২৮ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৃত্যুর পর দাফন করার স্থানও রইলোনা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার

মৃত্যুর পর দাফন করার স্থানও রইলোনা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ মৃত্যুর পর দাফন করার স্থানও রইলোনা রণাঙ্গন কাঁপানো যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খানের। দীর্ঘদিন পূর্বে ভূমিহীন এ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে বসবাসের জন্য একখন্ড জমি লিখে দিয়েছিলেন এক প্রতিবেশী সংবাদকর্মী। নানারোগে আক্রান্ত হওয়ার পর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষ সম্বল সেই জমিটুকুও বিক্রি করে দিয়েছে তার অসহায় পরিবার।

তার পরেও অর্থাভাবে সু-চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি ইসমাইল খানের। বর্তমানে বিনাচিকিৎসায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে থাকা শষ্যাশয়ী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খানের মৃত্যুর পর কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়েও চিন্তিত তার অসহায় পরিবার। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠী গ্রামের মৃত গঞ্জর আলী খানের পুত্র ইসমাইল খান। বর্তমানে নানারোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসাসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র পুত্র জামাল খান রাজমিস্ত্রির সহযোগি হিসেবে কাজ তরে কোন একমতে সাত সদস্যর পরিবারের ভরন পোষন করছেন, যেমন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা।

জামাল খান জানান, সম্প্রতি সময়ে তার বাবা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের একমাত্র সম্ভল বসত ভিটে বিক্রি করে তারা আরও নিঃস্ব হয়ে পরেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার উন্নত চিকিৎসা করাতে আরও প্রায় পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ টাকা যোগার করা তাদের অসহায় পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পরেছে।

সম্মুখ যুদ্ধে গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত আঘাত নিয়ে শষ্যাশয়ী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেইদিনের পাকবাহিনীর দোসররা আজও এ দেশের মাটিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে এটাই বড় কস্ট। আর ওইসব দোসরদের কারণেই আমার জীবনটা আজ বিপন্ন। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সূত্রমতে, দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধাহত জাতীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূমিহীন মোঃ ইসমাইল খানের (৭০) নাম সরকারের মুক্তিবার্তা নং (লাল বই)-০৬০১১০০২৫৪, যুদ্ধাহত গেজেট নং-১৫০১, মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নং-৩৪২৩, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং-১৩৫২৫ অর্ন্তভূক্ত হয়ে শুরু থেকেই তিনি (ইসমাইল খান) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সম্মানি ভাতা পেয়ে সাত সদস্যর পরিবার নিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন। একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রনে তিনি অসংখ্যবার জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণও করেছেন।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান বলেন, স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতারা ২০১৫ সালের প্রথমার্ধে আমাকে বিএনপিতে যোগদানের জন্য চাঁপ সৃষ্টি করে। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত ঘরোয়া মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে আমাকে ভূয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আখ্যায়িত করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্টসহ বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ফলে মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে অদ্যবর্ধি আমার (ইসমাইল খান) ভাতা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ কারণেই পরিবার পরিজন নিয়ে নানারোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে থাকা ইসমাইল খান এখন চরম অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ইসমাইল খান বলেন, প্রতিটি দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যুদ্ধকালীন কমান্ডার, সহযোদ্ধা ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করার পর আমার পক্ষে রায় দেয়া হয়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনেও ভাতা চালু না হওয়ায় আমি (ইসমাইল খান) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি’র সাথে সরাসরি দুইবার সাক্ষাত করি। দুইবারই মন্ত্রী আমার আবেদনের যাচাই করে জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করেন। মন্ত্রীর নির্দেশের পরেও মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ট্রাষ্ট থেকে আমার বন্ধ ভাতা আজো চালু করা হয়নি। মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণ কাঁপানো শষ্যাশয়ী অসহায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান সাময়িকভাবে তার বন্ধ ভাতা চালু করাসহ সু-চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।