২২ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযুদ্ধের প্রকল্প বাস্তবায়ন

আগামী বছর মুজিববর্ষ হিসেবে পালন করার বৃহৎ পরিকল্পনায় সরকার বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। পরের বছর ২০২১ সালে উৎসব আর আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার এক উদ্দীপক ঘটনাপ্রবাহ। এমন সব ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যিক স্মরণ আয়োজনে দেশের স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যমাত্রায় সরকার গ্রহণ করেছে বিভিন্ন কর্ম প্রকল্প। মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় জয়যাত্রাকে তার যথার্থ মর্যাদায় পৌঁছে দিতে নেয়া হয়েছে চারটি মেগা প্রকল্প। প্রকল্পগুলো হচ্ছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী ময়দানে স্বাধীনতার স্তম্ভ নির্মাণ, যা রয়েছে তৃতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতিকরণের অবস্থানে। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ কর্মসূচী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারের ভূমিকাকে স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্র স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্যানোরমা নির্মাণ প্রকল্প। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ থেকে প্রায় ১/৩ অংশ শেষ হলেও এখনও অনেক কাজ বাকি। এসব প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যথাযথ উদ্যোগ আর নজরদারির মধ্যে এমন সব বৃহৎ ও মহৎ কর্মপ্রক্রিয়াকে দ্রুততার সঙ্গে তার লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব মুক্তিযুদ্ধের এক অবিস্মরণীয় ঘটনাপ্রবাহ। এই উদ্যানেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর স্মরণকালের ৭ মার্চের সেরা ভাষণটি যে মাত্রায় উপস্থাপন করেন তাৎক্ষণিক ও উপস্থিত বিবেচনা শক্তিতে, তা আজ দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বসভায়ও আদৃত, স্বীকৃত। আবার এই ময়দানেই পরাজিত পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনী তাদের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিলে স্বাক্ষর করে স্থানটিকে মুক্তিযুদ্ধের অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত করে। ফলে ঐতিহ্যিক এই স্থানটিতে স্বাধীনতার স্তম্ভ নির্মাণ ছিল এক আবশ্যকীয় দায়বদ্ধতা।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মাণাধীন আবাসন ভবন ‘বীর নিবাসে’র কার্যক্রমও ক্রমান্বয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের ইচ্ছা মুজিববর্ষ উপলক্ষে তা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করে দেয়া। ৯০০ স্কয়ার ফিটের এই ভবনগুলো প্রধানমন্ত্রী অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার দেবেন। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতা আমাদের অহঙ্কার, ঐতিহ্য এবং গর্ব। এমন মহৎ কর্মযোগকে আরও স্বচ্ছ এবং যথার্থভাবে এগিয়ে নিতে সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নও বিশেষ জরুরী। পাশাপাশি আলবদর, রাজাকার এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের সুষ্ঠুভাবে চিহ্নিত করাও আবশ্যক। সারাদেশে পাকিস্তানী হানাদার ও দেশীয় দালালচক্রের দ্বারা লাঞ্ছিত এবং নিহত মানুষের যথার্থ ঠিকানাও সময়ের দাবি। তাই নিহতদের গণকবর শনাক্ত করে সেগুলোর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণও জাতীয় কর্তব্য।

এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের প্রশাসনিক স্মৃতি বিজড়িত মেহেরপুরের মুজিবনগর আজও ইতিহাসের অনন্য সাক্ষী। ফলে এখানে ‘মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্র’ নির্মাণ প্রকল্প তার কর্মপরিধিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সচেতনভাবে সক্রিয়। বরাদ্দকৃত জমিতে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় সেখানে আরও জায়গা যুক্ত করাও জরুরী বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিমত। প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণে যা করার সবটাই যেন সময়মতো হয়, তেমন পরামর্শও দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি প্যানোরমা নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সে সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞেদের পরামর্শ নিতেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। সব মিলিয়ে নির্মাণাধীন কর্ম প্রকল্পগুলো যথাসময়ে এগিয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করাই যায়।

নির্বাচিত সংবাদ