০৬ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরব-আমিরাত থেকে স্বল্প খরচে রেমিটেন্স আসবে : অর্থমন্ত্রী

আরব-আমিরাত থেকে স্বল্প খরচে রেমিটেন্স আসবে : অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সংযুক্ত আরব-আমিরাত থেকে স্বল্প খরচে প্রবাসীরা জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠাতে পাঠাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এলক্ষ্যে জনতা ব্যাংকের সঙ্গে ইউএই’র আরএকে ব্যাংক চুক্তি করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের অংশ হিসেবে উচ্চগতির ইন্টারনেট স্থাপনে ৮টি বিভাগের ৭৭২টি দুর্গম ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক স্থাপনে অপটিক্যাল ফাইবার ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

বুধবার সচিবালয়ে চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স অব ইউএই এ্যাম্বাসি আব্দুল্লাহ আলি’র নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এর পরই বিকেলে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে সেবা দেয়া। রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতির মেরুদন্ড। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স হলো ড্রাইভিং ফোর্স। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরএকে ব্যাংক আমাদের দেশীয় কোন ব্যাংকের সাথে পার্টনারশিপে রেমিট্যান্স প্রেরনে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বৈধপথে রেমিটেন্স কয়েকগুন বেড়ে যাবে। কেননা সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমাদের প্রচুর রেমিটেন্স প্রেরনকারী রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত আমাদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারী দেশ, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রেরণ করেছে। তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অবৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণ করেন, যেটা তাদের জন্য এবং দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া যে পরিমান রেমিটেন্স দেশে আসার কথা সেটার অর্ধেকও আসেনা। এটা না আসার কারণটা হলো সেখান থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর কোন সহজ রাস্তা নেই।

তিনি বলেন, জনতা ব্যাংক সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তাদের শাখার মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রেরণ করে। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনতা ব্যাংকের শাখা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। আরএকে ব্যাংকের প্রচুর শাখা রয়েছে। তারাও আমাদের দেশের একটি শক্তিশালী ব্যাংক খুঁজছে যাতে করে তারা তাদের সহায়তায় রেমিটেন্স প্রেরণ করতে পারে। এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে তারা এ কাজটি করতে পারবে। এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিটেন্স প্রেরণ অনেক গুনে বেড়ে যাবে। জনতা ব্যাংকেরও ভালো হবে যেহেতু সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনতা ব্যাংকের শাখা রয়েছে।

এরপূর্বে অর্থমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এডিবি‘র কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ এবং ট্রেজারার ও মিশন লিডার পিয়ারে ভ্যান পিটহেম। অর্থমন্ত্রী বলেন, এডিবি আমাদের দেশে শিল্পায়নে বিকল্প উৎস হিসাবে অর্থায়ন করতে আগ্রহী। আমাদের বিভিন্ন খাতে তারা পূর্ব থেকেই কাজ করছে এবার এ খাতে তারা কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। এডিবির সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তারা কর্পোরেট হাউজের জন্য কর্পোরেট বন্ডের ব্যবস্থা করতে চায়। পাশাপাশি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যারা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে চায় তাদেরকেও বন্ডের মাধ্যম অর্থায়ন করতে চায়। এই বন্ডগুলো হবে টাকায় সুতরাং কোনভাবেই আন্ত—র্জাতিক বাজারের এক্সচেঞ্জ রেটের কারনে কোন ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবেনা।

৭৭২টি ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক স্থাপন ॥ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের অংশ হিসেবে উচ্চগতির ইন্টারনেট স্থাপনে ৮টি বিভাগের ৭৭২টি দুর্গম ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক স্থাপনে অপটিক্যাল ফাইবার ক্রয় প্রস্তবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারী ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি স্থাপনের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে ‘দুর্গম এলাকায় তথ্য প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক স্থাপন (কানেকটেড বাংলাদেশ)’ শীর্ষক প্রকল্প গত জুলাই মাসে ডাক ও টেলিযোগাযাগ বিভাগের ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল’ ব্যবস্থাপনা কমিটির ৪র্থ সভায় অনুমোদিত হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড থেকে ৮ হাজার ১০৬ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার কেবল একশত ১০ কোটি ৭৩ লাখ ২৪ হাজার টাকায় কিনবে সরকার। তথ্য ও যোগাযাগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিবি) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এছাড়া ভ্যাট আদায় সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে অনলাইনে ভ্যাট আদায়ের জন্য আমরা এখনো মেশিনই (ইলেক্ট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস) বসাতে পারিনি। রাজস্ব আদায় নিয়ে কোনো চিন্তার বিষয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আয়কর খাতে রজস্ব অনেক বেড়েছে। ট্যাক্স রেভিনিউ কম আছে। তবে নির্ধারীত সময়ের সেটা আমরা পুরণ করতে পারবো। বছরের শেষে আমরা রাজস্ব আদায়ে যে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা আছে সেটা অর্জন করতে পারবো।

নির্বাচিত সংবাদ