১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান আবারও অসুস্থ

অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান আবারও অসুস্থ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ খ্যাতিমান অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান আবারও গুরুতর অসুস্থ। তাকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সোমবার দুপুরে। তাকে হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৩২২ রুমে ভর্তি করা হয়েছে। খবরটি নিশ্চিত করেছেন এটিএম শামসুজ্জামানের মেয়ে কোয়েল আহমেদ। তিনি বলেন, আব্বা গত তিন দিন থেকে গ্যাসের সমস্যায় ভূগছেন। খাবার খেতে পারছিলেন না। শরীরে জ্বর আসছে। এ অবস্থায় আব্বাকে হাসপাতালে শুধুমাত্র ডাক্তার দেখানোর জন্য এনেছিলাম। কিন্তু আব্বার শরীরের কন্ডিশন দেখে ডাক্তার বললেন এখনই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। তাই সোমবার দুপুরে ভর্তি করালাম।

দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় বঙ্গবন্ধুহাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বেশ খানিকটা সুস্থ হয়েই একুশে পদকপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তী অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান ২৯ আগস্ট বাসায় ফিরেন। কিন্তু বাসায় ফেরার আগে থেকেই এটিএম শামসুজ্জামান চোখে কম দেখেন। তার চোখে লেন্স পরানো হয়েছে। এটিএম শামসুজ্জামান দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

গত ২৬ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে পড়লে পুরোনো ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এটিএম শামসুজ্জামানকে। পরে সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসা হয়। সেখানে ডাক্তার আতিকুর রহমানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলে তার। গত ১৩ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এটিএম শামসুজ্জামানের চিকিৎসার সব ধরনের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক হাসপাতালের তহবিলে জমা দিয়েছিলেন। নিয়মিত খোঁজ-খবরও রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে একুশে পদক পান।

এটিএম শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার ভোলাকোটের বড় বাড়ি আর ঢাকায় থাকতেন দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল, রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলে। পগোজ স্কুলে তার বন্ধু ছিল আরেক অভিনেতা প্রবীর মিত্র। ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে। তারপর জগন্নাথ কলেজ ভর্তি হন। তার পিতা নূরুজ্জামান ছিলেন নামকরা উকিল এবং শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সঙ্গে রাজনীতি করতেন। মাতা নুরুন্নেসা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামসুজ্জামান ছিলেন সবার বড়।

১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধূরির ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এরপর খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, সুভাষ দত্তদের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনা আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ ছবিতে অভিনয় করেন ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তবে ২০০৯ সালে প্রথম পরিচালনা করেন শাবনূর-রিয়াজ জুটিকে নিয়ে ‘এবাদত’ নামের একটি ছবি।

অভিনয়-নির্মাতার পাশাপাশি একজন লেখক হিসেবেও এটিএম শামসুজ্জামানও নন্দিত। কাহিনীকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান গল্প, কবিতা লেখারও চর্চা করেছেন নিভৃতে।