০৮ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অধিক উচ্চতায় শ্বাসকষ্ট- সমস্যায় জেমি ডের শিষ্যরা!

অধিক উচ্চতায় শ্বাসকষ্ট- সমস্যায় জেমি ডের শিষ্যরা!

রুমেল খান, কাঠমান্ডু, নেপাল থেকে ॥ এবারের এসএ গেমসের পুরুষ ফুটবলে ভারত নেই। ফলে দশ বছর পর এই ইভেন্টে তৃতীয়বারের মতো স্বর্ণজয়ের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে একটি দেশের জন্য। দেশটির নাম বাংলাদেশ। কিন্তু নেপালে পা রেখেই জানা গেল, সেই আশা নিরাশায় পর্যবসিত হতে পারে। না, সমস্যার নাম অন্য কোন দল নয়। সমস্যার নাম উচ্চতা! সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতায় খেলতে গেলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বসেরা ফুটবল দলগুলোও ছোট বা মাঝারি শক্তিসম্পন্ন দেশগুলোর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে প্রায়ই নাকাল হয়। সেখানে বাংলাদেশ তো কোন্ ছার!

ভারত এবার এসএ গেমস ফুটবলে নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় দলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫টিতে। ফলে গ্রুপিং ড্র ও সূচিতে এসেছে পরিবর্তন। এখন কাঠমান্ডুর দশরথের রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে খেলা হবে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে। বাংলাদেশের খেলাগুলো হচ্ছে যথাক্রমে ২ ডিসেম্বর ভুটান, ৩ ডিসেম্বর মালদ্বীপ, ৫ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কা এবং ৮ ডিসেম্বর নেপালের বিরুদ্ধে। লিগ পর্বের সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহকারী দুই দল আগামী ১০ ডিসেম্বর মুখোমুখি হবে ফাইনালে।

সমতল ভূমির মানুষদের চেয়ে পাহাড়ী অঞ্চলের মানুষের দম হয় বেশি। সমতল ভূমির মানুষরা যখন পাহাড়ে বা বেশি উচ্চতায় যায, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সমস্যা হয়। কারণ ওই উচ্চতায় স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক কম অক্সিজেন থাকে। যেহেতু পাহাড়ী অঞ্চলের মানুষরা সবসময়ই ওই পরিবেশে থাকতে অভ্যস্ত, কাজেই তাদের কোন সমস্যা হয় না। সমস্যায় পড়তে হয় সমতল ভূমির মানুষজন তাদের এলাকায় এলে।

বাংলাদেশ ফুটবল দলও এখন পড়েছে এই সমস্যায়। কারণ কাঠমান্ডু সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। ফলে জেমি ডের শিষ্যরা পড়েছেন এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে। তকে ১৯৯৯ সারে এই ভেন্যুতে এই সমস্যা নিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল দল।

দলের অন্যতম ফরোয়ার্ড নাবিব নেওয়াজ জীবন এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি ভাল। দলের সবাই ভাল অবস্থায় আছে। সেরা হওয়ার লক্ষ্যপূরণ করতে হলে আমাদের মাঠে সেরাটা খেলতে হবে। সেটা দিতে পারলে আশা করি কাংখিত পদক নিয়ে দেশে ফিরতে পারব। শুরুর দিকে এখানে এসে ঠাণ্ডায় প্রস্তুতি নিতে আমাদের একটু সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু এ দুই দিনে অনেকটা মানিয়ে নিয়েছি। আজকের প্রস্ততিতে আশা করি আরও মানিয়ে নিতে পারব। এখানে আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা। এ কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

প্রায় একই সুর ফরোয়ার্ড সাদ উদ্দিনের কন্ঠেও, আমরা কদিন আগে এসেছি এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে। চার দিনে তিন ম্যাচ খেলাটা একটু কঠিন। কারণ রিকভারির সময় কম। তবে এ পরিস্থিতি সবার জন্যই সমান। সবাই এভাবেই খেলবে। আশা করি, ওটা বড় কোন ফ্যাক্ট হবে না আমাদের জন্য। চেষ্টা করব ভালো কিছু করার।

ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে সাদ বলেন, লক্ষ্য একটাই, গোল চাই। বারবার খুব কাছ থেকে আমি গোলবঞ্চিত হই। গোল না পেলে হতাশা কাজ করে। কারণ একজন ফরোয়ার্ডের কাজই গোল করা। আশা করি এখানে গোল পাব। আমার মনে হয় নেপালই আমাদের মূল প্রতিপক্ষ হবে। ওরা নিজেদের মাঠে, দর্শকের সামনে খেলবে। তবে আমাদের জন্য ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গত দুই ম্যাচে ওদেরকে আমরা হারিয়েছি। ওই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।

সাদ আরও যোগ করেন, ভারতের না খেলাটা আমাদের জন্য ভাল সুযোগ। সবাই যদি ভাল পারফর্ম করে, আশা করি আমরাই চ্যাম্পিয়ন হবো। জাতীয় দলে আমাদের এই দলটার অনেকেই একসঙ্গে খেলার কারণে এটা আমাদের জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট।

এসএ গেমস উপলক্ষ্যে কন্ডিশনিং ক্যাম্প হয়নি। তবে তাতে কোন সমস্যা দেখছেন না সাদ। তার ভাষ্য, সবাই ক্লাবের হয়ে অনুশীলন করে এসেছে। কোচ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। ভারত খেলবে না বলে কোনো রিল্যাক্স বোধ করছি না। কারণ নেপাল অনেক ভাল দল। তারা নিজেদের মাঠে খেলবে। সবাইকে আমরা সমান দেখি। কাউকে ছোট করে দেখছি না।

দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু বলেন, দেশে প্রস্তুতি নেওয়ার যে কথা ছিল, সেটা হয়নি বলে এখানে তার কোন প্রভাব পড়বে না। সবাই ক্লাবে খেলার মধ্যে ছিল। জিম-পুল নেই, পাঁচ দিনের মধ্যে চারটা ম্যাচ খেলতে হবে। এর মধ্যে কখন জিমে যাবে, কখন সুইমিংয়ে যাবে, কখন রিকভারি করবে। এটা কোন বিষয় না। অজুহাত হতে পারে না। আমাদের খুবই ভালো চান্স আছে সেরা হওয়ার, সেটা যদি না পারি, তাহলে আমরা ব্যর্থ।

এখন দেখার বিষয়, অধিক উচ্চতা ও শ্বাসকষ্ট কাটিয়ে এসএ গেমস ফুটবলে শেষ পর্যন্ত কেমন ফল করে জেমি ডের শিষ্যরা।