১৯ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রমজানের প্রস্তুতি নিন

সরকারের নানামুখী আন্তরিক উদ্যোগ-আয়োজন সত্ত্বেও বাজার পরিস্থিতি যে আপাতত স্বাভাবিক নয়, তা স্বীকার করতে হবে। আর এর জন্য প্রধানত দায়ী এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, আড়তদারসহ পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। তারা এই অসৎ পথটি অবলম্বন করা শুরু করেছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বুলবুলের পর থেকেই। যদিও সেই দুর্যোগে দেশের ক্ষয়ক্ষতি ও ফসলহানি হয়নি তেমন। প্রাকৃতিক দুর্বিপাকে পড়ে ভারত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার পরপরই শুরু হয় ব্যবসায়ীদের নানা অপকর্ম তথা কারসাজি। দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে লাফিয়ে লাফিয়ে, এক পর্যায়ে যা চলে যায় সাধারণের নাগালের বাইরে। এ বিষয়ে আমদানিকারক ও বিক্রেতারা যে ব্যাখ্যাই দেন না কেন, শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ মাত্র ৪০ টাকায় আমদানি করে খুচরা বাজারে তা ২৩০ টাকায় বিক্রি কোনভাবেই গ্রহণীয় হতে পারে না। পরিস্থিতি বিবেচনায় খাদ্যমন্ত্রীও বলতে বাধ্য হয়েছেন যে, পেঁয়াজের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই অজুহাতে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে চাল, ময়দা, আটা, ভোজ্য তেল, লবণসহ ১৮টি নিত্যপণ্যের দাম।

সপ্তাহের ব্যবধানে কোন কারণ ছাড়াই মোটা চালের দাম প্রতিকেজিতে বেড়েছে দুই থেকে পাঁচ টাকা। এর পাশাপাশি অস্থির হয়ে উঠেছে অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজার। এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে বলে মনে করেন ক্রেতারা। দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক অজুহাত দিচ্ছেন। রমজান আসতে কয়েক মাস বাকি। অথচ ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, ছোলা, ডাল ও গুঁড়া দুধের দামের পারদ ক্রমশ উঠছে উপরে। আটা-ময়দার পাশাপাশি চালের বাজারেও অস্থিরতা। এর অনিবার্য প্রভাব পড়েছে শাক-সবজির বাজারেও। সর্বাধিক উল্লম্ফন পরিলক্ষিত হচ্ছে পেঁয়াজের দামে। দামের অনিবার্য প্রভাব পড়েছে মাছ, মাংস ডিম ও দুধের বাজারেও। অথচ বাস্তবতা হলো আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। এ থেকে যা বোধগম্য তা হলো, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে প্রায় অবাধে সুযোগ নিতে চাচ্ছেন ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকসহ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। জনগণ বহুল উচ্চারিত এই সিন্ডিকেটের সামনে অনেকটা অসহায়, প্রায় জিম্মি হয়ে পড়েছে। কোন কারণ ছাড়াই ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। জাত ও মান ভেদে সব রকম ডালের দাম বেড়েছে। গুজবের কারণে বেড়েছে লবণের দাম। লবণের এই আকস্মিক কয়েকগুণ মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেয়া যায় না কিছুতেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে মাঠে নামতে হয়েছে। কেন অযৌক্তিকভাবে এসব পণ্যের দাম বাড়ছে, তার কারণ অনুসন্ধান করে দেখতে হবে সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির নানা কারণের মধ্যে অন্যতম দুর্বল বাজার মনিটরিং, অসাধু আমদানিকারক, উৎপাদক, পরিবেশক, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, প্রায় অকার্যকর টিসিবি, সর্বোপরি ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে আদৌ কোন সমন্বয় না থাকা। যে কারণে ভোক্তা ও ক্রেতাস্বার্থ অধিকার এবং সংরক্ষণ বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। সিন্ডিকেট তথা মুুষ্টিমেয় ব্যবসায়ী চক্রের বাজার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফা লুটে নেয়ার কথা প্রায়ই উচ্চারিত হয়। সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হতে হবে বাজার মনিটরিং ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে। সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা, আসন্ন রমজানে যেন নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে তাদের অহেতুক বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে না হয়। টিসিবির ট্রাকের পেছনে নায্যমূল্যে পেঁয়াজের জন্য এক দঙ্গল ভোক্তার শ্বাসরুদ্ধকর ধাবমান দৃশ্য আমরা আর দেখতে চাই না। পবিত্র রমজানে মানুষ স্বস্তি চায়, শান্তি চায়।