০৬ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিবহনে চাঁদাবাজির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও জড়িত ॥ নাসিম

পরিবহনে চাঁদাবাজির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও জড়িত ॥ নাসিম

অনলাইন রিপোর্টার ॥ চাঁদাবাজিকে পরিবহন সেক্টরের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, পরিবহনে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়। চাঁদার বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক নেতারই ধর্ম নেই। এ বিষয়ে সবাই এক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এর সঙ্গে জড়িত।

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট (ফারুক) আয়োজিত জেলহত্যা দিবস ও শেখ রাসেলের জন্মদিনকে ‘শিশু রক্ষা’ দিবস হিসেবে পালনের দাবিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাসিম বলেন, আমি একদিন হোম মিনিস্টার ছিলাম। এখন আমি বলছি— পরিবহন সেক্টরে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চাঁদাবাজি। এখানে বামপন্থীরাও আছে, আওয়ামী লীগ-বিএনপি সবাই আছে। এই পরিবহন সেক্টরের নেতারা সবাই রাজনীতি করেন। কিন্তু চাঁদার বিষয়ে সবাই এক। ওখানে কমিউনিস্ট নেতার সঙ্গে আমি লীগ নেতার কোনও পার্থক্য নাই, বিএনপি নেতার সঙ্গে জামায়াত নেতার কোনও পার্থক্য নাই। এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও জড়িত। চাঁদার সমস্যা সমাধান করা গেলে এই সেক্টরের অনেক সমস্যারই সমাধান হবে।

পরিবহন ধর্মঘটের বিষয়ে মালিক-শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের রাজনীতি করে, শেখ হাসিনা জনগণের রাজনীতি করেন। আপনারা আলোচনায় বসতে পারতেন। আপনারা টেবিলে না বসে, মানুষকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আগেই ধর্মঘট ডেকে দিলেন। এটা ঠিক করেননি।

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনটি প্রয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে জিম্মি করে ধর্মঘট শুরু হয়ে গেল। জনগণকে জিম্মি করে যে ধর্মঘট হয়, তাকে আপনারা সমর্থন করেন, এই রাজনীতি আমরা করি না।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মতো জনগণকে জিম্মি করা পরিবহন সেক্টরের অপরাজনীতির বিরুদ্ধেও অভিযানের দাবি জানান আওয়ামী লীগের এ সিনিয়র নেতা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাসিনো কাণ্ড নিয়ে যদি এত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে, তাহলে এদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্যাসিনো কাণ্ড যারা করে, তারা অপরাধী। তাহলে কেন পরিবহন সেক্টরে যারা জনগণকে জিম্মি করে রাখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। শক্ত করে ব্যবস্থা নিন, তাহলে এই পরিবহন সেক্টরে জনগণকে জিম্মি করে ধর্মঘট করার সাহস কেউ পাবে না।

এসময় তিনি শেখ রাসেলের জন্মদিনকে জাতীয় শিশু রক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা যায় কিনা, এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করবেন বলেও জানান।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এমএ কাদের খান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কার্যনির্বাহী সভাপতি ফাল্গুনী হামিদ প্রমুখ।

নির্বাচিত সংবাদ