২৯ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোর্টে তুলকালাম ॥ খালেদার জামিন নিয়ে বিশৃঙ্খলা বিএনপির

কোর্টে তুলকালাম ॥ খালেদার জামিন নিয়ে বিশৃঙ্খলা বিএনপির
  • আইনজীবীদের হাতাহাতি এজলাসে ;###;বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার ॥ প্রধান বিচারপতি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি কেন্দ্র করে সুপ্রীমকোর্টে ঘটেছে তুলকালাম কা-। জামিন আবেদনের শুনানি এগিয়ে আনার দাবিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রায় তিন ঘণ্টা আপীল বিভাগের এজলাসে অবস্থান নিয়ে তুমুল হট্টগোল ও হাতাহাতি করেছেন, চিৎকার-চেঁচামেচি করেছেন, স্লোগান দিয়েছেন। এর পক্ষে-বিপক্ষে আইনজীবীরা সংবাদ সম্মেলনসহ প্রতিবাদ সভা করেছেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের তুলকালাম কা-ে আপীল বিভাগের কার্যতালিকার ৭ নম্বর আইটেমের পর আর কোন মামলার কার্যক্রম চালানো যায়নি। খালেদা জিয়ার সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট না আসায় আদালত মামলার পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছে ১২ ডিসেম্বর। এর পর পরই বিএনপিপন্থী আইনজীবীগণ হট্টগোল শুরু করেন। এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষ্ট আপীল বেঞ্চ এজলাস ত্যাগ করেন। মামলার শুনানি উপলক্ষে আদালত অঙ্গনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রধান বিচারপতি বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হট্টগোল- বিশৃঙ্খলাকে ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন,সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার, বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার। অন্যদিকে এ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, বিএনপির আইনজীবীরা ফ্যাসিবাদী আচরণ করেছেন। অন্যদিকে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীগণ প্রতিবাদ সভায় বলেছেন, বিএনপিপন্থী আইনজীবীগণ আদালতে যা করেছেন তা আদালত অবমাননার শামিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ না নিয়ে আদালত ত্যাগ করতে যাওয়া সিনিয়র আইনজীবীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বিএনপি সমর্থক জুনিয়র আইনজীবীরা। এদিকে রবিবার থেকে সারাদেশের বারগুলোতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বার কাউন্সিল অডিটরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কর্মসূচীর ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি শুরু হলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীগণ হৈচৈ শুরু করেন। হট্টগোলে শেষমেশ এজলাস ছেড়ে চলে যান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এর আগে সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপীল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চে এই শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে এ্যাটর্নি জেনারেল মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং শুনানির জন্য দুই সপ্তাহ সময় চান আদালতের কাছে। আদালত আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে মেডিক্যাল রিপোর্ট দাখিল এবং শুনানির জন্য ১২ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দেয়। এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বৃহস্পতিবারের মধ্যেই শুনানি করতে চাইলে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উচ্চবাচ্য শুরু হয়। জয়নুল আবেদীন বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা খুবই খারাপ, আগে তার জামিন দেন, প্রয়োজনে শুনানি পরে হোক। তখন আদালত জানায় আগামী বৃহস্পতিবার শুনবে। এরপর বিএনপির আইনজীবীরা কোর্টে আবার উচ্চবাচ্য শুরু করেন।কয়েক মিনিট ধরে এই অবস্থা চলার পর আপীল বিভাগের প্রধান বিচারপতিসহ ছয় জন বিচারপতি এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান। এ সময় আদালতে উপস্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা শেম! শেম! বলে চিৎকার করতে থাকেন। এই পুরোটা সময় আদালত কক্ষ থেকে বের হতে বা নতুন করে কাউকে ঢুকতে বাধা দেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। এজলাসেই তারা সেøাগান দেয়- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, বেল ফর খালেদা জিয়া। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিচারকরা এজলাসে ফিরে এলেও বিশৃঙ্খলার কারণে দুপুর পর্যন্ত আর কোন মামলার কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা নজিরবিহীন। আমি এর আগে আদালতের এই পরিস্থিত দেখিনি। লম্বা সময় এজলাসে অপেক্ষা করেও বিশৃঙ্খলার কারণে বিচার কার্যক্রম চালাতে না পেরে বেলা সোয়া ১টার দিকে এজলাস ছাড়েন বিচারকরা। এরপর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাও সেøাগান দিতে দিতে ধীরে ধীরে আদালত কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।

বার বার চেষ্টা করেও বিচার কার্যক্রম শুরু করতে না পেরে দুপুর সোয়া ১টার দিকে এজলাস থেকে নেমে যান বিচারকরা। খালেদার জামিন আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার আগে গত ২৮ নবেম্বর তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন চেয়েছিল সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ওই মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আদালতে আসার কথা ছিল। কিন্তু এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সকালে শুনানির শুরুতেই বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা হয়েছে, কিছু পরীক্ষা বাকি আছে। সেজন্য সময় প্রয়োজন বলে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

প্রধান বিচারপতি এ সময় আগামী ১২ ডিসেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে তার আগেই প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তখন শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার দাবিতে আদালত কক্ষের ভেতরে হৈ চৈ শুরু করেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মাহবুব উদ্দিন খোকন ও নিতাই রায় চৌধুরী এ সময় জুনিয়র আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে আদালত কক্ষে আটকা পড়েন। অন্যদিকে এ্যাটর্নি জেনারেলসহ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ছাড়াও বার সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন, আজমালুল হোসেন কিউসি, ফজলে নূর তাপস, কামরুল ইসলাম আটকা পড়েন আদালত কক্ষে। কয়েকবার চেষ্টার পরও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা শান্ত না হওয়ায় বিচারকরা সকাল সোয়া ১০টার দিকে এজলাস থেকে নেমে যান। ফলে আপীল বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম বেশ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে।

বেলা ১১টার পর বিচারপতিগণ এজলাসে ফিরে এলে আদালতের কর্মচারীরা কার্যতালিকার পরবর্তী মামলার নম্বরগুলো ডাকতে শুরু করেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা খালেদার জামিন শুনানি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা এখন আর অন্য কিছু শুনব না। সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার, বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার। এটা নজিরবিহীন। আমি এর আগে আদালতের এই পরিস্থিত দেখিনি। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এ সময় ডায়াসের দিকে এগিয়ে গেলে তাকে থামিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, প্লিজ টেক ইয়োর সিট। জয়নুল আবেদীন তখন বলেন, অনেক কথাই তো বলা যায় সরকারপ্রধান বলেছেন, খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন। তাকে থামিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, কে কী বলল তা দেখে আমরা বিচার করি না। মামলার কাগজপত্র দেখে আমরা বিচার করব। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীনও যে বিভিন্ন মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনার বিরুদ্ধে কয়টা মামলা? কোর্ট থেকেই তো জামিনে আছেন। আবার কোর্টে এসেই শক্তি দেখাচ্ছেন। আমরা এটা নিয়ে আর কথা বলব না, অন্য আইটেম দেখব। খালেদার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব কথা বলতে চাইলে প্রধান বিচারপতি তাকে বলেন, অর্ডার হ্যাজ বিন পাসড। এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনও। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, মাই লর্ড, এক মিনিট, অর্ডারটা রিভিউ করেন, দয়া করেন। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এ সময় বলেন, খালেদা জিয়া মারা যাচ্ছেন, অর্ডারটা রিভিউ করেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, সবাই বলছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের আগে শুনতে পারবেন না। আমরা আর কোন কথা শুনব না। বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিএনপিপন্থী জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এজলাস থেকে বের হতে চাইলেও জুনিয়রদের বাধার মুখে আবার আসনে ফিরে যান। একটি মামলার শুনানি শুরুর চেষ্টা হলেও পরে তা মুলতবি করেন প্রধান বিচারক। খালেদা জিয়ার মামলার পর আর কোন মামলার শুনানিই এদিন চালানো যায়নি। লম্বা সময় এজলাসে অপেক্ষা করেও বিশৃঙ্খলার কারণে বিচার কার্যক্রম চালাতে না পেরে বেলা সোয়া ১টার দিকে এজলাস ছাড়েন বিচারপতিগণ। এরপর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাও সেøাগান দিতে দিতে ধীরে ধীরে আদালত কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান।

বাড়াবাড়ির সীমা থাকা দরকারÑপ্রধান বিচারপতি

সর্বোচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হট্টগোল-বিশৃঙ্খলাকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেছেন, সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার, বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকা দরকার। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল থেকে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রতিবেদন না আসায় বৃহস্পতিবার তার জামিন প্রশ্নে সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় বিচারকের আপীল বেঞ্চ। আদালত ১২ ডিসেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ রাখলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ওই তারিখ এগিয়ে আনার দাবিতে হট্টগোল শুরু করেন।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আচরণ ফ্যসিবাদী

এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আপীল বিভাগে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আচরণ ছিল অভাবনীয়। আদালতে তারা সেøাগান , হট্টগোল এবং বিচার কাজে বাধা সৃষ্টি দিয়ে ফ্যাসিবাদী আচরণ করেছে। এটা আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রয়াস। দুপুরে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার, খালেদার সিনিয়র আইনজীবীরা কোর্টে ছিলেন কিন্তু তারা জুনিয়রদের থামানোর কোন চেষ্টাই করেননি। খালেদা জিয়ার আপীল শুনানির জন্য প্রস্তুত কিন্তু তারা আপীলের শুনানি না করে জামিন শুনানি নিয়ে ব্যস্ত। তারা রাজনৈতিক দাবি থেকে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছেন। খালেদা জিয়া একজন অপরাধী। তিনি অপরাধ করেছেন। তার জামিন চাওয়া হয়েছে। জামিন দেয়া না দেয়া আদালতের এখতিয়ার। এভাবে তারা যদি আদালতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, তবে আমি প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানাব, এদের বিরুদ্ধে উপর্যুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

তারা আইন-আদালত

মানেন না

সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বিএনপির কর্মকা-কে নিন্দা জানিয়েছেন। সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির উত্তর হলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্যে তিনি এ নিন্দা জানান। এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, এর মাধ্যমে আইনের শাসনের প্রতি, বিচার বিভাগের প্রতি তাদের যে অনাস্থা এটা আবারও প্রকাশ করলেন। তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন না। তারা আইন-আদালত মানেন না। তারা সুপ্রীমকোর্টের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করছেন। আমি তাদের এ আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। তারা যদি ফের এ ধরনের আচরণ করে তাহলে এর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। সে জন্য প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিদের কাছে আবেদন করব। আপনারা শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিন। আমরা আইনজীবীরা আপনাদের সঙ্গে থাকব। আপনারা দেখছেন তারা কি ধরনের ব্যবহার করছে। আজকে তারা আইনজীবী ছিলেন না। তারা অনেকেই কালো কোট পরে এসেছেন, তারা বহিরাগত ছিল। তারাই কিন্তু এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, আইনজীবীরা এ ধরনের সেøাগান দিতে পারে না। আইনজীবীদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমি বলব, আপনারা (বিএনপিপন্থী আইনজীবী) এ ধরনের বহিরাগতদের বিদায় করুন। পরিষদের সদস্য সচিব শেখ ফজলে নূর তাপসের পরিচালনায় প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন বলেন, জীবনেও ভাবিনি এ ধরনের ঘটনা হবে। এটা আদালত অবমাননা। যারা হট্টগোল করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেয়ার আহবান জানাচ্ছি। এটা চলতে থাকলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রমাণ করেছেন তিনি অসুস্থ নন। তারা জোর করে আদালত থেকে জামিন নিতে চান। যারা আদালতে বিচার কাজে বাধা দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস বলেন, বিএনপিপন্থী আইনজীবীগণ আপীল বিভাগকে অবরুদ্ধ করে রাখে। তারা এর আগেও আইন অঙ্গনকে কুলষিত করার চেষ্টা করেছে। তখন আমরা দাঁতভাঙ্গা জবাব দিযেছি। আইনের শাসন সবার উর্ধে। এই বিচারাঙ্গনকে কুলষিত করার চেষ্টা করছে। তা হতে দেয়া হবে না। তারা ( বিএপিপন্থী আইনজীবী) প্রধান বিচারপতির কক্ষে সেøাগান দিয়েছে। বিচারের পরিবেশ বিনষ্ট করেছে। ভবিষ্যতে এ রকম হলে প্রশাসনকে অনুরোধ করব তারা যেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আইনজীবীদেরও এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

এ্যাটর্নি জেনারেলকে দায়ী করলেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা

দীর্ঘক্ষণ আদালতে অবস্থান করে বিচার কাজ বন্ধ রাখার ঘটনার জন্য রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এ্যাটর্নি জেনারেলকে দায়ী করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। আজকের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলেও উল্লেখ করেন তারা। বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার জামিন শুনানি নিয়ে আপীল বিভাগের হট্টগোলের পর সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান তারা। আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আজকে যে ঘটনা ঘটেছে তার সব দায়-দায়িত্ব এ্যাটর্নি জেনারেলের। কেননা বেগম জিয়ার মামলায় মেডিক্যাল রিপোর্টের দরকার হয় না। এ মামলায় সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর। সাত বছরই তাকে দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আজকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাজতে রয়েছেন অথচ এই ধরনের মামলায় শত শত আসামি জামিন নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি প্রথম থেকে বলে এসেছি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেগম জিয়াকে জেলে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া বেগম খালেদা জিয়াকে আইনী প্রক্রিয়ায় মুক্ত করা যাবে না। তারই প্রমাণ আজকে আপনারা পেয়েছেন। যেখানে সাত বছরের সাজার মধ্যে দেড় বছর ধরে তিনি জেলে। তার ওপর একজন নারী হিসেবে জামিন পাবেন না এর চেয়ে ন্যক্কারজনক আর কিছু হতে পারে না।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একটা মামুলি মামলায়, মিথ্যা অভিযোগে খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। তিনি প্রায় একবছর ১০ মাস ধরে জেলে আছেন। কেন এতদিনে তার জামিন হয়নি আজকে আপনারা তা বুঝতে পারছেন। আমাদের প্রত্যাশা ছিল বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তির আদেশ হবে। যে রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে, যে কোন আদালতে মানবিক কারণে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে জামিন দিতে পারেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আজকে খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের দ্বিতীয় রিপোর্টে কি আছে সেটিও জয়নুল আবেদীন উল্লেখ করেছেন। একটা সামান্য অজুহাতে আদালত সাতদিন সময় দিয়েছেন। যা অপ্রত্যাশিত।

বিএনপির আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আপনারা কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছেন জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে মামলা দিয়ে জেলখানায় বন্দী করে রাখা হয়েছে। বেগম জিয়া ভাল হিসেবে জেলখানায় গিয়েছেন কিন্তু এখন তিনি চিকিৎসার অভাবে জেলখানায় ধুঁকে ধুঁকে মরছেন। তার যে চিকিৎসা পাওয়ার কথা সেই চিকিৎসা তিনি জেলখানায় পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি আছেন সেখানেও তিনি চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তার শারীরিক অবস্থা জানার জন্য আমাদের সেখানে যেতে দিচ্ছেন না। এমনকি তাঁর আত্মীয়স্বজনকেও যেতে দেয়া হয় না।

জুনিয়রদের হাতে বিএনপির সিনিয়র আইনজীবীরা অবরুদ্ধ

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ না নিয়ে আদালত ত্যাগ করতে যাওয়া সিনিয়র আইনজীবীদের অবরুদ্ধ করে রাখে বিএনপি সমর্থক জুনিয়র আইনজীবীরা। জুনিয়র আইনজীবীদের অবরুদ্ধের মুখে পড়ে দলের সিনিয়র আইনজীবীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে দেখা গেছে, এ সমস্ত আইনজীবীদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিল নিম্ন আদালতের আইনজীবী।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা

জোরদার

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদ-প্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে করা আপীলের শুনানিকে কেন্দ্র করে সুপীমকোর্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বৃৃহস্পতিবার সকাল থেকে সুপ্রীমকোর্টের প্রবেশ পথগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার এইচএম আজিমুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিকে কেন্দ্র আদালত এলাকায় কেউ যেন নাশকতা করতে না পারে, সেজন্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রবিবার থেকে সারাদেশের

বারে বিএনপিপন্থী

আইনজীবীদের অবস্থান

রবিবার থেকে সারাদেশের বারগুলোতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচীর ঘোষণা দিয়েছে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বার কাউন্সিল অডিটরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কর্মসূচীর ঘোষণা দেন। এর আগে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র নজিরবিহীন হট্টগোল হয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগে।

দুর্নীতির যে মামলায়

খালেদা কারাগারে

দুর্নীতির মামলায় সাত বছরের কারাদ-প্রাপ্ত খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপীল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত ১৪ নবেম্বর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। পরে ১৭ নবেম্বর আপীল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় জামিন আবেদনটি আপীল বিভাগে কার্যতালিকাভুক্ত হয়। গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক। রায়ে খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদ- ও ১০ লাখ টাকা অর্থদ- দেয়া হয়। এছাড়া ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর কারাদ- পেয়ে বন্দী রয়েছেন খালেদা জিয়া। আপীলের পর হাইকোর্টে যা বেড়ে ১০ বছর হয়। পরে ২০১৮ সালের ১৮ নবেম্বর খালাস চেয়ে আপীল বিভাগে খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। তবে সে আবেদন এখনও আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা।

নির্বাচিত সংবাদ