২২ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন

উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভায় স্বীকৃত এবং রোল মডেল। কৃষি অর্থনীতির দেশটি আজ উন্নত শিল্প প্রযুক্তির অভিগমনেও সমান পারদর্শিতা প্রদর্শন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকারে ‘আমার শহর আমার গ্রাম’-এর মূল বার্তায় যা প্রতিধ্বনিত হয়েছে সেখানে যেতে বহু কর্মপরিকল্পনাকে আমলে নেয়া হচ্ছে। মেগা প্রকল্পের অনুমোদনসহ বাস্তবায়ন কর্মসূচীও সমান তালে এগিয়ে চলেছে। উন্নত সমৃদ্ধ শহরাঞ্চলের সঙ্গে সমানভাবে এগিয়ে নেয়া হবে অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া কৃষিনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতিকে। সারাদেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে অবকাঠামোগত হরেক রকম কার্যপরিধি। সেতু, কালভার্ট, গ্রামীণ সরু রাস্তার আধুনিক সংস্করণ থেকে পল্লী জনপদকে উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার বাস্তব কর্মসূচী প্রণয়ন করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেখানে আধুনিকতার বিস্তীর্ণ বলয়ে নতুন বাংলাদেশের পথযাত্রায় পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ জনপথকে বর্তমান সময়ের উপযোগী করে তুলতে হবে।

সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অবকাঠামোর যে নবদিগন্ত, সেখানে গ্রাম বাংলার বিভিন্ন সরু সড়ককে নতুন মাত্রা দিয়ে সমৃদ্ধির শীর্ষ পর্যায়ে নেয়া হবে। আমূল পরিবর্তন আনা হবে এতদিন ধরে চলে আসা প্রচলিত সড়ক ব্যবস্থাপনায়। পুরো পরিকল্পনায় নির্ধারণ হয়েছে চার লেন সড়ক নির্মাণের। ইতোমধ্যে পল্লী অঞ্চলগুলোতে শিল্প-কারখানা স্থাপন থেকে শুরু করে বিদ্যুত ও গ্যাসের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সূচনা করা হয়েছে। সেখানে আরও অগ্রসরমান কর্মযোগে গ্রামের তিন লাখ ৫৪ হাজার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাঠামোকে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা হবে। আঁকাবাঁকা রাস্তাকে সোজাভাবে তৈরি করে সড়কের মূল চেহারায় নতুন মাত্রা যোগ করা হবে। আধুনিক ও উন্নত নক্সাকে সামনে রেখে গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থাপনার মৌলিক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরী। উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবে। যাতে নির্দিষ্ট অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকা- নির্বিঘœভাবে এগিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অনুমোদিত কর্ম প্রকল্পগুলো যথার্থভাবে নজরদারিতে রাখবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের স্থানীয় প্রশাসন। বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করার পরিকল্পনায় স্থানীয় স্থল ও নৌবন্দরও নতুনভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। অসংখ্য ইটভাঁটিতে গ্রামীণ সড়কে যানবাহন চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। সেখানে আধুনিক পরিকল্পনা সংযোজন করা দেশের ও জনগণের কল্যাণে অত্যন্ত জরুরী। বর্তমান সরকার সারাদেশে যে উন্নয়নের জোয়ার এনেছে, গ্রাম বাংলার পশ্চাৎপদ ও অবহেলিত জনপদকে তার অংশীদার হতে সব ধরনের কর্মপ্রক্রিয়া একীভূত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

নগরায়নের স্বপ্নের দুয়ারে পৌঁছাতে গেলে গ্রামকেও শহরের সমমর্যাদায় এগিয়ে নিতে হবে প্রয়োজনীয় সমস্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে। বাস্তবায়ন করতে হবে শহর-গ্রামের সমচিত্র ও নৈকট্য।

নির্বাচিত সংবাদ