০৬ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘কিডনিদাতার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে’

‘কিডনিদাতার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে কিডনি বিকল রোগীদের জন্য কিডনিদাতার সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। টাকা দিয়েও কিডনী সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশে প্রায় ১০ হাজার কিডনি বিকল রোগী প্রতি বছর কিডনি প্রতিস্থাপন করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে মাত্র দশটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বছরে প্রায় ২৫০টি কিডনি সংযোজন হয়ে থাকে। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ন্যূনতম ৮শ’ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। তাই ২০১৮ সালের সংশোধিত বাংলাদেশের ‘ মানব দেহের অঙ্গ -প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের কিছুটা পরিবর্তন আনা দরকার। ডায়ালাইসিস চালিয়ে যাওয়ার তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপনব্যয় অনেক কম। তাই রক্তের সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ না রেখে যেকোন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ ও সবল ব্যক্তিকে কিডনি দানের অনুমতি দেয়া দরকার। এক্ষেত্রে কিডনি দাতা ও গ্রহীতা নির্ণয়ের জন্য এবং অবৈধ কিডনি বাণিজ্য প্রতিরোধ করতে সরকারি উদ্যোগে ‘ প্রত্যয়ন প্রদানকারী বোর্ড ’ গঠন করে দিতে পারে।

বুধবার রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে দেশে বিদ্যমান কিডনি সংযোজন কার্যক্রমের নানা প্রতিবন্ধবকতা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশেসজ্ঞ চিকিৎসকেরা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. মহিবুল্লাহ খন্দকার, অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক ডা. এস এ হাসিফ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে যেসব অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল ও জটিল, সেই সব রোগের মধ্যে বিকল কিডনীরোগ অন্যতম। পুষ্টি, অপ্রয়োজনীয় বা ভুল চিকিৎসা এবং পরিবেশগত কারণে দরিদ্র জনগণ অধিক হারে বিকল কিডনিরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। বিকল কিডনীর উত্তম চিকিৎসা হচ্ছে কিডনী সংযোজন। ডায়ালাইসিসে উপকার পাওয়া গেলেও খুবই ব্যয়বহুল। ডায়ালাইসিসের তুলনায় বিকল কিডনী রোগীর শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যয় অনেক কম। দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে সুস্থ ব্যক্তির দেহ থেকে একটি কিডনী সংগ্রহ করে সরাসরি একজন বিকল কিডনী রোগীকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে ১৫ থেকে ২০ বছর সুস্থ জীপনযাপন করতে পারেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কিডনি প্রতিস্থাপনের অবাধ সুযোগ থাকার বিষয়টি তুলে ধরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইরান, সৌদি আরবসহ অনেক দেশে যেকোন প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ ব্যক্তি অপরিচিতি রোগীর জন্য কিডনি দান করতে পারেন। আর ভারতে অনাত্মীয় ব্যক্তি অঙ্গ দান করতে চাইলে প্রত্যেক রাজ্যে নিবন্ধিত কমিটিকে জানাতে হয়। শ্রীলঙ্কাতেও একই অবস্থা বিদ্যমান।

কিডনি প্রতিস্থাপন ও ডালাইসিস দেয়ার তুলনামুলক সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর দশ হাজার কিডনী প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। দেশে বছরে প্রায় ২৫০টি কিডনী প্রতিস্থাপন হয়ে থাকে। দেশে কিডনি সার্জনের সংকট রয়েছে। তবে তা স্বল্প সময়ের মধ্যে কিডনী প্রতিস্থাপনকারী সার্জন সৃষ্টি করা সম্ভব। কিন্তু আইনী জটিলতা সহ নানা অনাকাঙ্খিত ঘটনার কারণে কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমে অংশ নিতে চান না সার্জনরা।

এভাবে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের জটিলতার কারণে শত শত কিডনি বিকলরোগী স্বাভাবিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিডনীদাতার যোগান থাকলে মাত্র ২ লাখ টাকা দিয়ে কিডনী প্রতিস্থাপন করানো সম্ভব। আর একই কাজ ভারতে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ৪০ লাখ টাকা, সিঙ্গাপুরে এক থেকে দেড় কোটি টাকা এবং আমেরিকার মত উন্নত দেশে তা দুই কোটি ট্কাা পর্যন্ত ব্যয় হবে। দেশের মেডিক্যাল কলেজগুলোতে কিডনী প্রতিস্থাপন সেন্টার গড়ে তোলা সম্ভব। ডায়ালাইসিস শুরু করলে তা চালিয়ে যেতে হয় আজীবন।

একজন কিডনীরোগীকে প্রতি সপ্তাহে ডায়ালাইসিসের পেছনে ব্যয় করতে হয় গড়ে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। ডায়ালাইসিসের এই উচ্চ ব্যয় গরীব রোগী তো দূরের কথা, অনেক ধনাঢ্য পরিবারের রোগীর পক্ষেও আজীবন বহন করা সম্ভব হয়ে উঠে না। ডালাইসিস করানোর তিন বছরের খরচ দিয়ে অনায়াসেই কিডনী প্রতিস্থাপন করিয়ে নেয়া যায়। তবে কিডনীদাতার পথ সুগম করে দিতে হবে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশেও কিডনীরোগের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কিডনিদাতার সংকট দেখা দিয়েছে। এ রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোসহ সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো উচিত। অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইনের সময়োপযোগী সংস্কার, সংশোধন ও সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ১০ হাজার কিডনি বিকল রোগী প্রতি বছর কিডনি প্রতিস্থাপন দ্বারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে মাত্র দশটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বছরে প্রায় ২৫০টি কিডনি প্রতিস্থাপন হয়ে থাকে। কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ন্যূনতম ৮শ’ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নির্বাচিত সংবাদ