০৮ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড

অবশেষে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠিত হতে যাচ্ছে দেশে। এই বোর্ড গঠিত হবে বর্তমানে বিদ্যমান মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আদলে। ইতোমধ্যে আইনের খসড়াও প্রস্তুত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠনের পেছনে সরকার তথা গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান যে যুক্তিটি কাজ করেছে তা হলো এসএসসি এবং এইচএসসি মিলিয়ে যত সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে তার অন্তত কয়েকগুণ বেশি পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে থাকে প্রাথমিক স্তরে। সে অবস্থায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের পক্ষে কম-বেশি ৩০ লাখ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ নিয়মিত ফল প্রকাশ রীতিমতো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। তদুপরি এর সঙ্গে যুক্ত ৬৩ হাজারের বেশি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চার লক্ষাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড এক বা একাধিক হবে সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের পরই এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করতে আরও এক বছর লাগতে পারে। এর পাশাপাশি সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, পঞ্চম শ্রেণীর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষাও থাকবে, যা পরিচালিত হবে প্রস্তাবিত প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল যে, পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা থাকবে না। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলেন। এই পরীক্ষা নিতে গিয়ে বিপুল পরিমাণে কোচিং ও গাইড বইয়ের বাণিজ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় নকল, সর্বোপরি ফল প্রকাশে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও কম ওঠেনি অতীতে যা এসএসসি এবং এইচএসসির ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠিত হলে অতীতের এসব অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগের অবসান ঘটবে এমন কথা জোর দিয়ে বলা যায় না। যাই করা হোক না কেন তা যেন হয় সুচিন্তিত ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে। কেননা, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাই হলো একটি দেশ ও জাতির মেরুদন্ড গঠনের মূল ভিত্তি। এটি যেন অন্য দশটি শিক্ষা বোর্ডের মতো মাথাভারি না হয়।

দেশে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিছু কম হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি পরীক্ষা (নেপ) ২০১৮-এর নতুন প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন চূড়ান্ত করে প্রকাশ করেছে ওয়েবসাইটে। এতে এমসিকিউয়ের পরিবর্তে ছোট-বড় প্রশ্ন রাখা হয়েছে, যেগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর দিতে হবে লিখিত আকারে। শতভাগ লিখিত প্রশ্নের আকারে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে প্রথম সাময়িক থেকেই। অর্থাৎ প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী পুনরায় ফিরে যাওয়া হলো পূর্বাবস্থায়। গত কয়েক বছর ধরে দেশব্যাপী বহুল আলোচিত ও নিন্দিত প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতেই এমসিকিউ বাদ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নতুন প্রশ্ন কাঠামো। তবে এই পদ্ধতিতেও যে প্রশ্ন ফাঁস হবে না এই গ্যারান্টি দেবে কে বা কারা। তদুপরি শিক্ষার মান যে বাড়বে সেই নিশ্চয়তাইবা কোথায়?

জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে হলে সময় প্রয়োজন। কেননা, এর জন্য লাগবে অর্থ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, উপযুক্ত শিক্ষক ও প্রশিক্ষণ, তাদের মর্যাদা, সর্বোপরি যথাযথ পাঠ্যপুস্তক ও কারিকুলাম। এক বা একাধিক প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠিত হলে বিদ্যমান ও উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে কতটা কি করতে পারবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রাথমিক স্তরে ভর্তি থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে যেন শিশু ও অভিভাবকদের পদে পদে হয়রানির শিকার হতে না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে প্রস্তাবিত প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডকে।