১৯ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাগদাদে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ২৩

বাগদাদে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ২৩

অনলাইন ডেস্ক ॥ ইরাকে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী প্রতিবাদের অন্যতম প্রাণঘাতী দিনে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে রাজধানী বাগদাদে প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থলগুলোতে অজ্ঞাত হামলাকারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়, হামলার মুখে প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন সড়ক ধরে পালিয়ে যায় বলে বিবিসি জানিয়েছে।

বেকারত্ব, দুর্নীতি, অপ্রতুল সরকারি সেবা ও ইরানের প্রভাবে অসন্তুষ্ট নাগরিকরা অক্টোবরের প্রথমদিক থেকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে। তারপর থেকে এ পর্যন্ত চলমান অস্থিরতায় ৪৩০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় সর্বশেষ হামলার বিশৃঙ্খল চিত্র উঠে এসেছে। শুক্রবার রাতে হামলা শুরু হওয়ার পর শনিবার কয়েক প্রহর পর্যন্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করে।

পিক-আপ ট্রাকে করে আসা সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাগদাদের যেসব এলাকাগুলো প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে সেসব এলাকার ভিতর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে হামলা শুরু করে। তাদের গুলি থেকে বাঁচতে আন্দোলনকারীরা এদিক-সেদিক পালাতে শুরু করে।

তাহরির স্কয়ারের নিকটবর্তী সিনাক সেতুতে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়, কাউকে কাউকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

এতে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ ও মেডিকেল সূত্রগুলোর বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৩০ জন।

নিহতদের মধ্যে তিন পুলিশ সদস্যও রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলনকারীরা তাহরির স্কয়ার ও সংলগ্ন তিনটি সেতু দখল করে রেখেছে। ওই সেতু তিনটি দিয়ে ইরাকের রাজনৈতিক কেন্দ্র গ্রিন জোনে যাওয়া যায়।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে শুক্রবার ও শনিবারের হামলাটি চালানো হলো।

এই হামলার জন্য কারা দায়ী তা পরিষ্কার হয়নি। ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হামলাকারীদের ‘অজ্ঞাত ব্যক্তি’ বলা হয়েছে।

শনিবার আরেক ঘটনায় দেশটির প্রভাবশালী শিয়া ইমাম মোকতাদা আল সদরের বাড়িতে ড্রোন থেকে রকেট হামলা চালানো হয়েছে বলে তার দল সারুনের এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন। হামলার সময় সদর বাড়িতে ছিলেন না, বিদেশে ছিলেন।

এ হামলায় বস্তুগত কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী মাহদি পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়েনি। তারা দেশটির রাজনৈতিক পদ্ধতির সম্পূর্ণ পরিবর্তন চায়। এ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা।