০৯ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমার বাবা-মার অত্যাচারেই স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে ॥ গৃহবধূ মিতানূরের স্বামীর দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার ধানম-ির একটি বাড়ি থেকে মিতানূর নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকালে লাশটি বাথরুমে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ছিল। গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মিতানূরের স্বামীর দাবি, তার বাবা-মার নির্যাতন সইতে না পেরে মিতা আত্মহত্যা করেছে। নিহতের সাড়ে তিন মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান আছে। আত্মহত্যার প্ররোচিত করার অভিযোগে মিতার বাবা ধানম-ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার দুই আসামি নিহত মিতার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

গত রবিবার রাত নয়টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত। মিতানূরের পরিবারের দাবি, ওইদিন রাত নয়টার দিকে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে মিতার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মিতানূর বাথরুমে যায়। অনেকক্ষণ আর বাথরুম থেকে বের হচ্ছিল না। বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করা। গোল তালা আছে বাথরুমের দরজায়। পরে চাবি দিয়ে দরজার তালা খুলে দেখা যায়, গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে মিতানূর।

নিহতের স্বামী তামিম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। তবে মিতার আত্মহত্যার জন্য আমার বাবা-মা দায়ী। বাবা-মার নির্যাতনের কারণেই মিতা আত্মহত্যা করেছেন। আমার বাবা মা সবসময় আমার স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। নানাভাবে অত্যাচার করতেন। আমি বাসায় থাকতাম না, তবে শুনতাম যে তারা অত্যাচার করতেন। আমার স্ত্রীর পরিবার নিম্নবিত্ত, তাই বিয়ের পর থেকেই নানা ইস্যুতে তার সঙ্গে আমার বাবা-মা খারাপ ব্যবহার করতেন। ওই অভিমানেই মিতা আত্মহত্যা করেছেন। আমাদের সাড়ে তিন মাসের ছেলে আছে।

সোমবার বিকেলে এ ঘটনায় মিতানূরের বাবা বাদী হয়ে ধানম-ি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে মিতানূরের শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়।

ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ জনকণ্ঠকে জানান, রবিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ধানম-ির ৮ নম্বর সড়কের আবাসিক এলাকার ৭৫ নম্বর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে মিতানূরের লাশ বাথরুমে ওড়না পেঁচানো ঝুঁলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মিতানূরের লাশের পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। নিহতের দায়ের করা মামলায় সোমবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত মিতার শ্বশুর এ কে এ কাফি (৫৪) ও শাশুড়ি সুরাইয়া বেগমকে (৫০) গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। নিহত মিতানূরের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায়।