২৮ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলাপাড়া পৌরবাসীর প্রাণখ্যাত খালটি এখন আবর্জনার ভাগাড়

কলাপাড়া পৌরবাসীর প্রাণখ্যাত খালটি এখন আবর্জনার ভাগাড়

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী ॥ কলাপাড়া পৌরশহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া একমাত্র খালটি দিয়ে এখন পানি চলাচলের বন্ধের উপক্রম হয়েছে। শহরবাসী খালটিকে দখল করে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিনত করেছে। জোয়ারের সময় স্লুইসগেট থেকে কিছু পানি চলাচল করছে। কিন্তু ভাঁটার সময় ময়লা আবর্জনায় পানির প্রবাহ থাকেনা। স্লুইস সংযুক্ত এখালটি রক্ষায় কিংবা বাঁচিয়ে রাখতে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ দুই দফা পুনর্খননের কাজ করেছে। যা ছিল নামকাওয়াস্তে। ফলে খালটি এখন হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শহরটি মানুষের বাস উপযোগীতা হারানোর শঙ্কায় পড়েছে।

পৌরশহরের স্লুইস সংযুক্ত এ খালটি শহরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চিঙ্গরিয়া, কবি নজরুল ইসলাম সড়ক ও রহমতপুর মহল্লার চইয়াপাড়ায় শেষ হয়েছে। ওখান দিয়ে একটি স্লুইসগেট ছিল। তা বহু আগেই দখল করে, বন্ধ করে স্লুইস গেটের ওপর স্থাপনা করা হয়েছে। এরপরে দীর্ঘ অন্তত পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ তিনদিকে প্রবাহিত খালটি দিয়ে পৌরসভার পানি ওঠানামা করে। শহরের জলাবদ্ধতা দুর হয়। টিয়াখালীর একাংশের পানিও এখালটি দিয়ে ওঠানামা করছে। বছরখানেক আগে খালটির এতিমখানা কালভার্ট থেকে রহমতপুর পর্যন্ত প্রায় ৮০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। যা নিয়ে পৌরবাসীর এন্তার অভিযোগ রয়েছে। পৌরবাসীর দাবি আগে খালটির সীমানা নির্ধারণ করা হোক, তারপরে তালিকা করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হোক। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভার একমাত্র খালটি পৌরবাসীর প্রাণের স্পন্দন। কারণ এই খালটি পৌরবাসী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যবহার করছে। জলাবদ্ধতা দুর করছে। কিন্তু অসচেতনতার কারণে এবং খালটির দুই পাড় ঘেঁষে স্থাপনা তোলায় খালটি মরে গেছে। ভাঁটার সময় ময়লা-আবর্জনায় একাকার থাকায় পানি চলাচল করতে পারছে না। বর্তমানে খালটিতে যেটুকু পানি রয়েছে তা ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধে একাকার হয়ে গেছে। পৌরবাসীর অভিযোগ মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে এ খালটি। কয়েকটি স্পটে আবার খালকে চাষযোগ্য কৃষিজমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ডাবের খোসা, যত ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রীসহ বাসাবাড়ির বর্জ্য রয়েছে তা খালে ফেলা হচ্ছে। শত স্পটে স্তুপ অবস্থায় বর্জ্য পড়ে আছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এসব অপসারনে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো অভিযোগ রয়েছে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরাও ময়লা আবর্জনা ফেলছে এ খালটিতে। আখড়াবাড়ি স্পট দিয়ে এসব কর্মীরা ময়লা ফেলছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতিমখানা কালভার্ট পয়েন্টে হোটেল-রেস্তরা, বাসাবাড়ির ময়লা-আর্জনা ফেলায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে থাকছে। এমনকি শত শত বাসা-বাড়ির টয়লেটের আউটলাইনের সরাসরি সংযোগ দেয়া আছে খালটিতে। খালের মধ্যে টয়লেট পর্যন্ত তোলা রয়েছে। কবি নজরুল ইসলাম সড়ক থেকে এখালটির রহমতপুর পর্যন্ত অংশের অবস্থা চরম বেহাল। বর্জ্যরে কারণে পানি পচে কালো কুচকুচে রঙ হয়ে আছে। খালের মাঝখান পর্যন্ত দখল করে স্থাপনা করা হয়েছে। এখালটির সঙ্গে আন্ধারমানিক নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থলের স্লুইস গেটের মুখ পর্যন্ত বিভিন্ন ভাসমান প্লাস্টিকে একাকার হয়ে আছে। স্লইসের উইং ওয়ালসহ সব দখল করে তোলা হয়েছে স্থাপনা। পৌরপ্রশাসন, ভূমি প্রশাসন কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ড কেউ এনিয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে পৌরবাসীর বসবাস উপযোগীতা থাকবেনা এখালটি বন্ধ হয়ে গেলে। সকল বিভাগের বক্তব্যের ধরন একই। পৌরবাসীকে সচেতন হতে হবে। দখলদার উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।