০৬ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পবিত্র গুহার দেশে দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকের উদ্বোধন কাল

পবিত্র গুহার দেশে দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকের উদ্বোধন কাল

রুমেল খান, কাঠমান্ডু, নেপাল থেকে ॥ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বতমালা কোথায় অবস্থিত? পৃথিবীর একমাত্র হিন্দু দেশ কোনটি? একমাত্র কোন্ দেশের পতাকা আয়তকার নয়, বরং ত্রিকোনাকৃতির? প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর একটিই, নেপাল। নেপাল’ নামটির সঠিক উৎপত্তি সম্বন্ধে জানা যায়নি, তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় মত অনুসারে নেপাল নামটি দুটি শব্দ ‘নে’ এবং ‘পাল’ থেকে এসেছে, যাদের অর্থ যথাক্রমে পবিত্র এবং গুহা। তাহলে নেপাল শব্দের অর্থ দাঁড়াচ্ছে ‘পবিত্র গুহা’।

কাল রবিবার থেকে পবিত্র গুহার দেশে তৃতীয়বারের মতো (সার্বিকভাবে ত্রয়োদশবার) অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হতে যাচ্ছে এসএ গেমস (সাউথ এশিয়ান গেমস)। যদিও গেমসটি আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল বছরখানেক আগেই। কিন্তু ভারতের অনীহা এবং ভেন্যু প্রস্তত না হওয়ায় তিন দফায় পিছিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়াযজ্ঞটি অবশেষে শুরু হচ্ছে ডিসেম্বরের প্রারম্ভে।

শনিবার ছিল আসর আয়োজনের জন্য শেষ প্রস্তুতিমূলক দিবস। ফলে বেশ তাড়াহুড়া এবং চাপ নিয়ে আয়োজকরা কাজ করেছেন। সন্ধ্যার আগে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এসএ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মহড়া।

এবারের গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবে লেজার শো, রঙ্গিন ডিসপ্লে, প্রখ্যাত নেপালী এ্যাথলেটদের মশাল প্রজ্জ্বলন, মাঠে প্রত্যেক দেশের নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের মানচিত্রের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা এবং শেষে বর্ণিল আতশবাজি পোড়ানো। তিন বাহিনীর চৌকস সদস্য ছাড়াও স্কুল ও কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা থাকছেন প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী জমকালো এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠান শুরু হবে নেপালী সময় বিকেল ৫টায়।

এর আগে নেপাল ১৯৮৪ ও ১৯৯৯ সালে এসএ গেমসের আয়োজক ছিল। এবার তারা আগের দুই আসরকেও ছাপিয়ে যেতে চায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেরদিনও কাজ হয়েছে দশরথ স্টেডিয়ামে বাইরের অংশে। কিন্তু এতেও বাধা পড়েনি রঙিন উদ্বোধনে।

বিকেল পাঁচটায় শুরু হবে গেমসের উদ্বোধন। ঘড়ির কাঁটা যখন পাঁচটা ছুই ছুই, তখন দশরথ রঙ্গশালায় প্রবেশ করবেন নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী বান্দারি। এরপরই আসবেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। (তবে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ থাকায় তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে না-ও উপস্থিত থাকতে পারেন)। আয়োজক কমিটি তাদেরকে ফুলের শুভেচ্ছায় স্বাগত জানাবে। এরপরেই হবে তিন মিনিটের একটি আকষর্ণীয় লেজার শো। সাত দেশের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে মার্চপাস্ট পর্যবেক্ষণ করবেন নেপালের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। নেপাল অলিম্পিক কমিটির সভাপতি জীবন রাম শ্রেষ্ঠা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরুর ঘোষণা দেবেন। উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিলের সদস্য সচিব রমেশ কুমার সিলওয়াল। আরও উপস্থিত থাকবেন নেপালের ক্রীড়ামন্ত্রী জগৎ বাহাদুর বিশ্বকর্তা সুনার। নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী বান্দারীর উদ্বোধনী ভাষণের পরেই সাবেক নেপালী চার তারকা এ্যাথলেট মশাল ব্যাটন নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করবেন। শেষে মশাল প্রজ্জ্বলন করে এসএ গেমসে আলো জ্বালাবেন চারবারের সোনাজয়ী সাবেক তায়কোয়ান্ডোকা দীপক বিষ্ঠা। ক্রীড়াবিদদের পক্ষ থেকে শপথবাক্য পাঠ করবেন তারকা ক্রিকেটার পরেশ খড়কা এবং কোচদের পক্ষ থেকে রেফারি দীপক থাপা।

এরপরেই শুরু হবে মিউজিক্যাল পারফরম্যান্স। রঙিন আয়োজনে থাকবে আগত নৃত্য। ১২ মিনিট ধরে নেপালের সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ফোর্সেস ও নেপাল পুলিশের এক হাজার চৌকস সেনারা সাত দেশের নামের সঙ্গে মাঠেই সংশ্লিষ্ট দেশের মানচিত্র ফুটিয়ে তুলবেন নিজেরা। নেপালের ঐতিহ্যগত নৃত্যও থাকবে। যাকে বলা হবে ‘মাসকেলেস থিনিক’।

নেপালের প্রায় সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন সঞ্জীব শিল্পকার। এবারও আয়োজনের বড় অংশটি সাজিয়েছেন তিনি। সঞ্জীবের কথায়, ‘আমরা এসএ গেমসের রঙিন উদ্বোধনের চেষ্টা করছি। তিন বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে দিনের পর দিন আয়োজন সাজাতে হয়েছে। গত কয়েকদিনে শত শত ছাত্র ছাত্রীদের পারফরম্যান্সের ওপর নজর রাখতে হয়েছে। আমাদের সংস্কৃতির কোন কিছুই যেন বাদ না পরে, সেদিকে নজর রেখেছি। মোদ্দাকথা একটি নির্মল বিনোদন দেয়ার চেষ্টা করবো দর্শক এবং আগত ছয় দেশের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের। আশা করি সবার ভালো লাগবে আমাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।’

এবারের এই এসএ গেমসে ৭টি দেশ ২৬টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিবে। দেশগুলো হল বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ডিসিপ্লিনগুলো হরো ; এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, বক্সিং, আরচারি, ব্যাডমিন্টন, সাইক্লিং, ফেন্সিং, ফুটবল, হ্যান্ডবল, জুডো, কারাতে, কাবাডি,শূটিং, স্কোয়াশ, সুইমিং, তায়কোয়ানদো, টেনিস, টেবিল টেনিস, ট্রায়াথলন, ভলিবল, ভারোত্তোলন, রেসলিং, উশু, খো-খো ও গলফ। আয়োজক দেশের সুযোগ থাকে নতুন কিছু ডিসিপ্লিন যুক্ত করার। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেপাল যুক্ত করে ক্রিকেট ও প্যারাগ্লাইডিং। পরবর্তীতে প্যারাগ্লাইডিং বাদ দেয়া হয়।

১ থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭টি দেশের ৩২৫০ এ্যাথলেট ১ হাজার ১১৯টি পদকের জন্য লড়বেন। তার মধ্যে স্বর্ণ ৩১৭, রৌপ্য ৩১৭ ও তাম্রপদক ৪৮১টি। মোট পদক ১১৫টি।

বাংলাদেশ এবার ২৫টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে। মার্চপাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন ২০১৬ আসরে জোড়া স্বর্ণজয়ী তারকা সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা।

এসএ গেমসে ভাল ফল করা বাংলাদেশী ক্রীড়াবিদদের দুটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং তাম্রপদক জিততে পারলে তাকে দেয়া হবে যথাক্রমে ৬, ৩ এবং ১ লাখ টাকা। আর দলীয়ভাবে স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্রপদক জিতলে সেই দলের খেলোয়াড়সহ প্রতিটি কোচিং স্টাফদের জনপ্রতি দেয়া হবে যথাক্রমে ১ লাখ, ৫০ হাজার এবং ৩০ হাজার টাকা করে।

দেশের বাইরে বাংলাদেশ যে কয়টি আসরে অংশ নিয়েছে, তার মধ্যে ১৯৯৫ সালে মাদ্রাজে সর্বোচ্চ ৭টি সোনার পদক জিতেছিল। আর দেশের মাটিতে তাদের সেরা সাফল্য ২০১০ ঢাকা আসরে ১৮ সোনা।

বাংলাদেশের ৫৯৫ ক্রীড়াবিদ, কোচ ও কর্মকর্তা অংশ নেবেন এবারের গেমসে। ধারণা করা হচ্ছে শূটিং, সাঁতার, আরচারি, গলফ, কারাতে, তায়কোয়ান্দো, ক্রিকেট, ফুটবল এসব ডিসিপ্লিন থেকে এবার স্বর্ণপদক আশা করছে বাংলাদেশ।

নির্বাচিত সংবাদ