০৮ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুজিববর্ষে ইউনেস্কো

সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত দেশব্যাপী ব্যাপক ও বিশাল পরিসরে ‘মুজিববর্ষ’ পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো। ফলে স্বভাবতই বছরের বিশ্বস্বীকৃতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিকীকরণ হলো। কেননা, ইউনেস্কো যৌথভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে মুজিববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এটি শুধু বাংলাদেশের সীমানায়ই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বের অন্তত ১৯৫টি দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে নানা স্তরে ও বৈচিত্র্যে পালিত হবে। এটি বাংলাদেশ, বাঙালী জাতি সর্বোপরি দেশ ও রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গর্ব এবং আনন্দের নিঃসন্দেহে। গত সোমবার ২৫ নবেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে সংস্থার ৪০তম সাধারণ পরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মনির উপস্থিতিতে সর্বসম্মত হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে মুজিববর্ষ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই আন্তর্জাতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন আরও ব্যাপক ও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ অবারিত হলো। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী সংক্রান্ত প্রস্তুতি সভায় এটি ঘোষণা করেন আনুষ্ঠানিকভাবে। উল্লেখ্য, এ নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং ব্যাপক প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও বছরব্যাপী বিবিধ ও নানামুখী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, আগামী বছর জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দফতরেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ২০২১ সালে উদযাপন করা হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বা ডব্লিউইএফ ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে, যার কেন্দ্রবিন্দু হবে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম আদর্শ ও লক্ষ্য সর্বোপরি স্বপ্ন ছিল, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়া। ‘সেই বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই আমরা জাতির পিতার রক্তঋণ শোধ করব। এটা হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার।’

একজন নেতা বিশ্বদরবারে তাঁর দেশের মানুষকে মর্যাদাপূর্ণ আত্মপরিচয়ের আলোকে কী অপরিসীম সাহসিকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন, তার উজ্জ্বল উদাহরণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সমগ্র দেশের মানুষ অকৃত্রিম ভালবাসার কারণে, বিশ্বাসের কারণে তার ওপর অর্পণ করেছে পূর্ণ আস্থা, তাকে স্থান দিয়েছে তাদের হৃদয়ে। তিনি এদেশে জন্মেছিলেন, এ দেশের মানুষকে ভালবেসেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন, এটা দেশ ও জাতির পরম সৌভাগ্য। তিনি পাকিস্তানী স্বৈরাচারী সামরিক শাসকদের জেলে বছরের পর বছর বন্দী থেকেও অকুতোভয় বীরের মতো নিজ সংকল্পে অটল থেকেছেন। মুক্তির মহামন্ত্রে জাতিকে জাগিয়েছেন এবং স্বাধীনতার পথ ধরে জাতিকে পৌঁছে দিয়েছেন স্বপ্ন পূরণের চূড়ান্ত লক্ষ্যে- এ কৃতিত্ব একান্তভাবে তাঁরই। কারণ তিনিই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের রূপকার এবং প্রতিষ্ঠাতা। দেশের মানুষের স্বার্থের ব্যাপারে তিনি সব সময় ছিলেন আপোসহীন। পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি সব সময় উর্ধে তুলে ধরেছেন দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ। কখনও কোন কিছুর বিনিময় বা প্রলোভনে বা ভয়ে বিন্দুমাত্র নতি স্বীকার করেননি। আমাদের স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু। তিনি তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতিকে পৌঁছে দিয়ে গেছেন স্বাধীনতার স্বর্ণ তোরণে। আর সে কারণেই তিনি বিশ্বনেতা, বিশ্ববন্ধু। ২০১৭ সালে জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা তথা ভাষণকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল’ তথা মানবজাতির অমূল্য সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ নীতি, সকলের সঙ্গে সৌভ্রাতৃত্ব। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীরা তাঁর রেখে যাওয়া দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে। অতঃপর সরকারের সামনে প্রধান কাজটিই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়া। বাংলাদেশ ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে মুজিববর্ষ পালন হতে পারে এর অন্যতম অনুষঙ্গ ও সহায়ক শক্তি।