১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

“জনগণের দরবার” ঠাকুরগাঁও সদর থানায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

  “জনগণের দরবার” ঠাকুরগাঁও সদর থানায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও ॥ সাধারণ মানুষের মন থেকে পুলিশভীতি দূর করতে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ। এ ফলশ্র“তিতে অফিস কক্ষ ছেড়ে থানা চত্বরের গাছতলায় বসে কাজ করছেন সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান (পিপিএম)।

সরেজমিনে দেখা যায়, থানা চত্বরের কাঁঠাল গাছতলায় ‘জনগণের দরবার’ নামে সাইবোর্ড টাঙানো। সাইনবোর্ডের সামনে চেয়ার-টেবিলে নিয়ে বসে আছেন ওসি আশিকুর রহমান। তাকে ঘিড়ে বসে এবং দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে। তারা এসেছেন নানা সমস্যা নিয়ে। সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনে ওসি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়ন থেকে থানায় অভিযোগ নিয়ে এসেছেন গৃহবধূ আলেয়া পারভিন। যৌতুকের জন্য শশুর বাড়ির লোকেরা তার ওপরে দীর্ঘদিন ধরেই নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন তিনি। আলেয়া জানান, থানায় এসে দেখি ওসি থানা চত্বরের সামনে কাঁঠালতলায় বসে আছেন। তিনি আমার অভিযোগটি গ্রহণ করে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

পৌর শহরের আশ্রমপাড়া এলাকা থেকে সাধারণ ডায়েরি করতে আসা সাদেকুল ইসলাম জানান, থানায় ওসির কক্ষে গিয়েছিলাম কিন্তু তাকে পাইনি। পরে দেখি তিনি গাছতলায় বসে অফিস করছেন। ওসিকে কাগজটি দিলে তিনি সেটি নথিভুক্ত করলেন। আগে জানতাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে টাকা-পয়সা লাগে, কিন্তু আজকে আমার সেই ধারণা পাল্টে গেছে।

শহরের মুসলিম নগর এলাকার ৭০ বছরের বৃদ্ধা জুলেখা বেগম বলেন, “ইলিয়াস আলী নামে একজনকে সাড়ে নয় হাজার টাকা ধার দিয়েছিলাম। এরপর অসংখ্যবার তার কাছে টাকা ফেরত চেয়েছি কিন্তু সে টাকা দেয়নি। পরে এসেছি থানা চত্বরে অবস্থিত ‘জনগণের দরবারে’। ওসি অভিযোগ গ্রহণ করে ইলিয়াসকে আটক করেছেন। আমার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

ওসি আশিকুর রহমানের ‘জনগণের দরবার’ নামের এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁওবাসী। শহরের রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জুলফিকার আলী বলেন, এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর আগে কখনও এমন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। পুলিশের এ ধরনের অভিনব কার্যক্রম সব সময় অব্যাহত থাকুক। তাহলে থানায় সাধারণ মানুষ তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওসি আশিকুর রহমান বলেন, গত ৩১ অক্টোবর থেকে আমরা এ উদ্যোগটি গ্রহণ করেছি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে ওসির রুমে ঢুকতে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। এজন্য অনেকে দালাল শ্রেণির লোক নিয়ে থানায় আসেন। জনগণের সেই পুলিশভীতি কাটাতে নিজ কক্ষ ছেড়ে থানা চত্বরে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় অফিস শুরু করেছি।

আমার থানায় যেকোনো মানুষ ভয়ভীতি ছাড়াই আমার কাছে এসে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারবে। প্রত্যেক দিন গাছতলায় বসেই অফিস করব। আমি প্রমাণ করতে চাই পুলিশ জনগণের বন্ধু।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও পুলিশ বাহিনী সব সময় জনগণের পাশে থেকে কাজ করে। ওসি আশিকুরের অভিনব এই উদ্যোগও তার একটি প্রমাণ।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন মোহাম্মদ আশিকুর রহমান। তার বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়। অপরাধ নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য পুলিশ বিভাগ থেকে পুরষ্কারও পেয়েছেন তিনি ।