১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের পেয়ে বসেছে : আইনমন্ত্রী

বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের পেয়ে বসেছে :  আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার॥ নুসরাত হত্যাকান্ডের তদন্ত ও এর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির ঘটনা আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে। একটা নুসরাত হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করেই আমরা নারীর প্রতি নিপীড়ন বন্ধ করতে না পারলেও অন্তত্য পক্ষে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের কাজটি শুরু করতে পারবো। বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের পেয়ে বসেছে। এই হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে নারী পুরুষের সমতা ফিরিয়ে এনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো। এটাই হচ্ছে নুসরাত হত্যার সবচেয়ে বড় মেসেজ। মেসেজটি হচ্ছে কেউ যদি কোন নারীর প্রতি সহিংসতা ঘটায় তাহলে তাকে সর্বোচ্চ সাজা গ্রহণে প্রস্তুত থাকতে হবে। সমাজ তাকে ক্ষমা করবেনা। পক্ষপাতিত্বহীন ভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রসিকিউশন সহ সংশ্লিষ্ট সকলে আইনী প্রক্রিয়া বলবৎ রেখে এই মামলা পরিচালনায় সহায়তা করায় একটা ন্যায় বিচার এসছে। এই বিচারের মাধ্যমে সমাজকে সচেতন করে অসুস্থ মানসিকতা দূরের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে নারী নিপীড়ন প্রতিরোধ করা যাবে। রবিবার সকালে রাজধানীর এফডিসিতে ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট শিরোনামে “নিপীড়ন বিরোধী জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা” এর গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আনিসুল হক, এমপি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ‘নুসরাত হত্যার দ্রুত বিচার নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে আনবে’ শীর্ষক চুড়ান্ত এই ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সমান নম্বর পেয়ে ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজ যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় রানারআপ হয় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া। “সাহসিকা নুসরাত তুমিই যুক্তি তুমিই প্রতিবাদ” এই স্লোগানে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও এটিএন বাংলা।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আরো বলেন, আমাদের স্বাক্ষ্য আইন অনেক পুরোনো, সেটাকে আধুনিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জাস্টিজ ডিলেইড ইজ জাস্টিজ ডিনাইড আবার জাস্টিজ হারিড ইজ জাস্টিজ বারিড দুটোই সত্য। বিচার বিভাগকে এই দুটি থিম লাইনের মধ্যে দিয়ে কাজ করতে হয়। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন, এই স্বাধীনতায় সরকার হস্তক্ষেপ করেনা।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আমরা আশা করি আলোচিত এই নুসরাত হত্যা মামলার দ্রুত বিচার নারী নিপীড়ন কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে। কিš‘ উল্লেখযোগ্য হারে নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে আনতে প্রত্যেকটি নিপীড়নের দৃশ্যমান সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার হতে হবে। নিপীড়নের শিকার নারীরা যাতে আইনের আশ্রয় পায়, নিপীড়নকারীরা যাতে আইনের প্রশ্রয় না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থনৈতিক বৈষম্য, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, যৌতুক প্রথা, বাল্যবিবাহ, নারীর ক্ষমতার অপর্যাপ্ততা, মূল্যবোধের অভাব, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা, বিচারের ধীরগতি সহ সমাজের সর্ব¯‘রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার কারনে নারী নিপীড়ন বাড়ছে। তবে শুধু আইনের প্রয়োগ ও শাস্তি দিয়েই নারী নিপীড়ন বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নুসরাত এক বীর প্রতীক। এক প্রতিবাদী মেয়ে। নুসরাতের মতো আর কোনো ঘটনা আমরা দেখতে চাই না। নুসরাতের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সোনাগাজীর যে মাদ্রাসায় নুসরাত পড়তো সে মাদ্রাসার নামকরণ নুসরাতের নামে এবং তার মারা যাওয়ার দিনটিকে অর্থাৎ ১০ এপ্রিলকে বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে ‘নিপীড়ন বিরোধী দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান জনাব কিরণ।

প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করায় ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজকে নগদ দেড়লক্ষ টাকা সহ ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া রানারআপ দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র সহ নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক প্রসুন আশীষ, সাংবাদিক আব্দুল্লাহ তুহিন, সাংবাদিক ঝুুমুর বারী, উন্নয়ন কর্মী সারওয়াত বিনতে ইসলাম।