০৬ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুশফিকের সঙ্গে টপঅর্ডারদের জ্বলে ওঠার পালা

মোঃ মামুন রশীদ ॥ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং নির্ভরতার প্রতীক মুশফিকুর রহীম। মিডলঅর্ডারের স্তম্ভ এবার ভারত সফরেও আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। প্রথম টেস্টের উভয় ইনিংসে যখন বাকিরা ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে নাস্তানাবুদ হয়েছে, তখন মুশফিক করেছেন ইনিংস সর্বোচ্চ রান। ইন্দোর টেস্টে তার প্রথম ইনিংসে করা ৪৩ আর দ্বিতীয় ইনিংসে করা ৬৪ রানের পর ইনিংস ব্যবধানের লজ্জাজনক হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ দল, সেটিও আবার মাত্র ৩ দিনেই। কারণ বাকি ব্যাটসম্যানরা ছিলেন পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ। বিশেষ করে টপঅর্ডারদের ব্যর্থতাই ভোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। এমনকি টেস্ট স্পেশালিস্ট ও অধিনায়ক মুমিনুল হক এবং অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস সুবিধা করতে পারেননি। এবার ইডেন গার্ডেন্সে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন ক্রিকেটাররা। প্রথমবারের মতো দিবারাত্রির টেস্টে গোলাপি বলের বিপক্ষে ব্যাট করতে হবে। নতুন এই চ্যালেঞ্জের সামনে ফর্মহীন টপঅর্ডার ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের নিয়েও আছে ভয়। তাই মুশফিকের ব্যাটের দিকেই তাকিয়ে থাকবে দল। তবে তিনি একা যে দলের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনতে পারবেন না সেটি ইন্দোরেই বোঝা গেছে। ইডেনে বাকিরা কী জ্বলে উঠতে পারবেন?

গত বছর নবেম্বর থেকে চলতি সিরিজ পর্যন্ত ৮ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে ১৫ ইনিংসে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেট জুটিতে সবমিলিয়ে মাত্র ৭টি অর্ধশতাধিক রানের জুটি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ১০৪ রানের জুটি হয়েছিল গত বছর ২২ নবেম্বর চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হওয়া টেস্টে। দ্বিতীয় উইকেটে সেটি করেছিলেন ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক। এ বছর কোন শতরানের জুটি শীর্ষ ৩ জুটিতে দেখা যায়নি। ওপেনিং জুটিতে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে হ্যামিল্টনে ৮৮ ও ৫৭ রানের জুটি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল ও সাদমান ইসলাম অনিক। ওয়েলিংটনে হওয়া দ্বিতীয় টেস্টেও তারা ৭৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন। এরপর থেকে তামিম টেস্ট দলে অনুপস্থিত। তামিমের অভাবটা বেশ ভালভাবেই বোঝা গেছে এরপর বাংলাদেশের খেলা ২ টেস্টে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে এবং ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে প্রথম ৩টি জুটিতে কোন পঞ্চাশোর্ধ রান দেখা যায়নি। এর মধ্যে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সর্বাধিক ৬৪ রান যোগ হয়েছিল মোহাম্মদ মিঠুন ও সাদমান ইসলামের মধ্যে গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রামে। এরপর আর তৃতীয় উইকেটে কোন পঞ্চাশোর্ধ জুটি দেখা যায়নি। অর্থাৎ গত এক বছরে খেলা টেস্টের ১৫ ইনিংসে অর্ধশতাধিক রানের জুটি হয়েছে ওপেনিংয়ে ৪টি (তামিম ছিলেন ৩টিতে), দ্বিতীয় উইকেটে ২টি (তামিম ১টিতে ছিলেন) ও তৃতীয় উইকেটে ১টি। এখান থেকেই তামিমের অভাবটা স্পষ্ট। কিন্তু সেসব ভেবে এখন লাভ নেই। বর্তমানে দুই ওপেনার সাদমান ও ইমরুলকে দারুণ কিছু করতেই হবে ইডেনে। ইন্দোর টেস্টে তারা দুই ইনিংসে বাংলাদেশকে উদ্বোধনী জুটিতে উপহার দিয়েছিলেন মাত্র ১২ ও ১০ রান। দ্বিতীয় উইকেট জুটি থেকে বাংলাদেশ পেয়েছে ০ ও ৬ রান। তৃতীয় উইকেট জুটিও হয়েছে ব্যর্থ। ইন্দোর টেস্টের দুই ইনিংসে এ জুটিতে রান যথাক্রমে ১৯ ও ২১।

প্রথম টেস্টে ওপেনারদের ব্যর্থতার পর নতুন মুখ সাইফ হাসানের অভিষেক হওয়ার জোর গুঞ্জন শোনা গেলেও ইনজুরির কারণে তিনি ছিটকে গেছেন দুর্ভাগ্যজনকভাবে। তাই ইমরুল-সাদমানকে দিয়েই ইডেন টেস্টে ওপেনিং করাতে হবে বাংলাদেশ দলকে। মুমিনুলও তেমন ফর্মে নেই। শুধু টেস্ট স্পেশালিস্ট হয়ে উঠলেও তিনি সর্বশেষ ১০টি ইনিংসে একটিই মাত্র অর্ধশতক পেয়েছেন। ইন্দোরে তার ওপর আস্থার প্রতিদান দিতে না পেরে আউট হয়ে গেছেন ৩৭ ও ৭ রানে। আরেক ভরসার নাম মাহমুদুল্লাহ ইন্দোর টেস্টে চরমভাবে ব্যর্থতা দেখিয়েছেন ১০ ও ১৫ রান করে। মোহাম্মদ মিঠুনের ওপর ভরসা করা হলেও ৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে যে ১১ ইনিংস ব্যাট করেছেন তাতে অর্ধশতক আছে মাত্র একটি। বেশকিছু জুটি উপহার দিয়েছেন অনেকবারই, কিন্তু নিজের ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি একবারও। গত ৯ ইনিংসে তার ৩০-এর অধিক রানের ইনিংস মাত্র একটি। সবমিলিয়ে তাই মুশফিকই একমাত্র ভরসা বাংলাদেশ দলের। গত বছর নবেম্বরে মিরপুরে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে টেস্টে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হওয়া মুশফিক অবশ্য ৭ ইনিংস পর ইন্দোরে একটি অর্ধশতক পেয়েছেন।

এতে করে আবার ফর্মে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। শীর্ষ ৩ ব্যাটসম্যান ব্যর্থ হওয়ার পর হাল ধরেছেন তিনিই। যদিও দুই ইনিংসে ৪৩ ও ৬৪ রানের দলের হয়ে যে দুটি ইনিংস খেলেছেন তাতে স্বচ্ছন্দ চোখে পড়েনি। উভয় ইনিংসে একাধিকবার জীবন ফিরে পেয়েছেন তিনি। ইডেন টেস্টে ভাগ্যটা তেমন সুপ্রসন্ন হবে তা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু তবু তার ওপরেই ভরসা করতে হবে বাংলাদেশকে। কারণ বাংলাদেশের পক্ষে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্টে সর্বাধিক রান তারই ব্যাট থেকে এসেছে। মাত্র ৫ টেস্টে ভারতের বিপক্ষে তিনি করেছেন ৫৫.৫০ গড়ে ৪৪৪ রান। ২টি অর্ধশতকের সঙ্গে আছে একটি শতকও। দুই বছর আগে হায়দরাবাদে একমাত্র টেস্টে ১২৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন তিনি। তবে দেশের পক্ষে সর্বাধিক ৬৯ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞ এ ব্যাটসম্যান এবারই প্রথমবার নতুন এক চ্যালেঞ্জে নামবেন আজ। দিবারাত্রির টেস্ট ও গোলাপি বলের বিপক্ষে খেলবেন এবারই প্রথম। সেদিক থেকে অভিজ্ঞতায় বাকিদের চেয়ে এগিয়ে থাকছেন না মুশফিকও। তাই শুধু মুশফিকের ওপরই নয়, টপঅর্ডার ও অভিজ্ঞদের ব্যাটের দিকেও ইডেন টেস্টে আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশ দলকে।

নির্বাচিত সংবাদ