১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশের উন্নয়নে সবাই কর দিন : এনবিআর চেয়ারম্যান

দেশের উন্নয়নে সবাই কর দিন   :  এনবিআর চেয়ারম্যান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রূপালী পর্দার এক ঝাঁক তারকার প্রায় সবাই তাদের বক্তব্যে বললেন, ‘দেশের উন্নয়নে আসুন সবাই আয়কর দেই। কর দেয়ার অর্থই হলো দেশকে ভালবাসা’। এনবিআর চেয়ারম্যান জানালেন, দেশের ১ শতাংশ মানুষ মাত্র কর দেন। কিন্তু স্থিতিশীল উন্নয়ন ও দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবার কর দেয়া উচিত।

শনিবার সকালে সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রাঙ্গণ থেকে আয়কর দিবসের বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর-স্লোগানকে সামনে রেখে এবছর দিবসটির নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হলো ‘কর প্রদানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত হোক রূপকল্প বাস্তবায়ন’। আয়কর দিবসের র‌্যালীতে অংশগ্রহণের আগে চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ রূপালী পর্দার এক ঝাঁক তারকা বক্তব্য রাখেন। চিত্রনায়ক রিয়াজ, ওমর সানি, চিত্র নায়িকা মৌসুমী, পপি, সঙ্গীত শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ, অভিনেতা ড. ইমামুল হক, চঞ্চল চৌধুরী, নাট্যকার বৃন্দাবন দাস, মডেল আরমানসহ অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে আয়কর দিবসের অনুষ্ঠানে।

এর আগে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে জাতীয় আয়কর দিবস-২০১৯ এর র‌্যালীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর ঘোড়ার গাড়িতে করে র‌্যালীতে অংশ নেন এনবিআর চেয়ারম্যান। র‌্যালীটি এনবিআরের সামনে থেকে বের হয়ে মৎস্য ভবন, সুপ্রিমকোর্ট, জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে আবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালীতে আয়কর দিবসের স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, পোস্টার নিয়ে বোর্ড ও বিভিন্ন কর অঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহণ করে। এছাড়া র‌্যালীকে দৃষ্টিনন্দন করতে অংশগ্রহণকারীরা আয়করের স্লোগান সম্বলিত টি-শার্ট, ক্যাপ পরিধান করেন। এছাড়া র‌্যালিতে আয়কর সচেতনতা বাড়াতে গান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, ঘোড়ার গাড়ি, আনসার-ভিডিপির বাদক দল অংশ নেন।

জানা গেছে, ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরেও জাতীয় আয়কর দিবসের বর্ণাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও আয়করে সচেতনতা তৈরিতে মোবাইল এসএমএস দেয়া হয়েছে। এনবিআর আয়কর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং মানুষকে নিয়মিত করদানে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর ৩০ নবেম্বর দেশব্যাপী এই কর্মসূচীর আয়োজন করে থাকে।

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, স্থিতিশীল উন্নয়ন চাইলে কর জিডিপির অনুপাত বাড়াতে হবে। দেশে ১৬ কোটির বেশি জনগণ থাকলেও কর দেয় মাত্র এর এক শতাংশ। এটি আমাদের জন্য গৌরবের কোন বিষয় নয়। এশিয়ার মধ্যে আমাদেরই সবচেয়ে কম সংখ্যক মানুষ কর দেয়। তাই সরকার চাচ্ছে সবাই কর দিক। করের আওতায় আসুক। তিনি বলেন, যদি আমরা স্থিতিশীল উন্নয়ন চাই, তাহলে অবশ্যই কর জিডিপির অনুপাত বাড়াতে হবে। এ জন্য করযোগ্য সবাইকে কর দিতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভিশন-২১, এবং রূপকল্প-৪১ এখন সরকারের সামনে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অর্জনেও ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন। প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়ছে। দ্রুত দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। এই যে উন্নয়ন, এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় অর্থায়ন প্রয়োজন। সরকারের বেশির উন্নয়ন নিজস্ব অর্থে করা হচ্ছে। পদ্মা সেতুসহ বড় বড় প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এজন্য সরকারের আয়ও বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের আয় হচ্ছে জনগণের কর। মানুষ যাতে হয়রানিমুক্ত থেকে কর প্রদান করতে পারেন সেজন্য ইতোমধ্যে এনবিআরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার করা হয়েছে। সবাই দেশের উন্নয়ন চায়। আসুন সবাই কর দেই এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখি।

তারকাদের কর দেয়ার আহ্বান ॥ রূপালী পর্দার একঝাঁক তারকার সবাই কর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের উন্নয়নে কর দেয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে হয়রানিমুক্ত ও সৃজনশীল রাখার অনুরোধও করেছেন তারা। এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক রিয়াজ, ওমর সানি, চিত্র নায়িকা মৌসুমী, পপি, সঙ্গীত শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ, অভিনেতা ড. ইমামুল হক, চঞ্চল চৌধুরী, নাট্যকার বৃন্দাবন দাস এবং মডেল আরমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। নাট্যকার ও অভিনেতা ড. ইনামুল হক বলেন, কর দেয়ার মানেই হল, দেশকে ভালোবাসা। দেশের উন্নয়নের জন্য আমরা কর দিয়ে থাকি। আসুন সবাই সরকারকে কর দেই।

প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, সঙ্গীতের লোকেরা কর দিতো না। তার কারণ ছিল সঙ্গীত শিল্পী কিশোর কুমার বলতেন, সঙ্গীত হল ঈশ্বরের দান। কর দিতে হলে তাকেই দেবো। এই ধারনাটা ভুল ছিল। এখন আমরা সে ধারণা থেকে বের হয়ে এসেছি। এখন আমরা কর দিচ্ছি। কারণ যে দেশে বসবাস করছি, সেই দেশের উন্নতির জন্য আমাদেরকে কর দিতে হবে। তাই নিজেরা কর দেয়ার পাশাপাশি সবাইকে কর দেয়ার জন্য উৎসাহিত করছি। নাট্যকার বৃন্দাবন দাস বলেন, কর দেওয়াটা আমাদের দায়িত্ব। ১ টাকা দিয়ে আমরা অনেক সুবিধা ভোগ করি। তবে সৃজনশীল ও হয়রানিমুক্তভাবে কর আদায়ের জন্য এনবিআরকে আহ্বান জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের কর প্রশাসন বিভাগের সদস্য আরিফা শাহনা সবাইকে আয়কর দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।