১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

’২১ সালে ফাইভ-জি নেটওয়ার্কে যাবে দেশ

  • পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ’২০ সালের জানুয়ারির মধ্যে শেষ করতে হবে

ফিরোজ মান্না ॥ দেশে ২০২১ সালে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক চালু হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে ফাইভ-জি সেবা চালুর জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) একটি কমিটি গঠন করেছে। গঠিত কমিটি প্রাথমিক একটি রিপোর্ট তৈরির কাজ শেষ করে রিপোর্টটি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয় কমিটির দেয়া রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ৫ জি চালুর জন্য যা করতে হবে তার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শেষ করতে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এরপর নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য কাজ শুরু হবে। এখন যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বার বার। এরপর তৈরি হবে খসড়া রূপরেখা। ডিসেম্বর মাসের শেষ নাগাদ খসড়া রূপরেখা তৈরি হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিটিআরসির ২২৯তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তি প্রবর্তনের জন্য ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম বিভাগের কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একই বিভাগের উপ-পরিচালককে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি ফাইভ-জি সম্ভাব্য তরঙ্গ, সম্ভাব্য তরঙ্গমূল্য ও বাস্তবায়নের সময়কাল উল্লেখ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব তৈরি করবে। বর্তমানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

ফাইভ জি নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে ফাইভ জি চালু করব। এই নেটওয়ার্ক সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে একটি ধারণাপত্র বিটিআরসি তৈরি করেছে। তাতে ফাইভ জি আগে ঢাকায় শুরু হবে, ২০২৩ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হবে। ফাইভ জি হবে ইকোসিস্টেম। এই ইকোসিস্টেম আগে তৈরি করতে হবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, ফাইভ জি চালু করতে আগে দেশে ফাইভ জি সমর্থিত ডিভাইস কম থাকতে হবে। আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) ডিভাইসও থাকবে। যাতে ব্যবহারকারীরা উচ্চ গতির ইন্টারনেট পান। একটি মূল কমিটির আওতায় আরও কয়েকটি সাব কমিটি করা হয়েছে। সাব কমিটিগুলোকে কাজ ভাগ করে দেয়া হয়েছে। মোট কথা ফাইভ জি প্রস্তুতি জোরেশোরেই চলছে। মূল কমিটি ও সাব কমিটির মধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। দেশে প্রথম বারের মতো গত বছরের ২৫ জুলাই ফাইভ জির সফল পরীক্ষা শেষ করা হয়েছে। পরীক্ষাটি করা হয় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে। এ সময় ফাইভ জি’র সর্বোচ্চ গতি ছিল ৪ দশমিক ১৭ জিবিপিএস। একটি উপ-কমিটি ফাইভ জির জন্য উপযুক্ত বেতার তরঙ্গের তালিকা, দেশে প্রবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় তরঙ্গের চাহিদা নিরূপণ, তরঙ্গ বরাদ্দের সময়কাল নির্ধারণ, স্পেক্ট্রাম শেয়ারিংয়ের বিষয়ে মতামত, ফাইভ জির জন্য প্রয়োজনীয় স্পেক্ট্রাম বর্তমানে কোন অপারেটরকে বরাদ্দ দেয়া থাকলে, তা খালি করার পদ্ধতি নির্ধারণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কাজ করছে। আরেকটি উপ-কমিটির টেলিযোগাযোগ খাতের বিদ্যমান পলিসি বা গাইডলাইন পর্যালোচনা সাপেক্ষে ফাইভ জির জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল আর্কিটেকচার নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর, অন্যান্য সংস্থা ফাইভ জি প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেসব সেবা দিতে আগ্রহী, তার তালিকা চেয়ে দফতরগুলোতে চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে আরেকটি সাব কমিটির। ফাইভ জি সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিষয় চিহ্নিত করে ফাইভ জির জন্য উপযুক্ত সিকিউরিটি স্ট্যান্ডার্ড প্রস্তাব করে প্রতিবেদন তৈরি করার কাজ করছে।

মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা চাই বা না চাই ইন্টারনেট সভ্যতা ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হবে। ২০০৮ সালে দেশে মাত্র আট লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করত। বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ২০০৮ সালে ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হতো মাত্র সাড়ে সাত জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড)। বর্তমানে এক হাজার ৩ শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে। ৪ হাজারেরও বেশি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এসওএফ তহবিলের মাধ্যমে দেশের ৪০টি দ্বীপ, চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -১’র মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়াও অধুনালুপ্ত ছিটমহলসহ ৭৭২টি দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার কাজ চলছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রথম স্তর অতিক্রম করবে। কিন্তু এটাই শেষ কথা নয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্তর অতিক্রম করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। আমরা তৃতীয় সাবমেরিনের ক্যাবল স্থাপনের জন্য কনসোর্টিয়ামের সদস্য পদ নিয়েছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণেরও কাজ শুরু করেছি। আগামী বছরের শুরু থেকেই ব্যান্ডউইথের পরিমাণ ২ হাজার এক শ’ জিবিপিএস প্রয়োজন হবে। দেশে ডাটার ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। কুয়াকাটা থেকে ব্যান্ডউইথ বাড়াতে পারবে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি। তারা সেখান থেকে দেড় হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পেতে পারে। আমরা বিটিসিএলকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করব। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল আধুনিয়ান করে সারাদেশে ইন্টারনেট বিস্তার করা হবে। জেলা পর্যায়ে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একইভাবে উপজেলা পর্যায়েও ইন্টারনেটের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আমরা জেলায় ১০ জিবিপিএস ও উপজেলায় ২ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। বিভাগীয় পর্যায়ে আরও বেশি ব্যান্ডউইথ দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক প্রথম ঢাকায় চালু করা হবে।