২২ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদা জিয়ার অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক ॥ রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুচিকিৎসার অভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রবিবার বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচী অনুসারে রবিবার রাজধানীসহ অধিকাংশ এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করতে বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে না নামলেও একই দাবিতে আবারও আগামীকাল মঙ্গলবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। কর্মসূচী ঘোষণার সময় তিনি অভিযোগ করেন, রবিবার সারাদেশে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বাধা দিয়েছে। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর সরাফত আলী সপু, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

রিজভী বলেন, এই মুহূর্তে কারামুক্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণ না করলে খালেদা জিয়ার জীবনহানির ঝুঁকি রয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার পারিষদবর্গ খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা নিয়ে রীতিমতো রসিকতা করছেন। সরকার চায় খালেদা জিয়ার জামিন যেন না হয়। তাই আমরা খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে তার ভাই-বোন-স্বজনরা সাক্ষাত করার আবেদন করলেও কারাকর্তৃপক্ষ অনুমতি দিচ্ছেন না। ২৫ দিন হলো তার সঙ্গে তার স্বজনরা সাক্ষাত করতে পারছেন না। ১৩ নবেম্বরের পর আর সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। ফলে খালেদা জিয়াকে নিয়ে আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি। একজন বন্দীর সঙ্গে স্বজনদের দেখা করতে না দেয়া চরম মানসিক নিপীড়ন। পৃথিবীর কোন স্বৈরতান্ত্রিক দেশেও বন্দীদের সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করা হয় না, যা করা হচ্ছে খালেদা জিয়ার সঙ্গে।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সাক্ষাতের জন্য বারবার আবেদন করার পরেও কারাকর্তৃপক্ষ তাতে কোন কর্ণপাতই করেননি। কারাবিধি অনুযায়ী ৭ দিন পরপর বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাতের নিয়ম। অথচ খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এই বিধান করা হলো ১৫ দিন পরপর। এখন সেই ১৫ দিনের বিধানকেও সরকারের নির্দেশে কারাকর্তৃপক্ষ অগ্রাহ্য করছেন কারাবিধি লংঘন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার সকল ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত করছে। এই মানসিক নির্যাতনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে বিএনপিকে দুর্বল ও বিপন্ন করা। সরকারের এই অমানবিক আচরণে দেশের জনগণ ক্ষুব্ধ। এ নিয়ে শুধু তার আত্মীয়-স্বজনরাই নয়, দেশ-বিদেশের মানুষ উৎকণ্ঠিত। তাই অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার আত্মীয়-স্বজনদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

রিজভী বলেন, সরকারের কারসাজিতেই খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম, নিম্ন আদালতে বিচারের নামে খালেদা জিয়া অবিচারের শিকার হলেও উচ্চ আদালতে তিনি সুবিচার পাবেন। আমরা বিশ্বাস করতে চেয়েছিলাম, উচ্চ আদালতের বিচারকরা দেশের সংবিধান, আইন সর্বোপরি নিজেদের বিবেকের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন। জনগণ যেন হতাশ না হয় সেদিকে উচ্চ আদালতের সম্মানিত বিচারকরা খেয়াল রাখবেন। তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের মতো নয়, বরং উচ্চ আদালতকে ন্যায়বিচার অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে, তা না হলে সরকার খালেদা জিয়ার জামিনে বাধা দিতে সর্বশক্তি নিয়োগ করবে। খালেদা জিয়া যেন বারবার অবিচারের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব উচ্চ আদালতের।

রিজভী বলেন, আইনগত এবং মানবিক সবদিক থেকেই খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন। অথচ দেশের জনগণ দেখছে নানা অজুহাতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন পেতে নানারকমের বাধা দেয়া হচ্ছে। তাকে বাঁচাতে হলে এখনই জামিন ও সুচিকিৎসা দরকার। তাই আমরা জনগণের পক্ষ থেকে সরকারকে বলতে চাই খালেদা জিয়ার জামিনে কোন বাধা দিবেন না। মানুষের ক্ষোভ ও বঞ্চনা সংহত করে তা আন্দোলনে রূপদান করতে জনগণ রাজপথে নামতে শুরু করেছে। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক ময়দানে পরাভূত করতে না পেরে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে একটি মামলায় ৬৬৯ দিন হলো কারারুদ্ধ করে রেখেছে সরকার।

রিজভী বলেন, আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে পাটকল শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদের পোষ্যদের নিয়ে স্ব স্ব মিলগেটে আমরণ অনশন কর্মসূচীতে যাচ্ছে শ্রমিকরা। অবিলম্বে শ্রমিকদের সকল দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বিএনপি। জনগণের আস্থার দল হিসেবে বিএনপির শ্রমিকদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

নির্বাচিত সংবাদ