০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

ভারতের উন্নাওয়েতে ধর্ষণে অভিযুক্তদের আগুনে দগ্ধ তরুণীর মৃত্যু

 ভারতের উন্নাওয়েতে ধর্ষণে অভিযুক্তদের আগুনে দগ্ধ তরুণীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক ॥ ভারতের উত্তর প্রদেশে ধর্ষণ মামলার শুনানিতে যাওয়ার পথে অভিযুক্তদের হাতে দগ্ধ উন্নাওয়ের ওই তরুণীকে বাঁচানো গেল না।

শুক্রবার রাতে দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।

২৩ বছর বয়সী এ তরুণীর শরীরের ৯০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকেই তাকে বিমানে করে দিল্লির সফদারজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ।

চিকিৎসকরা জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে উন্নাওয়ের এ তরুণী হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

“আমরা চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান,” বলেন সফদারজং হাসপাতালের চিকিৎসক ড. শালাব কুমার।

মৃত্যুর আগে পুলিশকে ওই তরুণী তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া ৫ জনেরই নাম বলে যান বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এ ৫ জনের মধ্যে মার্চে তাকে ধর্ষণে অভিযুক্ত দুই জন ও তাদের বাবারাও আছে।

“ভোর ৪টার দিকে রায় বেরিলিতে যাওয়ার ট্রেন ধরতে আমি স্টেশনে যাই। আমার জন্য ওই ৫জন অপেক্ষা করছিল। আমাকে ঘিরে ধরার পর তারা প্রথমে আমার পায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে, ঘাড়ে ছুরি চালায়। এরপর তারা আমার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। যখন আমি চিৎকার শুরু করি, তখন একদল লোক আমাকে উদ্ধার করে, পরে পুলিশকে ডাকা হয়,” হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দেয়া জবানবন্দিতে এমনটাই বলেছিলেন দগ্ধ এ তরুণী।

পুলিশ বলছে, দগ্ধ তরুণী ছুরিকাহত হওয়ার অভিযোগ করলেও চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উন্নাওয়ের এ নারী মার্চে তাকে ধর্ষণে শিভম ত্রিবেদী ও শুভম ত্রিবেদী নামে দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন। এর ভিত্তিতে পুলিশ পরে শিভমকে আটক করলেও শুভম ছিল পলাতক।

আদালতে যাওয়ার পথে তরুণীকে ‘পুড়িয়ে মারার চেষ্টার’ মাত্র ৫দিন আগে শিভম জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন।

মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে দগ্ধ তরুণী তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়াদের মধ্যে শিভম ও শুভম দুইজনই ছিল বলে জানিয়েছেন।

পুলিশ বৃহস্পতিবারই ৫ জনকেই গ্রেফতার করে।

উন্নাওয়ের অন্য একটি ধর্ষণ মামলা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড়ের মধ্যেই ধর্ষণে অভিযোগকারীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার এ ঘটনা ঘটল।

ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এক সাংসদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা এক নারী জুলাইয়ে গাড়িচাপায় গুরুতর আহত হলে পুলিশ হত্যাচেষ্টার অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। গাড়িচাপার ওই ঘটনায় অভিযোগকারীর দুই আত্মীয় নিহত এবং তার আইনজীবী আহত হয়েছিলেন।

তেলেঙ্গানায় ২৭ বছর বয়সী এক নারী পশুচিকিৎসককে হত্যার ঘটনা নিয়েও ভারতজুড়ে এখন তীব্র প্রতিবাদ চলছে। হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে ধারণা পুলিশের।

২০১২ সালে দিল্লিতে বাসে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর থেকে ভারতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন রোধে সরকারি-বেসরকারি নানান পদক্ষেপের পরও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না, বলছে বিবিসি।

কেবল ২০১৭ সালেই দেশটিতে ৩৩ হাজার ৬৫৮টি, গড়ে প্রতিদিন ৯২টি করে ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে বলে সরকারি এক হিসাবে জানানো হয়েছে।