১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বুয়েটে অহেতুক আন্দোলন

মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও অচলাবস্থা কাটেনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের। ধর্মঘটরত শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবির অধিকাংশ মেনে নেয়ার পরও ছাত্রদের এই অহেতুক আন্দোলন অনভিপ্রেত, অনাকাক্সিক্ষত। উল্লেখ্য, এই হত্যা মামলায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে জরুরী তদন্ত শেষে পুলিশের অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে আদালত। একইসঙ্গে পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। তবে আবরার হত্যাকা-ের নেপথ্যে আরও অন্তত ৬০-৬৫ জনের বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আত্মপক্ষ সমর্থনে তাদের সুযোগ দিতে আরও ২-৩ সপ্তাহ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বুয়েট প্রশাসন। এরপরও অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কারসহ তিন দফা দাবিতে অনড় রয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষার্থীদের এই অনমনীয় ও একগুয়ে আন্দোলনের পেছনে একজন অভিভাবক, যিনি বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, ক্রমাগত ইন্ধন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী। এই অভিযোগ সত্য হলে তা হবে যেমন দুঃখজনক, তেমনি অনভিপ্রেত। কেননা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে ইতোমধ্যে ছাত্র-শিক্ষকদের সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উপাচার্য পর্যায়ক্রমে ছাত্রদের সব দাবি মেনে নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তারপরও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণসহ পরীক্ষা না দেয়ার আদৌ কোন কারণ থাকতে পারে না। মনে রাখতে হবে যে, এতে করে দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ও স্বীকৃত বিদ্যাপীঠ বুয়েটেরই ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। যে বা যারা এর পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন, তাদেরও বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করা বাঞ্ছনীয় অবশ্যই। সংশ্লিষ্টদের এ কথা মানতেই হবে যে, দীর্ঘদিন থেকে বিরাজমান সমস্যা-সঙ্কটের সমাধান রাতারাতি সমাধান করা যায় না।

কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেই যে সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, সেই নিশ্চয়তার গ্যারান্টি দেবে কে? মনে রাখতে হবে যে, বুয়েটের প্রায় প্রতিটি হলেই ছিল এক বা একাধিক টর্চার সেল। সেখানে র‌্যাগিংয়ের নামে বিভিন্ন সময়ে ‘বড় ভাইদের’ ডাকে সাড়া দিয়ে নির্যাতনের শিকার হতে হতো ‘ছোট ভাইদের’। ভিসিসহ প্রভোস্ট, ছাত্র কল্যাণের দায়িত্বে যিনি নিয়োজিত, সর্বোপরি শিক্ষক সমিতি অবশ্যই তা জানত। তাহলে এতদিন তারা এসব বন্ধে আদৌ কোন পদক্ষেপ কেন গ্রহণ করেননি! এ রকম রয়েছে ঢাবি, চবি, জবি, জাবি, রাবিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, এমনকি চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। প্রসঙ্গত মনে পড়তে পারে বুয়েটের মেধাবী ছাত্রী সনির কথাও। যিনি ছাত্রদলের দু’পক্ষের গোলাগুলিতে নিহত হয়েছিলেন। সনি হত্যাকা-ের বিচার অদ্যাবধি সম্পন্ন হয়নি। আরও যা দুঃখজনক তা হলো, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত হত্যাকা-ের প্রায় কোনটিরই বিচার হয়নি। আজ এর জন্য ছাত্র রাজনীতিকে দোষ দেয়া যাবে না কোন অবস্থাতেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি কঠোর ও নিরপেক্ষ হয় যাবতীয় অনিয়ম-দুর্নীতি-অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং নিয়মিত পরীক্ষা গ্রহণসহ পাঠদানে হয় মনোযোগী ও একনিষ্ঠ, তাহলে সেখানে ইতিবাচক মন-মানসিকতাসহ সুস্থ ও সুষ্ঠু পরিবেশের বিকাশ ঘটতে বাধ্য। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দোষী ও দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে দলমতের উর্ধে থেকে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের নিশ্চয়তাও মিলেছে। সে ক্ষেত্রে এ নিয়ে কোন পক্ষেরই রাজনীতি করা উচিত নয়। সবাইকে মনে রাখতে হবে যে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা না করাই ভাল। সবশেষে প্রশ্ন, বুয়েটের শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়ার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া কেন? অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত এই আন্দোলনের আশু অবসান বাঞ্ছনীয় বৈকি।