২৬ জানুয়ারী ২০২০  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিঠা পানি সংরক্ষণ না করলে ফসলের আবাদ ভেস্তে যাবে

মিঠা পানি সংরক্ষণ না করলে ফসলের আবাদ ভেস্তে যাবে

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী ॥ সবজির গ্রামখ্যাত কুমিরমারা, এলেমপুর, মজিদপুরসহ পাঁচটি গ্রামের চাষীদের মিঠাপানি সংরক্ষণের একমাত্র পাখিমারা খালটি। নীলগঞ্জের এখালের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে যুগীর স্লুইসের। দুই ভেন্টের এ স্লুইসটির অগ্রভাগে এখন কৃষকরা লোনা পানির প্রবেশ ঠেকাতে মাটির বাঁধ দিচ্ছেন। প্রাকৃতিকভাবে উপকূলীয় কলাপাড়ার জনপদের সাগর নদীর পানি লবনাক্ত হয়ে ওঠে। যে কারণে লোনা পানির প্রবেশ ঠেকাতে স্লুইস গেটের সামনে বাঁধ দিতে হয়। ফলে অভ্যন্তরের খালের মিঠা পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। এ পানি কৃষকরা শীতকালীন সবজি ছাড়াও বোরো ধানের আবাদ করে থাকে। কুমিরমারা গ্রামের কৃষক সুলতান গাজী জানান, কার্তিক মাসে পানি লোনা হয়, থাকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত। এরপরে আবার পানি মিঠা হয়ে যায়। এ কৃষক জানান, প্রতি বছরের মতো এবছরও তাদের নিজকাটা, নবীপুর ও টুঙ্গিবাড়িয়ার স্লূইসের সামনে বাঁধ দেয়া লাগবে। তারা চাঁদা তুলে বাঁধ দিয়ে আসছেন। তবে ইউএনও মো. মুনিবুর রহমান তাদের কিছু টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন। বালিয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবির জানান, অন্ততপক্ষে তার এলাকার আমতলীর স্লুইস, পক্ষিয়াপাড়া ও উত্তর পক্ষিয়াপাড়ার স্লুইসখালের অগ্রভাগে বাঁধ দেয়া প্রয়োজন। লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, তিনি নিজের অর্থায়নে কৃষকের স্বার্থে পাঁচটি স্ল্ইুসখালের অগ্রভাগে বাঁধ দিয়েছেন। এখনও খাজুরা, মাইটভাঙ্গা ও লক্ষ্মীর স্লুইস খালের অগ্রভাগে লোনা পানির প্রবেশ ঠেকাতে বাঁধ দেয়া প্রয়োজন। এভাবে দুইটি পৌরসভাসহ ১২ টি ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি স্লুইস সংযুক্ত খালের অগ্রভাগে বাঁধ দিয়ে লোনা পানির প্রবেশ ঠেকানো জরুরি প্রয়োজন। নইলে রবিশস্য আবাদসহ বোরোর আবাদ ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, কৃষকের স্বার্থে যেসব স্লুইস সংযুক্ত খালে মিঠা পানির সংরক্ষণ করা দরকার তার একটি তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুনিবুর রহমান জানান, কৃষকের স্বার্থে মিঠা পানি সংরক্ষণে সকল ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠণ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোঃ ওয়ালিউজ্জামান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধুমাত্র স্লুইস রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। এছাড়া বেড়িবাঁধ রক্ষণাবেক্ষনের কাজ করে আসছে। বাঁধ দেয়ার সুযোগ নেই।

নির্বাচিত সংবাদ