২৮ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অসুস্থতায় ৪০০ মিটারে দৌড়াতে পারলেন না জহির

স্পোর্টস রিপোর্টার, কাঠমান্ডু, নেপাল থেকে ॥ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেই চলে আসে সাফল্য বা ব্যর্থতার বিষয়টি। কিন্তু প্রতিযোগিতায় যদি অংশই না নেয়া যায়, তাহলে এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না। বুধবার এমন যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়েছিলেন কারাতেকা মারজান আক্তার প্রিয়া। বৃহস্পতিবার একই কষ্টের পথিক হলেন দুই স্প্রিন্টার জহির রায়হান এবং আবু তালেব। প্রিয়া কারাতেতে দলগত কুমির ইভেন্টের ফাইনালে খেলতে পারেননি ইনজুরিতে পড়ায়। বাংলাদেশ দল রৌপ্য জেতে ওই ইভেন্টে। অনেকেই মনে করেন, প্রিয়া ফাইনালে খেলতে পারলে বাংলাদেশ ঠিকই সোনার পদক অর্জন করতে পারত। জহির ও তালেবের ব্যাপারটাও প্রায় একই রকম। দশরথের রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সকালে বাংলাদেশের এই দুই এ্যাথলেটের ছিল ৪০০ মিটার দৌড়ের হিট। তাতে বাংলাদেশের জহির রায়হান তৃতীয় হন। আবু তালেব হন অষ্টম। জহির ফাইনালে উন্নীত হলেও তালেবের ভাগ্যের শিকে ছেঁড়েনি। তবে ফাইনালে নাম লেখালেও জহির তাতে অংশ নিতে পারেননি। কেননা হিটের পরেই জহির অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিস্ময়করভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তালেবও। দৌড় শেষে দুজনই শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় তাদের পাশের ব্লু ক্রস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক পবন রাওয়াল তাদের অক্সিজেন দেন। জহির সম্পর্কে পবন বলেন, ‘জহিরের পালস রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থায় আমরা তাকে ফাইনালে অংশ নেয়ার অনুমতি দিতে পারছি না। যদি তিনি আবার দৌড়ান, তাহলে তার পালস রেট আরও অনেক বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় আমরা তাকে ফাইনালে অংশ নেয়ার অনুমতি দিতে পারছি না।’

এসএ গেমসে জহিরদের সঙ্গেই কাঠমান্ডুতে এসেছেন বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু। তিনি জনকণ্ঠকে জানান, ‘জহির এবং তালেবেকে ইতোমধ্যেই হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে এবং তারা দুজনই হোটেলের রুমেও চলে গেছে। আজকে তাদের ফুল বেড রেস্টে থাকতে হবে ডাক্তারের নির্দেশে। কাল বিকেলে আমাদের ডাক্তার বেলাল তাদের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেবেন। ডাক্তার অনুমতি না দেয়ায় তারা ৪০০ মিটার স্প্রিন্টের ফাইনালে খেলতে পারেনি।’

মন্টু আরও যোগ করেন, ‘তবে আমরা আশাবাদী জহির-তালেব শুক্রবার আরেকটি ইভেন্ট ৪ গুণিতক ৪০০ মিটার এবং শনিবার ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলে দৌড়ে অংশ নিতে পারবে।’ মন্টুর বরাতে আরও জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ৪০০ মিটার দৌড় ইভেন্টে অংশ নিতে না পেরে জহির ও তালেব অনেক হতাশ হয়েছেন। বিশেষ করে জহির অনেক বেশি আপসেট ছিলেন। এ প্রসঙ্গে মন্টুর ভাষ্য, ‘জহিরা বলেছে ওই ইভেন্টে অংশ নিতে পারলে সে একটা কিছু অর্জন করতে পারত নিশ্চিতভাবেই। ডাক্তার যখন জানিয়ে দিল জহির এই ইভেন্টে খেলতে পারবে না, এটা শুনে জহির অনেক কান্নাকাটি করেছিল!’ সর্বশেষে মন্টু জানালেন একটি জহির যেন শেষ পর্যন্ত ৪০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিতে পারে, এজন্য আমরা ১০ মিনিট পর্যন্ত দৌড়ের ইভেন্টটি থামিয়ে রেখেছিলাম। আশাবাদী ছিলাম ও সুস্থ হয়ে অংশ নিতে পারবে। কিন্তু ওর পালস অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়াতে (১৩০ এর ওপর, সুস্থ মানুষের পালস থাকে ৭৮-এর মতো) ও অসুস্থবোধ করায় দৌড় ইভেন্টে আর ফিরে আসতে পারেনি। এজন্য অনেক আপসেট ছিল সে।