১৬ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট ২১ ঘন্টা পূর্বে    
ADS

ব্রিটিশ আমলের রেল আইনকে যুগোপযোগী করতে সংশোধনী আনা হবে : রেলপথমন্ত্রী

ব্রিটিশ আমলের রেল আইনকে যুগোপযোগী করতে সংশোধনী আনা হবে  : রেলপথমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রেলওয়েতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্রিটিশ আমলের রেল আইনকে যুগোপযোগী করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। এজন্য আইনে কিছু সংশোধনী আনা হবে বলেও জানান তিনি। একইসাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মন্দবাগ রেলস্টেশনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় তূর্ণা নিশীথার চালক তাহের উদ্দিন, সহকারী চালক অনুপ দেব ও পরিচালক (গার্ড) আব্দুর রহমানের দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের অবহেলাজনিত কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তা প্রমাণিত হয়েছে। দুর্ঘটনা নিয়ে গঠিত ৫টি কমিটির মধ্যে ৩টির প্রতিবেদনে সাময়িক বরখাস্ত এই তিনজনকে দায়ী করা হয়েছে। কমিটি আগামীতে দূর্ঘটনা রোধে ৫ দফা সুপারিশ করেছে।

বুধবার বিকালে রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এসব কথা জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মন্দবাগ রেলস্টেশনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট উপলক্ষে এ সম্মেলনৈর অয়োজন করা হয়। এ সময় রেলসচিব মোফাজ্জেল হোসেন ও মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামানসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ৫টি কমিটির মধ্যে ৩টিই তদন্ত করে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষ্য প্রমাণ পর্যালোচনা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন,তা প্রায় একইরকম। কমিটিগুলোর প্রতিবেদন বলছে, আন্তঃনগর ৭৪১ নম্বর তূর্ণা-নিশীথার লোকোমাস্টার, সহকারী লোকোমাস্টার ও গার্ড সিগন্যাল যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,প্রতিটি দুর্ঘটনার জন্য রেল দায়ী নয়। আপনি ক্রসিং মানলেন না, মোবাইল ফোন নিয়ে রেল লাইনে কথা বলবেন, এতে দুর্ঘটনা ঘটলে রেল দায়ী নয়। কিন্তু রেলের ইঞ্জিন বড় বলে রেলকে দায়ী করা হয়।

রেলপথ মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার আগে চালক যে সময় পেয়েছে, চাইলে তিনি ট্রেন থামাতে পারতেন। কিন্তু তিনি সঠিক সময়ে সঠিক ব্রেক প্রয়োগ করেননি। তবে কমিটিগুলো ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কিছু সুপারিশ করেছে। সেগুলো হচ্ছে, ট্রেনের লোকোমাস্টার, সহকারী লোকোমাস্টার ও গার্ডের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য লোকোমোটিভ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা, ট্রেনের অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ট্রেনের অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীদের শূন্য পদ পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। স্টেশন ও ট্রেনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য ক্লোজ ইউজার গ্রুপের মোবাইল ফোন অথবা আধুনিক অন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা এবং বাংলাদেশ রেলওয়েতে এটিএস (অটোমেটিক ট্রেন স্টপ) ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে বলে কমিটিগুলো মনে করছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ নবেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লাইনের মন্দবাগ স্টেশনের আউটার ক্রসিংয়ে রাত পৌনে ৩টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ দুর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীনসহ মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয় ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে ৫টি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে জেলা প্রশাসন একটি, বাংলাদেশ রেলওয়ে তিনটি এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে।