১৯ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রাণ ফিরুক বুয়েটে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার্জনের পীঠস্থান। ছাত্র-শিক্ষকের সুন্দর সম্পর্কের ভেতর দিয়ে বজায় থাকবে শিক্ষার পরিবেশ। ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্রদের শিক্ষাগত স্বার্থরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সেটিই প্রত্যাশিত। এর ব্যতিক্রম হলেই অশান্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস, বিঘ্নিত হয় শিক্ষার বিস্তার। বুয়েটছাত্র আবরার হত্যার ঘটনায় বুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবিরই হয়ে পড়েছিল। অবশেষে প্রশাসনকে দেয়া সকল দাবি পূরণের প্রেক্ষাপটে সকল আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা, এটি সমাজের জন্য স্বস্তিকর সংবাদ। এর মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম এ উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে দুই মাস ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান ঘটল। আজ শনিবার বসছে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক। ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা। সব মিলিয়ে সুবাতাস ফিরে আসছে দেশসেরা মেধাবীদের অন্যতম এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

সরকার প্রথম থেকেই বুয়েটের শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যাকান্ড মামলার চার্জশীট দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সাধারণ মানুষের মর্মমূল ছুঁয়ে যাওয়া এই হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ১৩৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে সুখবর দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। এতে সরকারের সদিচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা আগেও বলেছি দেশে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত বলেই স্বল্পতম সময়ের মধ্যে জাতির বিবেককে নাড়া দেয়ার মতো অপরাধের বিচার সুসম্পন্ন হচ্ছে।

পেছনের দিকে তাকালে আমরা শিউরে উঠব। নিছক ‘শিবির’ সন্দেহে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাটি মানুষকে বিষাদগ্রস্ত ও বিক্ষুব্ধ করেছিল। ভয়াবহ ও মর্মান্তিক এই ঘটনাটি রীতিমতো নাড়া দেয় সমগ্র দেশ ও জাতিকে। স্তম্ভিত ও বাকরুদ্ধ করেছিল আমাদেরও। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুখ্যাত ও মানসম্মত একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ রকম একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড সংঘটিত হতে পারে, ভাবতেও শিউরে উঠতে হয়। তদুপরি আবরারের হত্যাকারী আর কেউ নয়। বহিরাগত তো নয়ই, বরং তার সহপাঠী, সতীর্থ, বন্ধু এমনকি রুমমেট। হত্যাকারীরাও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে বুয়েটের শিক্ষার্থী হিসেবেই, তার ওপর ছাত্রলীগের নামধারী, বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত নেতা ও কর্মী। আবরারের অপরাধ, সম্প্রতি সে ভারতে শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে কিছু ইলিশ দেয়া এবং ফেনী নদীর পানি ভারতকে সরবরাহসহ তথাকথিত গ্যাস রফতানির খবরে ‘ভিন্নমত’ প্রকাশ করে পোস্ট দিয়েছিল তার ফেসবুকে। তবে এসব পোস্ট আদৌ উত্তেজক, নেতিবাচক, হিংসাত্মক, ধ্বংসাত্মক নয়, সরকার ও দেশবিরোধী তো নয়ই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রীও সে সময়ে বলেছিলেন, কাউকে ভিন্নমতের জন্য মেরে ফেলার কোন অধিকার কারও নই। সরকার তা সমর্থন করে না কোন অবস্থাতেই।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিং একটি অসভ্য সংস্কৃতি, এটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্জনে আগত নবীন শিক্ষার্থীকে ভীত করে তোলে, সিনিয়রদের সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দেয়। বুয়েটে র‌্যাগিং বন্ধে র‌্যাগিংয়ের শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয় সম্প্রতি। র‌্যাগিংয়ের কারণে কোন ছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন। এছাড়া সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতির জন্যও আজীবন বহিষ্কারের কথা বলা হয়েছে। ফলে আশা করা যায় র‌্যাগিংয়ের অভিশাপ থেকেও মুক্ত হবে বুয়েট। সুবাতাস ও প্রাণ ফিরুক বুয়েটে- এটিই ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক সব পক্ষেরই প্রত্যাশা।