০৬ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিজারিয়ানে স্বাস্থ্যঝুঁকি

নয় মাস নয় দিন পর যখন কোন মা তার সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান তেমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি প্রসূতি এবং সদ্যজাত শিশুটির জন্যে এক অনন্য সময়। যখন মাতৃগর্ভে শিশুটি তার আগমন বার্তা জানান দেয় তখন জন্মদাত্রী মায়ের প্রসব যন্ত্রণায় শারীরিক ও মানসিক অবস্থা হয় দুঃসহ অনুভবের করুণ চিত্র। আর সেখানে যদি চিকিৎসাজনিত কোন অকারণ কিংবা অপ্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্মদান বহু আগে থেকে চলে আসা এক প্রচলিত পদ্ধতি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্রমোন্নয়নে যান্ত্রিক কলাকৌশল নিত্যনতুন পদ্ধতি কিংবা বিষয় সম্পৃক্ত করলে এই জন্মদান প্রক্রিয়ায়ও আসে এক অভাবনীয় নতুন সংযোজন। সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফিতে সন্তানের লিঙ্গ পরিচয় চিহ্নিত করে অত্যাধুনিক নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে সিজারিয়ান প্রক্রিয়ায় গর্ভের শিশুটিকে ভূমিষ্ঠ করানো এমন সব ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য সংযোজন। কিন্তু বর্তমানে আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রয়োজন না থাকলেও সিজার করে বাচ্চাকে পৃথিবীর আলোয় আনার ফলস্বরূপ হরেক রকম স্বাস্থ্যঝুঁকিও বের হয়ে আসছে। এ সম্পর্কে আরও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘জন্ম অধিকার সম্পর্কে জানুন’ শিরোনামে সম্প্রতি এক কর্মশালা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সিজারিয়ান পরিহার করে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে সন্তান জন্মদানের ওপর বিশদ আলোচনা করা হয়। জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এমন মহৎ সভায় সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকিকে মূল বার্তা হিসেবে নির্ণয় করে এর প্রতিকার ও যথাযথ কার্যপদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আলোচক ও বিশেষজ্ঞদের সুচিন্তিত অভিমতের মাধ্যমে উঠে আসে সিজারিয়ান অপারেশনের ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলোও। স্বাভাবিক আর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠের ব্যাপারে তথ্যের হরেক রকম অসঙ্গতিতে মূল সমস্যা যথার্থভাবে প্রসূতিদের সচেতন করতেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। অন্যভাবে প্রসূতিদের স্বাস্থ্য সেবার মানকে আরও উন্নত করে সিজারিয়ান পদ্ধতিকে যথাসম্ভব বাদ দিয়ে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য আলোচনার বিষয়বস্তুকে যথার্থভাবে চিহ্নিত করে।

আর্থিক ব্যাপার তো থাকেই, কোন চিকিৎসক যখন অপারেশনের জন্য প্রসূতির সঙ্গে নিজিকেও প্রস্তুত করতে থাকেন। তবে আরও একটি বিষয় সংশ্লিষ্টদের উদ্বুদ্ধ করে তাদের ভবিষ্যতকে যথার্থ নিরাপদ করার লক্ষ্যেও। নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান থেকে আরও ওপরে উঠতে গেলে চিকিৎসকদেরও নানাবিধ দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে। সব মিলিয়ে প্রসূতি এবং চিকিৎসক এমন ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারে সম্পৃক্ত হয়। উল্লেখ্য, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে যেখানে চিকিৎসা বিজ্ঞান অপার সম্ভাবনায় যুক্ত সেখানে শেষ অবধি চেষ্টা এবং অপেক্ষা করা হয়, যাতে কোন কাটাছেঁড়া ছাড়াই একটি শিশু স্বাভাবিকভাবে পৃথিবীতে আসতে পারে। সে কারণে সন্তান এবং প্রসূতির স্বাস্থ্যঝুঁঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মতো অনাকাক্সিক্ষত অবস্থা তৈরি হওয়ার সুযোগও থাকে না। আমাদের দেশেও স্ত্রীরোগ চিকিৎসায় স্বাস্থ্য সেবাকে একটি মানসম্মত অবস্থায় দাঁড় করাতে হবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর দশ লাখেরও বেশি প্রসূতির ওপর অস্ত্রোপচার করা হয়। তার মধ্যে বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে এর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৭ লাখ। তাই বলা হচ্ছে প্রসবজনিত স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়লেও মায়েদের মৃত্যুর হার সেভাবে কমেনি। আশঙ্কা করা হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় সিজারের ফলেই মৃত্যুহার কমছে না। বরং আগের তুলনায় আরও দশ ভাগ বেড়ে গেছে। সুতরাং এমন সব অনাকাক্সিক্ষত সিজার যার ব্যতিরেকেই সন্তান সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে পৃথিবীতে আসবে তেমন সম্ভাবনাকে জোরদার করা অত্যন্ত জরুরী। যাতে সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য ও মৃত্যুঝুঁকি ক্রমে কমতে থাকবে। পাশাপাশি আরও একটি বিষয় লক্ষণীয় প্রসূতির নিজেই স্বাস্থ্য ও সন্তান সুরক্ষায় সচেতন হওয়া জরুরী। গর্ভাবস্থায় সর্বক্ষণিক নিয়মমাফিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াও একান্ত কর্তব্য। সুতরাং সব দিক বিবেচনা করে এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রসব দান কর্মসূচীকে সংশ্লিষ্টদের পূর্ণ নিরাপত্তায় এগিয়ে নিতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ