১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৯৮ ভাগ ঔষধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় : পাপন

৯৮ ভাগ ঔষধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় : পাপন

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ বিসিবি সভাপতি ও বাংলাদেশ ঔষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন, সরকার সব সময় ঔষধের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে। তবে সব সময় তা সম্ভব হয়না। ৯৫ ভাগ ঔষধের দামই স্থিতিশীল ছিল। তবে এভাবে কাঁচামালের দাম বাড়তে থাকলে সরকারের পক্ষে ঔষধের দাম কমিয়ে রাখা সম্ভব না। একটি এপিআই ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য আমরা অনেকদিন যাবৎ বলে আসছি। আমরা ৯৮ ভাগ ঔষধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করি। এটা আমাদের একটা বড় শক্তি। কিন্তু, ঔষধের কাঁচামালের ৯৫ ভাগ আমরা আমদানি করি। এদিক থেকে আমরা পেছনে। অবশ্য এটা আমাদের জন্য মাথাব্যথা ছিল না কারন, বাইরে থেকে কাঁচামাল আমদানি করাই লাভজনক ছিল। সোমবার(২ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার এপিআই ঔষধ শিল্প পার্কে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিসিবি সভাপতি, ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজমুল হাসান, এমপি। এর আগে এপিআই ঔশুধ শিল্প পার্কে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) কার্যক্রমের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন তিনি। আরো বলেন, বাংলাদেশের বাজার অত বড় নয়। তাই বাইরে থেকে আমদানি করাই লাভজনক। বিশ্বে চায়না সবচেয়ে বড় এপিআই ম্যানুফেকচারার। তবে, কিছুদিন আগে পরিবেশ রক্ষার ইস্যুতে আড়াই হাজারের মত এপিআই বন্ধ হয়ে গেছে। সেজন্য কাঁচামালের দাম অনেক বেড়ে গেছে। যেটা ছিল ১২০/১২৫ ডলার সেটা ৩০০ ডলার হয়ে গেছে। চাহিদা বেশি থাকলে দামতো বাড়বেই। কাজেই আমাদের এপিআই যত দ্রুত উৎপাদনে যাবে তত ভাল।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে আগে সস্তায় ঔষধ তৈরি করতে পারত। কিন্তু, এখন তা আর থাকবে না। প্রত্যেক জিনিসের দাম যখন বাড়ে তখন ঔষধের দাম আর কত জোর করে কমিয়ে রাখতে পারব? অন্যদিকে ডলারের দামও বেড়ে গেছে। সেজন্য কাঁচামালের দামও বেড়েছে। আমরা পেটেন্টেড ঔষধ বানাতে পারছি না। ২০৩২ সাল পর্যস্ত আমাদের পেটেন্ট মুক্ত থাকার কথা। কিন্তু, তিন বছরের এক্সটেনশনসহ ২০২৭ সাল পর্যন্ত আমরা পেটেন্টমুক্ত থাকতে পারব। তবে, এক্সটেনশন নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০২৪ সালেই আমাদের পেটেন্টেড ঔষধ বানাতে হবে। ২৭ টি কোম্পানি এখানে ঔষধের কাঁচামাল তৈরি করবে। আমি বলব এখানে প্যারাসিটামল তৈরি করে লাভ নেই। যেসকল ঔষধের দাম বেশি সেসকল ঔষধ তৈরি করার অনুরোধ করব।

তিনি বলেন, যারা (যে সকল দেশ) এপিআই করে তারা নিজেরাই ৬০ ভাগ কনজিউম করে। আর আমরা যদি রপ্তানি করতে চাই, করতে পারি। এপিআই পার্ক হওয়ার পর ঔষধ রপ্তানি না করার কোন কারন দেখি না। তবে কিছু সমস্যা আছে। কারন, আমাদের এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী আছে কিন্তু, এখনো ঔষধের কাঁচামাল তৈরির কোন স্কুল নেই।

তিনি বলেন, (এপিআই পার্ক তৈরি করতে) সরকার ও বিসিক সাপোর্ট দিয়েছে। সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর পরিবেশের উপর গুরুত্ব দিয়ে আমরা সেন্ট্রাল ইটিপি করেছি। কোন কোম্পানি যদি ইটিপি না করে! সেজন্য আমরা এটা সেন্ট্রালি করেছি।

এসম আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন এর চেয়ারম্যান মোঃ মোসতাক হাসান, ভারতের রামকি গ্রুপের চেয়ারম্যান অযোধ্যা রামি রেড্ডি।