১৪ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নাশকতার ছক কষে দেশে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত অশুভ শক্তি

  • ঘটে যাওয়া কিছু সাম্প্রতিক ঘটনা তারই ইঙ্গিতবহ ॥ দাবি গোয়েন্দা সংস্থার

শংকর কুমার দে ॥ সরকারের বিরুদ্ধে মানুষজনকে ক্ষেপিয়ে তুলতে গভীর ষড়যন্ত্র করছে অশুভ মহল। দেশে অস্থিতিশীল ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য অশুভ মহলটি পদ্মা সেতুতে রক্ত চাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মঘট, অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি, নাশকতার ক্ষেত্র তৈরি, গুজব ছড়িয়ে নিত্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সঙ্কট তৈরির অপচেষ্টা, ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটানো, বাজারে অস্থিরতার সৃষ্টি, পরিবহন ধর্মঘট ডেকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিতে মদদ দেয়া হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে মাঠের আন্দোলনে জনসমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এখন ষড়যন্ত্রের ছক কষা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের ছকের সঙ্গে দেশী-বিদেশী অশুভ মহল জড়িত। অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও অঘটন ঘটানোর জন্য ষড়যন্ত্র হতে পারে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, সরকার নিজের নেতাকর্মী, সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অপকর্মের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক জনসমর্থন পাওয়ায় অশুভ মহলটি এখন নানামুখী ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত করতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সেদিকে সরকারকে ব্যতিব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়া হয়েছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সরকারের ভেতরে-বাইরে যারা ক্ষুব্ধ তারাই অশুভ মহলের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে অনেকেই বেকায়দায় পড়ে গোপনে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে শলাপরামর্শের জন্য যোগাযোগ করছে। দেশের বাইরের একটি মহলও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে এ মদদ দিচ্ছে। বিশেষ করে পরিবহন ধর্মঘট বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতার বক্তৃতা-বিবৃতি ওই বোঝা যায় দেশে অস্থিতিশীল ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য ষড়যন্ত্র করছে কারা?

গোয়েন্দা সূত্র মতে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য ষড়যন্ত্র করে ইতোমধ্যেই দেশের ভেতরে যেসব অঘটন ঘটানো হয়েছে সেসবের তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। একটি ঘটনার রেশ না কাটতেই আরেকটি অঘটন ঘটিয়ে লোকজনের মধ্যে গুজব, আতংক ছড়িয়ে দেয়াসহ জনদুর্ভোগ সৃষ্টির ঘটনা একই যোগসূত্রে গাঁথা কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হঠাৎ করে বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, লবণের মূল্যবৃদ্ধির গুজব ছড়ানো, চালের বাজারে অস্থিরতার সৃষ্টির পাঁয়তারা, পরিবহন ধর্মঘটের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, ট্রেন দুর্ঘটনা, আগুনের ঘটনা-সবই পূর্বপরিকল্পিত নীলনক্সা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি দিয়ে ভোলায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ ঘটানো হয়েছিল, যা পূর্বপরিকল্পিত। তদন্তে উদঘাটিত হয়েছে। একইভাবে পূর্ব পরিকল্পিত উপায়ে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি, লবণের মূল্যবৃদ্ধির জন্য গুজব ছড়ানো, চালের বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা, সিরাজগঞ্জে ট্রেনে আড়ুন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে সরকারকে ব্যস্ত রাখার কৌশল নিয়েছে অশুভ মহল। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হলে কারা লাভবান হবেন সেটাই এখন গোয়েন্দা মহলে বড় প্রশ্ন।

দেশে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে নিজ দলের লোকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। এতে সরকারের ভেতরেরও একটি ক্ষুদ্র অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে গোপনে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। পরিবহন ধর্মঘট হচ্ছে তারই প্রমাণ। পরিবহন ধর্মঘটের নেপথ্যে যারা কলকাঠি নাড়ছেন তারা আওয়ামী লীগ মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন, পরিবহনের মাফিয়া বনেছেন, শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তারাই এখন সুযোগ বুঝে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার যাদের ‘দুধ কলা দিয়ে পুষে নেতা বানিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ভেতরে ভেতরে তারাই সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু সরকারের সময়োপযোগী কঠোর পদক্ষেপে তৎপরতা ভেস্তে যায় ওই অশুভ তৎপরতা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের আগে-পিছের ঘটনাগুলো বিশ্লেষন করলে দেখা যায় সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের আলামত বেশ স্পষ্ট। ঠিক একই কায়দায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি, লবণের মূল্যবৃদ্ধির গুজব ছড়ানো, চালের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে লোকজনকে ক্ষেপিয়ে তোলার একের পর এক অপচেষ্টা, অশুভ মহলের নীলনক্সা-এসবই প্রমাণ করে। এর আগে সিরাজগঞ্জে ট্রেনে দুর্ঘটনার, পেছনে বগিতে আগুন দেয়া, ভোলায় গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্টের ষড়যন্ত্র হয়। অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতিসহ সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকার সঙ্কটে ফেলার একটা পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ নবেম্বর জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বলেন, ‘বাংলাদেশ যখনই উন্নয়ন অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়, তখনই কোন না কোন ষড়যন্ত্র হয়। তিনি বলেন, আবার নতুন করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অবশ্য তিনি আশা করেন এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে যাবে’।

গোয়েন্দা সংস্থার এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ভোলায় ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে উস্কানি ও পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি, লবণের মূল্য বৃদ্ধির জন্য গুজব ছড়ানো, চালের বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা একই যোগসূত্রে গাঁথা। একটি অশুভ মহল এসব ঘটনার নেপথ্যে সরকারের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশী অশুভ মহলের সঙ্গে বিদেশী মদদ থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থা। সরকার প্রতিটি ষড়যন্ত্রের ঘটনা সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করায় অশুভ মহলের অপচেষ্টা বানচাল হয়ে গেছে।

সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সরকারের বিরুদ্ধে মাঠের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির জন্য গুজব ছড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো, ট্রেন দুর্ঘটনার মতো নাশকতা সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্টের অপচেষ্টাসহ নানামুখী গভীর ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত করতে নানা নেতিবাচক ইস্যু তৈরি করে সরকারের জনপ্রিয়তা নষ্টের চক্রান্তের আলামতের ইঙ্গিত। সরকারের জনপ্রিয়তা নষ্ট করে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলতেই এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্তের জন্য নানা নেতিবাচক ইস্যু বানিয়ে সরকারকে ব্যস্ত রাখার যে ষড়যন্ত্র হয়েছে তা তদন্তের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্তা নিতে তদন্ত করা হয়েছে।