১৯ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতিবন্ধীদের জন্য সুবর্ণ ভবন

দেশের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের প্রতি বর্তমান সরকার সচেতন দায়বদ্ধতায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পিছপা হয়নি। সমাজে প্রতিবন্ধীদের সহজভাবে মেনে নেয়ার ওপরও বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সংশ্লিষ্টদের প্রতি যে সযত্ন মানবিকতা সেটাও দৃশ্যমান হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক উন্নত মানের জীবন নিশ্চিত করতে আবাসন প্রকল্পের মতো স্থায়ী ঠিকানা ও বসবাসের নিমিত্তে প্রদান করার কর্মসূচীও শেষ হয়েছে। ঢাকার মিরপুরে এক শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘সুবর্ণ ভবন’ এখন সংশ্লিষ্টদের জন্য হস্তান্তরে প্রস্তুত। শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন ও আবাসন সুবিধা দিতে এমন মহৎ ও ব্যাপক কর্মসূচীকে বাস্তবে রূপ দেয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত এই ভবনটিকে প্রতিবন্ধীদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োগ করা হবে। ভবনটি জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, মিরপর চত্বরে তৈরি করা হয়। এক শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটিতে ৩শ’ ছেলে ও ৩শ’ মেয়ে প্রতিবন্ধীর স্থান সঙ্কুলান হবে। যেখানে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আধুনিক প্রযুক্তির সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবে। চিকিৎসা সেবায় কাউন্সেলিং করা হবে। তার সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা প্রদানে বিভিন্ন কার্যক্রম গোছানো আছে। এ ছাড়া কনফারেন্স রুম, ক্যাফেটারিয়া কিংবা বিভিন্ন সক্ষম প্রতিবন্ধীর তৈরি দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির স্থানও নির্ধারণ করা আছে। প্রার্থনার জন্য আছে পৃথক ব্যবস্থা। সাধারণ প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বিশেষ চাহিদার আরও কর্মশালার আয়োজন। ভবনের নিজস্ব আলয়ে এ সবই নির্ধারিত আছে। সব প্রতিবন্ধীর শারীরিক ও মানসিক জড়তা এক রকম নয়। ফলে সেভাবেই নির্দিষ্টজনকে তার আলোকেই বিচার বিশ্লেষণ করে সেবা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে।

‘অভিগম্য আগামীর পথে’ এমন বার্তায় ভবনটিকে সংশ্লিষ্টদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মূলত বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসে এমন বৃহদাকার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসের মূল বার্তাকে প্রধানমন্ত্রী সময়োপযোগী, প্রয়োজনীয় ও একীভূত সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেন। অনগ্রসর, অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও অসহায় এ প্রতিবন্ধীদের মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দেশ ও জনগণের স্বার্থেই জরুরী। শারীরিক এবং মনন দক্ষতায় পিছিয়ে থাকা সমাজের একটা অংশের অগ্রগামিতা সুনিশ্চিত করতে না পারলে সার্বিক সফলতা সেভাবে দৃশ্যমান হবে না। তাই পিছিয়ে পড়া এই অসচেতন গোষ্ঠীকে সচেতন কর্মদক্ষতায় বর্তমান সমাজে বাস করার জন্য পারদর্শী করে তুলতে হবে। তাদের বাদ দিয়ে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত হবে না। সরকার সাধ্যমতো কর্মপরিকল্পনা প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করে তাদের যথার্থভাবে গড়ে তুলতে চাইলেও সার্বিক মূল্যায়নে দেশের সবাইকে এ ব্যাপারে আন্তরিক এবং সহযোগী ও সহনশীল মনোভাব প্রদর্শন করা বাঞ্ছনীয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অনেক সেবামূলক সংস্থারও প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি প্রদান করা দরকার সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে যাওয়াকে নির্বিঘ্ন আর নিরাপদ করতে। প্রতিবন্ধী সন্তানদের প্রতি সমাজের এক ধরনের উপেক্ষা এবং অবজ্ঞার ভাব পরিলক্ষিত হয়। যদিও সব ক্ষেত্রে এমনটা সত্য নয়। তারাও রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ। তাদেরও ইচ্ছা, অনিচ্ছা, অনুভূতি, স্পর্শকাতরতা, মনোসংযোগ- সবই অন্যদের মতো থাকলেও কিছু পার্থক্য তো থেকেই যায় যার কারণে তারা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এমন সব শিশু-কিশোরের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সচেতন দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের সবকিছু বিবেচনা করা সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাদের অন্তর্নিহিত শক্তিতে যে মেধা মনন লুকিয়ে আছে তাকে সযত্ন পরশে বিকাশ ঘটানোর দায় শুধু পরিবারের নয়, সমাজের সব মানুষের। তাদের নাগরিক অধিকার, ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবোধ সব কিছুর ব্যাপারে পাশে দাঁড়ানো মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ তারাও সমাজের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন সূত্রে এক হয়ে আছে। সেই একীভূত সমাজ বিনির্মাণে তাদের সমব্যথী এবং সাথী হতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী। আমাদের প্রতিবন্ধীদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তাদের আগামীর ভবিষ্যত উজ্জ্বল করতে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা একান্ত আবশ্যক।