হওয়ার কিছু নেই।